somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে প্রকাশিত “COVID-19” বিষয়ক রিপোর্ট, ব্ল্যাক সোইয়ান ইভেন্ট এবং আমাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে “COVID-19” বিষয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০ টি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের নবম রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় ১৬ মার্চ। সে রিপোর্টের শিরোনাম হচ্ছে “Impact of non-pharmaceutical interventions (NPIs) to reduce COVID-19 mortality and healthcare demand”। অর্থাৎ নন- ফার্মাসিউটিক্যাল হস্তক্ষেপ “COVID-19” এর ফলে মৃত্যু এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনায় কিভাবে প্রভাব রাখতে পারে তা নিয়েই এই রিপোর্ট। মানুষে মানুষে যোগাযোগ কমিয়ে এনে কিভাবে সংক্রমণ কমিয়ে আনা যায় তার দুটো মৌলিক কৌশলের কথা বলা হয়েছে এই রিপোর্টে। কৌশল দুটো হচ্ছে,
১। সাপ্রেশন অর্থাৎ চাপিয়ে রাখা
২।মিটিগেশন অর্থাৎ প্রশমিত করে ফেলা

সাপ্রেশন অর্থাৎ চাপিয়ে রাখা

এই কৌশল অবলম্বন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের সক্রমিত হওয়ার হার কমিয়ে ফেলা। এবং এ কৌশল প্রয়োগ করতে গেলে লকডাউনের কোন বিকল্প নেই। এবং আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে যতদিন পর্যন্ত ভাক্সিন আবিস্কার না হয় ততদিন পর্যন্ত এ কৌশল অবলম্বন করে যেতে হবে। ধারনা করা হচ্ছে “COVID-19” এর ভ্যাক্সিন আবিস্কার করতে প্রায় ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যাবে।

মিটিগেশন অর্থাৎ প্রশমিত করে ফেলা

এই কৌশল অবলম্বন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সক্রমন ছড়িয়ে পরায় পুরোপুরি বাঁধা না দেওয়া। সক্রমন এবং মহামারীর ভেতর দিয়ে জনগণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে গড়ে উঠতে দেওয়া। ১৯১৭, ১৯৫৭, ১৯৬৮, এবং ২০০৯ সালে ইনফ্লুএঞ্জা মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে এ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।

যাইহোক, রিপোর্টটিতে কৌশল অবলম্বন করার ক্ষেত্রে নৈতিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখা হয়নি। সে কথা রিপোর্টেই আছে। এবং দুই কৌশলেই ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে মিটিগেশন কৌশল অবলম্বন করলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারা প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পরে যাবে। বৃদ্ধদের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। এবং কোন দেশে কোন কৌশল অবলম্বন করতে হবে তা আসলে অনেকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। যেমন আমার ধারনা মিটিগেশন কৌশল অবলম্বন করলে আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও শুধু ধারনার উপর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যায় না। তার জন্য দরকার প্রচুর গবেষণা লব্ধ তথ্য।
গবেষনা, তথ্য, কৌশল অনেক দূরের ব্যাপার। আমাদের দেশের দায়িত্বশীল মানুষদের কাজ কারবার এবং কথা শুনে মনে হচ্ছে প্রাথমিক ধাক্কা মোকাবিলাতেও তারা প্রস্তুত না। তবে তারা আসলে কিসের প্রস্তুতি নিচ্ছে তা জানার একটা আগ্রহ আমার আছে।

ব্ল্যাক সোইয়ান ইভেন্ট

নাসিম নিকোলাস তালেব একজন ফিন্যান্স প্রোফেসর। লেখক এবং ফর্মার ওয়াল স্ট্রিট ট্রেডার। তিনি ২০০৮ সালের ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিস নিয়ে বইয়ে ব্ল্যাক সোইয়ান ইভেন্ট টার্মের কথা বলেছিলেন। ব্ল্যাক সোইয়ান ইভেন্ট হচ্ছে এমন এক পরিস্থিতি যেখানে কোন কিছুই অনুমান করে বলা মুশকিল। প্রচলিত মডেল এবং টুলস দিয়ে অর্থনীতি এবং বাজার কোন দিকে যাচ্ছে বা যাবে তা বলা যায় না। আর এটাই সংকট। একমাত্র ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেই তা কেন হয়েছে কিভাবে হয়েছে তা ব্যাখ্যা করা যায়। সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে দরকার হয় নতুন, কার্যকর, এবং বলিষ্ঠ পরিকল্পনার।
করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে এমন সমস্যার মুখোমুখি ফেলে দিয়েছে।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা এখনো স্পষ্ট ভাবে জানিনা আমাদের পলিসি মেকাররা কোন কৌশল কেন অবলম্বন করছে বা করতে যাচ্ছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখি আমাদের হাতে খুব বেশী অপশন নেই। ভ্যাক্সিন না আসা পর্যন্ত সাপ্রেসশন কৌশল অবলম্বন না করার কোন উপায় দেখছিনা। এবং তার ফলে যে ব্ল্যাক সোয়াইন ইভেন্টের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হবে তাও সত্য।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষের অনেক বেশী দায়িত্বশীল, ইনোভেটিভ, বিকল্প পথ অনুসন্ধানে গবেষণা এবং কোঅপারেটিভ হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

আমরা প্রস্তুত? আমরা পারব? এসব প্রশ্নের উত্তরই আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে প্রকাশিত “COVID-19” বিষয়ক রিপোর্ট



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুভ সকাল

লিখেছেন জুন, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৪


আমার ছোট বাগানের কসমসিয় শুভেচ্ছা।

আজ পেপার পড়তে গিয়ে নিউজটায় চোখ আটকে গেল। চীন বলেছে করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি ভারত আর বাংলাদেশে, তাদের উহানে নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মায়াময় ভুবন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৯

এ পৃথিবীটা বড় মায়াময়!
উদাসী মায়ায় বাঁধা মানুষ তন্ময়,
অভিনিবিষ্ট হয়ে তাকায় প্রকৃতির পানে,
মায়ার ইন্দ্রজাল দেখে ছড়ানো সবখানে।

বটবৃক্ষের ছায়ায়, প্রজাপতির ডানায়,
পাখির কাকলিতে, মেঘের আনাগোনায়,
সবখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কর্য বা মূর্তি যাই বলা হোক, রাখা যাবে না।

লিখেছেন এ আর ১৫, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০


ভাস্কর্য বা মূর্তি যাই বলা হোক, রাখা যাবে না।

কেন?
কারন আল্লাহ মুসলমানদের জন্য মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ করেছেন। ভাস্কর্য বানালে এক সময় এগুলা মূর্তি হয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিমায় পরিনত হবে। মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

উহানের দোষ এখন বাংলাদেশ বা ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১৯



আমরা বাংলাদেশীরা বাদুড়ের জিন থেকে আসিনি ভাই । না বাদুড় খাই, না খাই প্যাঙ্গোলিন বা বন রুই । আমাদের কোন জীবাণু গবেষণাগার নেই , নেই জীবাণু অস্ত্রের গোপন... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দি সান", একটা বৃটিশ টেব্লয়েড, এদের কথায় নাচবেন না

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৭



বাংলাদেশে টেব্লয়েড পত্রিকা আছে, নাকি বাংলাদেশের সব পত্রিকাই টেব্লয়েড? টেব্লয়েড পত্রিকাগুলো ইউরোপ, আমেরিকায় স্বীকৃত মিডিয়ার অংশ, এরা আজগুবি খবর টবর দেয়; কিংবা খবরকে আজগুবি চরিত্র দিয়ে প্রকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×