somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলুন একটা শিক্ষা নেয়া যাক

১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বল্টু সিদ্ধান্ত নিলো ছাদ থেকে ঝাপ দিবে। কারনটা একটাই সে আত্নহত্যা করবে। তো যাইহোক সে একটা ছাদের উপর উঠলো। ছাদটা দিলো ৪ তলা সমান উচু। সেই ছাদের উপর থেকে সেখানে কিছু সাংবাদিক, কিছু ফটোগ্রাফার , কিছু লেখক আর বল্টুর কিছু বন্ধু উপস্থিত ছিলো। বল্টু যখন ঝাপ মারবে তখন এক সাংবাদিক যেয়ে তাকে আটকালো। যেয়ে শুনতে চাইলো সে কেনো আত্নহত্যা করবে আর আত্নহত্যা করবে আর ঝাপ মারার আগে তার ফিলিংসটা কি? সাংবাদিককে সরিয়ে দিয়ে ফটোগ্রাফারদের একজন এসে বললো এদিক থেকে ঝাপ দিয়েন না ফোকাসিং ভালো হবে না। ফ্রন্ট সাইটে আমরা লাইটিং করে রেখেছি আপনি ওই দিক থেকে ঝাপ দিয়েন না তাহলে আপনার মুখ কেউ চিনতে পারবে না। আর দূর থেকে একজন কবি বন্টুর অংগভঙ্গি দেখে তার মনের ভেতর যে ফিলিংসটা কাজ করছে সেটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে। আর সেটা দেখে তার লেখনির হাত জেগে উঠেছে। এখন বল্টুর ঝাপ মারার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন আর কেউ তার মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রতিটা টেলিভিশন অনুষ্ঠানটা চ্যানেল সেটা লাইভ দেখানো শুরু করেছে। উপস্থিত জনতার ভেতর মানবিক দায়িত্ববোধ জেগে উঠলে তারা এম্বুলেন্সকে খবর দিয়ে রাখে।

"বল্টু ঝাপ দিলো আর তাকে এম্বুলেন্সে তোলা হলো। হাসপাতাল হলো ৪ মিনিটের পথ। তার বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো আর ডাক্তার রোগীকে দেখে বললো আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন আধা ঘন্টা আগে আনলে রোগিকে বাচানো যেতো। বল্টু মারা গেলো।"

টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজঃ ছাদ থেকে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যা করলো বল্টু।টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার পরও বাংলাদেশ পুলিশ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিলে তাকে আর কোন বল্টুর অকালে জীবন হারাতে হবে না।

পত্রিকার শিরোনামঃ বল্টু মৃত্যু সরকারের ব্যার্থতাঃ বিরোধী দলীয় নেত্রী।

পত্রিকার শিরোনামঃ বল্টুর মৃত্যু বিরোধীদলীয় চক্রান্তের শিকার।

পত্রিকার শিরোনামঃ দেখার কেউ নেই। অকালে প্রান হারাচ্ছে বল্টুরা।

পত্রিকার শিরোনামঃ বল্টুর মৃত্যুতে মানববন্ধন।

পত্রিকার শিরোনামঃ বল্টুর আত্নহত্যা সংবিধানিক ভাবে হয়েছে।

কিছু দুর্লভ কালেকশনের জন্য ফটোগ্রাফার পল্টু ২০১৫ তে সেরা ফটোগ্রাফার নির্বাচিত।(বল্টুর মৃত্যুর সময় উপস্থিত ফটোগ্রাফারদের একজন)।

বল্টুর মৃত্যু নিয়ে অনেকে অনেক কলাম ও রচনা রচিত করে বিখ্যাত হতে গেছেন। বর্ষ সেরা লেখক মদন ২০১৬ তে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

উপস্থিত বল্টুর বন্ধুরা সকলে ফেসবুক প্রফোইলে পিক চেঞ্জ করলো যাতে লেখা "আমার বন্ধু বল্টুর মৃত্যুর দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চায়। পরে তারা ফেসবুকীয় সেলিব্রেটি হয়ে গেলো।

যেই বল্টুর জন্য আজ সবাই সেলিব্রেটি হতে পেরেছে সে আজও বল্টুই থেকে থেকে গেলো। সে বল্টুটা যে কে সেটা কেউ জানে না। কিন্তু ততদিনে পৃথিবী মহত্বে ছেয়ে গেছে।

মোরালঃ এক ফকির একদিন ১০ টাকা
দিয়ে একটি লটারি কিনলো ৷
কিছুদিন পর এই লটারি থেকে
সে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার জিতলো ৷

এক মাস পর ঐ ফকিরটি এবার একটি
সোনার থালা নিয়ে ভিক্ষা করতে
বের হল ৷

মোরালঃ কয়লার ময়লা যাই না ধুলে মানুষের স্বভাব যাই না মরলে।

মোরালঃ আপনার দুর্দিনে আমি পাশে আছি মানে আমি আপনার দুর্দিনের অপেক্ষায় ছিলাম আপনার দুর্দিন আসলে নিজেকে মহৎ প্রমানের একটা সুযোগ পাবো।

মোরালঃ আপনি তো মরবেন ই আমাকে বিখ্যাত করে মরুন, সমস্যা কি?

মোরালঃ প্রকৃত বন্ধু কখনও সেলিব্রেটি বা ম্যাচিউড হয় না।

মোরালঃ ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।

মোরালঃ কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যেখান শান্ত্বনা হলো জ্বলন্ত কয়লা ফু দিয়ে নেভানোর চেস্টা করার মতো।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×