somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চার উপদেষ্টার প্রস্থানে চুল ছিড়ছেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়ানাবি সুপারহিরোজ এবং আওয়ামী সিম্পেথাইজার আকবর আলী, হাসান মশহুদ, শফি সামি, এবং সুলতানা কামালের প্রস্থানে যখন প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদের পক্ষে একটা সুযোগ তৈরী হলো উপদেষ্টা পরিষদে আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাবাপন্ন আরো 4 জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে তার হাতকে শক্তিশালী করার; তখন সাংবাদিকরা পড়লেন একটি নতুন চিন্তায়।

জাতিকে বিপথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহর উক্ত চার বান্দা সাংবাদিকদের সাথে তথ্যের যে অবাধ আদান-প্রদান ঘটাতেন এবং ঘটা করে সাংবাদিকদের "আপনার কি মনে হয়?" জাতীয় ফালতু প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যে তত্বাবধায়ক সরকারের কাজকে সহজ করার জন্য তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই তত্বাবধায়ক সরকারের কাজকে নিজেরাই যেভাবে কঠিন, ধোঁয়াটে, এবং প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতেন - নতুন যারা তাদের স্খলাভিষিক্ত হবেন তাদের প্রাণ যদি আওয়ামী লীগের জন্য উষ্ঠাগত না হয় তবে কি সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রতি রাতের, প্রতি দিনের, প্রতি ঘন্টার নিউজে জাতিকে বিপথগামী করার সুযোগ পাবেন? পারবেন কি তারা প্রতি রাতে, প্রতি দিনে, প্রতি ঘন্টায় ইয়াজউদ্দীনকে ইয়েসউদ্দীন বলে চালিয়ে দিতে? আকবর আলী এবং হাসান মশহুদ যেভাবে তাদেরকে বঙ্গভবনের খবরাখবর আগাম সাপ্লাই দিয়ে 14 দলকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ করে দিতেন, নতুন উপদেষ্টারা যদি সেরকম গর্দভ এবং উল্লুক প্রকৃতির না হন ব্যপারটা কেমন দাড়াবে তখন?

আমরা বিশ্বস্তসুত্রে খবর পেয়েছি এইসব নানাবিধ অনিশ্চয়তার মুখে অনেক সাংবাদিকই নিজের মাথার চুল ছিড়ছেন। চিন্তায় কারো কারো রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এমনকি এমনও শোনা যাচ্ছে যে সাংবাদিকরাই উক্ত চার আল্লাহর বান্দাকে অনুরোধ করছেন তাদের প্রস্থানপত্র ফিরিয়ে নিয়ে আবার সংবাদমাধ্যমসমূহের ইনসাইডার সোর্সরূপে আবিভর্ূত হওয়ার জন্য।

প্রস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ এব্যপারে এখনও তাদের মহা মূল্যবান বক্তব্যখানি জানাননি। তবে বিশ্বস্তসুত্রে আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, টিভি ক্যামেরা আর ফ্লাশলাইটের ঝলকানিতে তারা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে তাদের অনেকে সাংবাদিকদের এই প্রস্তাব পুন:বিবেচনা করছেন। জাতির কাছে তারা কোনো গোষ্ঠীর তল্পিবাহকরূপে পরিচতি হতেই পারেন কিন্তু নিজের পরিবারের কাছে তো তাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। ছেলে-মেয়েগুলো প্রতিদিন পড়াশোনা ফেলে টিভির দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে কখন আব্বুকে দেখাবে কখন আম্মুকে দেখাবে। দেশবাসীর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করলেও সেই একই আচরণ তো নিজের সন্তানের সাথে করা যায়না।

তাই, সাংবাদিকদের একটি মহল খুবই যে আশাবাদী ঐ চার প্রস্থানকারীদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো স্ব-দায়িত্বে ফিরে যাবেন এবং সাংবাদিকরা তার/তাদের মাধ্যমে আবারও জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাবেন।

জয় হোক, বাংলারও নয় বঙ্গবন্ধুরও নয়, মিডিয়াতন্ত্রের।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×