somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বীরপুরুষ দেখতে কেমন?

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন বীরপুরুষ দেখতে কেমন? অথবা একজন বাস্তব জীবনের নায়ক দেখতে কার মতো হয়???

তারা কি আমাদের সিনেমার নায়ক টম ক্রুজ, সালমান, আমিরের মতো সুন্দর চেহারা কিম্বা তাদের মতো মাসলম্যান অথাবা পোশাকে কেতাদুরস্ত হয়??

উত্তর সবসময় 'হ্যা' না হবার সম্ভাবনাই বেশী। তবে তারা যেখানে অন্যরকম তা প্রকাশ করার সুযোগ হয় না। অথবা তারা তা প্রকাশ করতেও চান না। মনের দিক থেকে, চিন্তার দিক থেকে তারা অনেক উন্নত। আর এজন্যেই তারা হিরো!! বীরপুরুষ। আমরা তাদের মনে রাখি কিম্বা নাই বা রাখি, তাদের বীরত্বকথা ইতিহাসের কোথাও না কোথাও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রবেই।

একজন বাদল দেখিয়ে দিয়েছে, প্রমান দিচ্ছে সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও এর লোক বাদল মিয়া চাকুরী করেন বাংলাদের রেলওয়েতে ট্যাকনিকাল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে। গত কাল কূড়িল বিশ্বরোড রেল ক্রসিং এ দায়িত্বপালন করছিলেন। এই রেল ক্রসিং হলো এক সাক্ষাত মৃত্যু ফাঁদ। দুদিকেই কার্ভ হওয়াতে রেলগাড়ি খুব কাছে না আসা পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় না। ওভার ব্রিজ থাকার পরেও মানুষ কষ্ট বাঁচাতে অসেচতনতার প্রমান দিয়ে নীচ দিয়ে রেললাইন এর উপর দিয়েই পার হয়ে যায়।

সেদিন রেলগাড়ি আসছে, এক মা তার সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন অতিক্রম করছিলো। রেলগাড়ি খুব কাছে চলে এসেছে। কেউ একজন লাইনের মাঝে পরে যাওয়া মাকে টান দিয়ে সড়িয়ে নিয়েছে কিন্তু মার হাত থেকে তার বাচ্চার হাত ছুটে যাওয়ায় শিশুটি রেললাইনের উপরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। খুব কাছে থাকা এই বাদল বাদলের মতোই ছুটে এসে শিশুটিকে রেললাইন পাড় করিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু!!!
বাদল পারেননি নিজেকে রেললাইন থেকে সড়িয়ে নিতে! শিশুটিকে বাঁচিয়ে দিয়ে বাদল নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন রেলগাড়ির নীচে।

রেলের লোহার চাকা হয়তো পেরেছে এক বাদলকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে কিন্তু এই কঠিন চাকাও কি পেরেছে একজন সত্যিকার মানুষের হৃদয়কে হারিয়ে দিতে? এই ছোট্ট নরম হৃদয় আবারো প্রমান করলো মানুষের অসাধ্য কিচ্ছু নেই। নিজেকে বিলিয়ে দিয়েও বাচিয়ে গেলো ছোট্ট এক অবুঝ শিশুকে।

তার কিছুটা আধোয়া শার্ট অথবা চোখের সস্তা সানগ্লাস আর যাই বলুক! কখনো পারবেনা হারিয়ে দিতে ভিতরে থাকা বিশাল মানুষটাকে। চেহারা, মাসল কিম্বা পোশাক কোনটাই দরকার নেই হিরো হবার জন্য। দরকার একটা সাহসী মন।

তার পরিবার, পাঁচ ছেলে তিন মেয়ের কি হবে এখন? আশাকরি সরকার তাদের সুবন্দোবস্ত করবে।

বাদল আপনিই বাংলার হিরো, আপনাকে নিয়ে সিনেমা নাই বা হলো আপনি নিজেই এক সিনেমা হয়েই রবেন।

তারা কি আমাদের সিনেমার নায়ক টম ক্রুজ, সালমান, আমিরের মতো সুন্দর চেহারা কিম্বা তাদের মতো মাসলম্যান অথাবা পোশাকে কেতাদুরস্ত হয়??

উত্তর সবসময় 'হ্যা' না হবার সম্ভাবনাই বেশী। তবে তারা যেখানে অন্যরকম তা প্রকাশ করার সুযোগ হয় না। অথবা তারা তা প্রকাশ করতেও চান না। মনের দিক থেকে, চিন্তার দিক থেকে তারা অনেক উন্নত। আর এজন্যেই তারা হিরো!! বীরপুরুষ। আমরা তাদের মনে রাখি কিম্বা নাই বা রাখি, তাদের বীরত্বকথা ইতিহাসের কোথাও না কোথাও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রবেই।

একজন বাদল দেখিয়ে দিয়েছে, প্রমান দিচ্ছে সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও এর লোক বাদল মিয়া চাকুরী করেন বাংলাদের রেলওয়েতে ট্যাকনিকাল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে। গত কাল কূড়িল বিশ্বরোড রেল ক্রসিং এ দায়িত্বপালন করছিলেন। এই রেল ক্রসিং হলো এক সাক্ষাত মৃত্যু ফাঁদ। দুদিকেই কার্ভ হওয়াতে রেলগাড়ি খুব কাছে না আসা পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় না। ওভার ব্রিজ থাকার পরেও মানুষ কষ্ট বাঁচাতে অসেচতনতার প্রমান দিয়ে নীচ দিয়ে রেললাইন এর উপর দিয়েই পার হয়ে যায়।

সেদিন রেলগাড়ি আসছে, এক মা তার সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন অতিক্রম করছিলো। রেলগাড়ি খুব কাছে চলে এসেছে। কেউ একজন লাইনের মাঝে পরে যাওয়া মাকে টান দিয়ে সড়িয়ে নিয়েছে কিন্তু মার হাত থেকে তার বাচ্চার হাত ছুটে যাওয়ায় শিশুটি রেললাইনের উপরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। খুব কাছে থাকা এই বাদল বাদলের মতোই ছুটে এসে শিশুটিকে রেললাইন পাড় করিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু!!!
বাদল পারেননি নিজেকে রেললাইন থেকে সড়িয়ে নিতে! শিশুটিকে বাঁচিয়ে দিয়ে বাদল নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন রেলগাড়ির নীচে।

রেলের লোহার চাকা হয়তো পেরেছে এক বাদলকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে কিন্তু এই লোহার চাকাও কি পেরেছে একজন সত্যিকার মানুষের হৃদয়কে হারিয়ে দিতে? এই ছোট্ট নরম হৃদয় আবারো প্রমান করলো মানুষের অসাধ্য কিচ্ছু নেই। নিজেকে বিলিয়ে দিয়েও বাচিয়ে গেলো ছোট্ট এক অবুঝ শিশুকে।

তার কিছুটা আধোয়া শার্ট অথবা চোখের সস্তা সানগ্লাস আর যাই বলুক! কখনো পারবেনা হারিয়ে দিতে ভিতরে থাকা বিশাল মানুষটাকে। চেহারা, মাসল কিম্বা পোশাক কোনটাই দরকার নেই হিরো হবার জন্য। দরকার একটা সাহসী মন।

তার পরিবার, পাঁচ ছেলে তিন মেয়ের কি হবে এখন? আশাকরি সরকার তাদের সুবন্দোবস্ত করবে।

বাদল আপনিই বাংলার হিরো, আপনাকে নিয়ে সিনেমা নাই বা হলো আপনি নিজেই এক সিনেমা হয়েই রবেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×