'বিশ্ববিদ্যালয়ে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করে উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের পায়তারা করছে একটি মহল। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে অচিরেই আমাদের শিক্ষার্থীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। ধ্বংস হয়ে যাবে শিক্ষা ব্যবস্থা।' আজ সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান এসক কথা বলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিভাগে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের হিড়িক পড়েছিল কিছুদিন আগে। এই সময়ের মাঝে প্রায় শতাধিক শিক্ষক নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এর মাঝে বেশির ভাগই দলীয় ক্যাডার হিসেবে নিয়োগে পেয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে এই সকল শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে শিক্ষার্থীরা এই সব অযোগ্য শিক্ষকদের নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না মার্কস কম পাওয়ার ভয়ে। আবার তাদেরকে সহ্যও করতে পারছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে একজন শিক্ষক স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা যায় কেবল মাত্র নৈতিক আইনে। এছাড়া আর কোনভাবেই তাকে বরখাস্ত করা যায় না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর কেবলমাত্র শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে অথবা নৈতিক অবক্ষয় ঘটলে বরখাস্ত করা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক অবক্ষয়ের মতো বিষয়গুলো প্রমাণ করা যায় না। আর ছাত্ররা কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই জোরালভাবে আন্দোলনে নামতে পারে না মার্কস কম পাওয়া এবং ফেল করার ভয়ে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা কোন দিকে যাচ্ছে তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিদেশে শিক্ষক নিয়োগের ঘটনাগুলো সবচেয়ে জটিল। সেখানে একজন শিক্ষক প্রথম নয় মাসের জন্য অস্থায়ী নিযোগ পেয়ে থাকেন। এরপর তার গবেষণাধর্মী কার্যক্রম বিবেচনা করে তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামতাও নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের এখানে শিক্ষকরাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন। এমনকি তাদের ক্লাস না নিয়ে বছরের পর বছর বেতন নেয়ার সুযোগও থাকে। ইচ্ছে করলেই একজন শিক্ষক তার ক্লাস বাতিল করতে পারেন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটছে অহরহই। এভাবে ক্লাস বাতিল হওয়ায় ছাত্রদের প্রতি মাষে অযথাই ব্যয় হচ্ছে শত শত ঘন্টা। একটি বিভাগীয় হিসেবে তা হাজার ঘন্টার হিসাবও ছাড়িয়ে যাবে।
এভাবে অযোগ্য ও দায়িত্বহীন শিক্ষক বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাকে ধ্বংসই করছেঠন।
সরকারের কাছে আবেদন, দলীয় ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হলেও তারা যেন অযোগ্য এবং দায়িত্বহীন না হন । একটি সরকারের আমলে দলীয় প্রার্থীকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি চরম বাস্তবতা। বিনএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেল জন্যই কথাগুলো চির সত্য। কিন্তু এই সকল শিক্ষদের ন্যূনতম মান থাকা বাঞ্চনীয়। এই আবেদনটুকুও যদি সরকার অগ্রাহ্য করেন, তবে বুঝতে হবে বাংলাদেশ অচিরেই শিক্ষিত সমাজের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

