somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাবলিক অপিনিয়ন, হাইপোথিসিস এবং পোস্টমর্টেমঃ ব্লগ কি তার কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলেছে? ফেললে কেন? আশাবাদী হওয়ার মত কোন যৌক্তিক কারন আছে কি?

০৯ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ফেসবুকে সামহোয়্যার ইন ব্লগের ব্লগারদের নিয়ে একটা গ্রুপ আছে। সে গ্রুপে কাল একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। পোস্টটা ছিল,

বুদ্ধিবৃত্তিক নানা রকম চর্চার জন্য একসময় ব্লগ খুব জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ছিল। নতুন প্রজন্মের অনেক কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীই ব্লগ থেকে এসেই পরে মূলধারার মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়াও নানা রকমের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস করে অথরিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক চমৎকার মাধ্যমও ছিল ব্লগ। আবার অন্য দিকে কারো পারসোনাল স্কিল দেখানো বা মন খুলে আড্ডা দেওয়ার মত ব্যাপারও ছিল। আমার ধারনা বৈচিত্র্য এবং নানা মতের মানুষের ভাবনা চিন্তার যে দ্বন্দ্ব তাই ব্লগকে এদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক প্রাণ কেন্দ্রে পরিনত করেছিল। যাইহোক, ব্লগ এখন ঠিক সে জায়গায় নেই। অনেক ব্লগই বন্ধ হয়ে গেছে। সামু বেঁচে আছে ধুকে ধুকে। অনেকেই তার কারন হিসাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তার নানা রকম ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। যেমন,

১। ব্লগের পতনের কারন নাস্তিক আস্তিক বিতর্ক।
২। ব্লগের পতনের কারন ফেসবুকের মত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম।
৩। দলবাজি, সিন্ডিকেটবাজি ইত্যাদি।
৪। ডিজিটাল আইন কিংবা শাসকগোষ্ঠীর ফেসিস্ট আচরন।
৫। মোডারেটরদের পারসোনাল এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা কিংবা পলিটিক্স।

এমন অনেক কারনের কথাই বলে থাকেন অনেকে। এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি। ব্লগের পতনের কারন কি বলে মনে করেন? ব্লগ নিয়ে কি আপনারা আশাবাদী? নাকি মনে করছেন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় ব্লগ আর আগের মত শক্তিশালী অবস্থানে কখনো যেতে পারবেনা?


পোস্টে বেশ কয়েকজন ব্লগার খুব স্পষ্ট ভাবে তাদের মতামত জানিয়েছেন। সেসব মতামতের ভিত্তিতে একটা সারসংক্ষেপ করলে যা দাড়ায় তা হচ্ছে,

প্রসঙ্গঃ নাস্তিক আস্তিক বিতর্ক

২০১৩ সালে শাহবাগ মুভমেন্টের পর একটা প্রোপাগান্ডা পাবলিক সেন্টিমেন্টে মোটামুটি ঝড় তুলে। তা হচ্ছে ব্লাগার মাত্রই নাস্তিক। এবং ব্লগে মূলত ব্লগাররা ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে। এই ইস্যু নিয়ে ব্লগগুলো একধরনের সংকটের ভেতর পরে যায়। শুরু হয় গোয়েন্দা নজরদারি। ধর পাকড়। খুন। নেমে আসে আইনের খড়গ। ফলে কোন ব্লগেই আর স্বতঃস্ফূর্ত ডিবেটের সুযোগ ছিলনা। এই বিতর্ককে ব্লগগুলোর পতনের অন্যতম কারন বলা হয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে একজন ব্লগার বলেন, নাস্তিক আস্তিক বিষয়ক প্রতিক্রিয়ার একটা খেসারত সামুকে দিতে হয়েছে। কারন হিসেবে তিনি বলেছেন, এ বিতর্কের নামে সামুতে আসলে পারসোনাল ব্র্যান্ডিং হয়েছে। অর্থ্যাৎ আলোচনা বিতর্কের উদ্দেশ্য যতটা ইস্যুভিত্তিক বা জানা কিংবা বোঝাপড়ার জন্য হয়েছে তার চেয়ে বেশী হয়েছে নিজের পারসোনাল এজেন্ডা পূরনের জন্য। অর্থ্যাৎ এখানে কনটেন্ট গৌণ ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি মুক্তমনা ব্লগের কনটেন্টের সাথে সামুর কনটেন্টেরও একটা তুলনা করেন।

