এসো না তুমি, আমার মরণে
জল ঝরাতে আমার কবরে,
আবার ডিঙাতে আমার নতশির।
জমুক ধূলো আমার কবরে,
সময়ের জলে ধুয়ে যাক সব;
কোকিলেরা আবার ঝরাক জল
কুহু কুহু ডাকে কাঁদুক তারা;
ডাহুক ডাকুক এমনিতেই--
কিন্তু তুমি চলে যাও।
বাবু, হলোই বা তোমার সূক্ষ্মতম ভুল,
কিংবা বিস্তর অপরাধ--
আর পরোয়া নেই এসবে,
অভিশপ্ত আমি, আমার যায়-আসে না আর কিছুতে।
বাবু তুমি বিয়ে করে সুখে থেক,
তোমার খেয়াল মত--
আর পরোয়া নেই এসবে,
বড় ক্লান্ত প্রাণ আমার, নিস্তার চাই এই ক্ষণে।
এসো না তুমি, আমার মরণে
জল ঝরাতে আমার কবরে
তোমার বন্ধ্যা হৃদয় নিয়ে।
আমারে দাও এবার মুক্তি--
চলে যাও, তুমি চলে যাও।
কবিতাঃ এসো না তুমি, আমার মরণে
মূল কবিতাঃ আলফ্রেড লর্ড টেনিসন এর "Come not, when I am dead"
অনুবাদঃ রওনক-উল-ইসলাম
[টিকাঃ কবিতাটি আলফ্রেড লর্ড টেনিসনের একটি কবিতা (Come not, when I am dead) এর অনুবাদ। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, একে আনুবাদ বলতে আমার কেমন অস্বস্তি লাগে। এর মূল কারন হয়তো বা আমি কবির ভাবনা টা ঠিক তুলে আনতে পারিনি আমার কবিতায়। কবির কবিতার সাথে সমান্তরাল ভাবে না গিয়ে আমার কবিতা হয়তো কোথাও বাঁকা পথ ধরেছে। কবির রূপকের সাথে আমার রূপকের পার্থক্য হয়তো বা কোথাও মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, যেমন যেখানে কবি লিখেছেন বাতাস, আমি ব্যবহার করেছি জল- তাই একে ঠিক অনুবাদ বলা হয়তো ভুল হবে। বরং আমি সব সময় চেষ্টা করেছি, আমি কবিতাটা পড়ে যেমন অর্থ অনুভব করি, সেটা আমার কবিতায় তুলে আনতে- কতটুকু সফল হয়েছি, সেটা পাঠকদের হাতে ছেড়ে দিলাম। পাঠকদের জন্য আরেকটা পয়েন্টার দিচ্ছি, মূল কবিতায় কবি সম্বোধনের সময়, "child" শব্দটি ব্যবহার করেছেন, আমি এর অনুবাদ করেছি "বাবু" হিসেবে, এখন এর মানে আপনি যেভাবে খুশি সেভাবে করে নিতে পারেন। হতে পারে এই কথা গুলো কোন প্রেমিক, স্বামী, পিতা বলছে যথাক্রমে তার প্রেমিকা, স্ত্রী, পুত্র কে! সবগুলো প্রেক্ষাপটেই কবিতাটা সমান অর্থবহ। আমি আরো একটা বিষয় শেয়ার করতে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে ইংরেজী ভাষাটাকে আমি বড় কাঠখোট্টা হিসেবে পাই। আবেগের ঠাই বড় কম লাগে এই ভাষায়। আবার কখনও খুব তীব্র মনে হয় এই ভাষাকে। যেমন, আভিমানে ভরা এই কবিতাটিতে কত তীব্র ভাবেই না অভিমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন কবি! কিন্তু আমার বাংলা ভাষা কবিতার ঝাঁঝ কত কমিয়ে দিয়েছে দেখুন!]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