এ প্রসঙ্গে আরেকজন বলেন পারসোনাল মার্কেটিংয়ের জন্য সামু সবসময়ই একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম ছিল। তাই সে উদ্দেশ্যে ভিন্ন মত পথের মানুষ এখানে ভীড় জমাত।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে নাস্তিক আস্তিক বিতর্কে মুক্তমনার কনটেন্ট অনেক সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু সামুর চেয়ে ব্লগ হিসাবে তারাই বেশী সাফার করেছে। ব্লগাররা গ্রেপ্তার হয়েছে। খুন হয়েছে। এ বিষয়ে সামুর রক্ষণশীল আচরন বা অথরিটিকে মেনে নেওয়ার নীতি কি সামুকে সারভাইভ করতে সাহায্য করেছে?

উত্তরে আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্লগাররা বলেন সামু সব দিক থেকে এডজাস্ট করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই এডজাস্ট করতে গিয়ে সামু হয়তো টিকে যেতে পেরেছে কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জায়গায় পিছিয়ে পরেছে।

প্রসঙ্গঃ দলবাজি, সিন্ডিকেটবাজি

ব্লগের পতনের কারন হিসাবে ব্লগে দলবাজি সিন্ডিকেটবাজির চর্চার কথা প্রায়ই অনেকে বলে থাকেন। এ প্রসঙ্গে একজন ব্লগার বলেছেন দল বা সিন্ডিকেট খারাপ না, যদি সেটা কোন সুনির্দিষ্ট ইস্যুভিত্তিক বা আইডিওলজিক্যাল হয়। আবার কেউ বলেছেন এসব সিন্ডেকেটবাজির নামে চলে চর দখল টাইপ খেলা। ফলে পীর আর মুরিদরা মিলে ব্লগে যেসব কনটেন্ট প্রসব করে তা দিনশেষে আগাছায় পরিনত হয়। এই আগাছা ছাফ করতে পারেনা বলেই ব্লগ সংকটের মুখে পরেছে?

এ প্রসঙ্গে নিয়ে আলোচনা করতে করতেই ব্লগ মোডারেটরদের প্রসঙ্গ খুব স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে।

প্রসঙ্গঃ মোডারেটর

সামুর ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে কয়েকজন ব্লগার বলেন সামু নিজ প্রয়োজনেই সবসময় দলবাজি সিন্ডিকেটবাজিকে সাপোর্ট দিয়ে এসেছে। তারা নিজেদের প্রয়োজনে কাউকে নায়ক বানিয়েছে আবার ভিলেন বানিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়েছে। ব্যাপারটা অনেকটাই গেম অব থ্রোনসের মত। এবং সব ক্যাচালের সাথেই তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। একজন সরাসরি বলেন মডুদের তেল দেওয়া, সিন্ডিকেটের নামে গং বানানো, কনটেন্টের চেয়ে ফেস ভ্যালুকে গুরুত্ব দেওয়া এসব পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত ব্যাপার ব্লগে। ফলে মান কমে গেছে।

মোডারেটর প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় উঠে এসেছে। তা হচ্ছে ব্লগের উপর মোডারেটরের পারসোনাল চাওয়া পাওয়া কিংবা দক্ষতার কোন প্রভাব পরে কিনা? ধরা যাক একজন মোডারেটর কবিতা বুঝেনা। বা গল্প বুঝেনা। তার দক্ষতা নিবন্ধে। এখন সে মোডারেটর সাহিত্য বিষয়ক কনটেন্টগুলোকে কিভাবে জাজ করবে? বিষয়টি একজনের পক্ষে সম্ভবও না। কারন একজন মানুষ একসাথে সবকিছুতে দক্ষ হতে পারেনা। যেমন একটা পত্রিকার অর্তনীতির পাতা, খেলার পাতা, সাহিত্যের পাতা সব একজনই সম্পাদনা করলে ফলাফলও ভালো হবেনা। ব্লগে তাই হয়েছে।

প্রসঙ্গঃ ফেসবুক, ইউটিউব সহ অন্যান্য মিডিয়ার জনপ্রিয়তা

ব্লগের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অনেক সময়ই অনন্যা মিডিয়ার শক্তিশালী অবস্থানের কথা বলা হয়। যেমন সব কিছুই খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যা কিছু পরিবর্তনের সাথে এ্যাডাপ্ট করতে পারছেনা তাই পিছিয়ে পরছে। ব্লগের সে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন, উদাহরন হিসাবে বলা হয়েছে ব্লগারদের নিয়ে ফেসবুকে লাইভ প্রোগ্রাম করা যাচ্ছে। কিন্তু ব্লগ থেকে তা করার কোন অপশন নেই। সুতরাং প্রযুক্তির দিক থেকে ব্লগ অন্য মিডিয়ার সাথে পাল্লা দিতে পারছেনা। এবং প্রযুক্তির সাথে সাথে মানুষের রুচিরও পরিবর্তন ঘটেছে দ্রুত।

প্রসঙ্গঃ ডিজিটাইল আইন, শাসকগোষ্ঠীর দমন পীড়ন এবং ফ্যাসিস্ট মনোভাব

ডিজিটাল আইনের নামে বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ব্লগকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। এক মন্ত্রীর দাপটে দীর্ঘসময় সামু বন্ধ ছিল। বেড়েছে সরকারের নজরদারি। হস্তক্ষেপ। তবে শাসকগোষ্ঠীর ফ্যাসিস্ট আচরনকে পাল্টা চ্যালেন্জ করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্লগ। কেউ কেউ বলেছেন সামু উল্টো আপোষের কৌশল নিয়েছে। ফলে মেরুদন্ড হারিয়ে ধুকে ধুকে বেঁচে আছে।

প্রসঙ্গঃ বাজেট

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট। ফেসবুক, ইউটিউবের মত মিডিয়ার সাথে পাল্লা দিতে হলে বাজেট দরকার। সে বাজেট কোথা থেকে আসবে? মেইনটেইনেন্স খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কোন বিকল্প পথও ব্লগ খুঁজে পায়নি বলেই মনে হয়।

যাইহোক, আলোচনা এখানেই শেষ করছি। আপনারা খোলাখুলি আপনাদের মতামত জানাতে পারেন। ব্লগ নিয়ে কি আপনারা আশাবাদী? প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্লগের জনপ্রিয়তা এবং কার্যকারীতা কমার কারন কি বলে মনে করেন? ব্লগকে ঠিক আপনারা কেমন প্ল্যাটফর্ম হিসাবে দেখতে চান?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৩:৩৮
১৩৩টি মন্তব্য ১১৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসসালামু আলাইকুম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০২

শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া ও আল্লাহ হাফেজ বলাকে বিএনপি-জামায়াতের মাসয়ালা ও জঙ্গিবাদের চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। ঢাবির অধ্যাপকের এই বক্তব্যে অনলাইনে প্রতিবাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান পারমানবিক বর্জ্য মেশানো পানি সাগরে ফেলবে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪


জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ফুকুশিমার ১২ লাখ টন আনবিক তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হবে । ২০১১ সালে এক ভুমিকম্প জনিত সুনামিতে ফুকুশিমা আনবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পপসিকল স্টিকসে আমার পুতুলের ঘর বাড়ি টেবিল চেয়ার টিভি

লিখেছেন শায়মা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭


ছোট্টবেলায় পুতুল খেলা খেলেনি এমন মেয়ে মনে হয় বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশ বর্ণ জাতি ভেদেও সব মেয়েই ছোট্টবেলায় পুতুল খেলে। আবার কেউ কেউ বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

লিখেছেন এমএলজি, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪২

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

আমি যে বুয়েটে পড়েছি সেই বুয়েট এই বুয়েট নয়। আমার পড়া বুয়েটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের পাঠিয়ে পিতামাতা নিশ্চিন্ত থাকতেন। আমার ব্যাচের দেশের সবকটি শিক্ষাবোর্ডের... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় একদিনের গন্ডগোল

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:২৮



আমাদের সবচেয়ে কাছের দোকানটি হচ্ছে, তুর্কিদের ফলমুল-গ্রোসারীর দোকান; চীনাদের দোকানের মতো গিন্জি, আমি পারতপক্ষে যাই না; ভোরে চা'য়ের দুধ নেই; বেলা উঠার আগেই গেলাম, এই সময়ে মানুষজন থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×