somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজাউল করিম সাগর
হাড্ডি খিজিরের মত ঠোঁটকাটা হইতে চাই শেষমেশ ওসমান অরফে রঞ্জু হয়াই দিন কাটে। রোগা শালিকের বিবর্ণ ইচ্ছা কী আছিলো সেইটা অনুভব করার খুব শখ আছিলো, জীবনদা তো আর নাই। তার কথা মনে হইলেই শোভনার ব্যর্থ প্রেমিক, লাবণ্যের ব্যার্থ স্বামী মনে হয়। আমাদের হৃদয় জাগানো কবির

নাজিম হিকমতের ২টি কবিতা।। ইংরেজি থেকে অনুবাদ - মো: রেজাউল করিম

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নাজিম হিকমতের ২টি কবিতা
(ইংরেজি থেকে অনুবাদ - মো: রেজাউল করিম)

১। স্বাধীনতার বিষণ্ণ রূপ

.
তোমার চোখের মনযোগ তুমি নষ্ট করেছো
নষ্ট করেছো দুই হাতের চমকপ্রদ শ্রম ।
তুমি কয়েক ডজন রুটির উপযোগী ময়দা করছো মন্থন,
যে রুটির একটি গ্রাসও তুমি ভোগ করবেনা;
তুমি অন্যদের দাস হবার ব্যাপারে স্বাধীন
তুমি ধনীদের আরো বেশি ধনী করার ব্যাপারই স্বাধীন।
.
তোমার জন্মমুহূর্তে ওরা তোমার চারপাশে স্থাপন করলো
মিথ্যা উৎপাদনের কারখানা;
মিথ্যা - যা আজীবনের জন্য যথেষ্ট।
তুমি চিন্তাশীল ভঙ্গীতে তোমার মহান স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা করেই যাচ্ছো !
স্বাধীন চেতনাটুকু থাকার স্বাধীনতাই কেবল তোমার আছে।
.
তোমার মাথা এতই নত যেন
তা গ্রীবা থেকে অর্ধেক কাটা
তোমার হাতদুটো লম্বা, ঝুলানো
মহান স্বাধীনতা নিয়ে তুমি উদ্দেশ্যহীন
এবং স্বাধীন,
বেকার থাকার স্বাধীনতা নিয়েই,
তুমি স্বাধীন।
.
তোমার জানা সবচেয়ে মূল্যবান বস্তুর মতই
তুমি ভালোবাসো স্বদেশকে।
অথচ একদিন,
ধরো তারা একে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, এবং তোমার মহান স্বাধীনতাসহ তোমাকেও
তোমার প্রিয়তম দেশের একটি বিমানঘাটি হবার স্বাধীনতাটুকুই আছে।
.
তুমি হয়তো দাবী করো মানুষ কখনো মানুষ ছাড়া যন্ত্র ,সংখ্যা কিংবা শুধুই একটি যোগসূত্র হিসেবে থাকতে পারেনা,
তখন হঠাৎ তারা তোমার হাতে পরালো হাতকড়া
তুমি গ্রেফতার হবার জন্যই স্বাধীন,
কারারুদ্ধ হবার জন্য স্বাধীন
ফাসিতে ঝুলে মৃত্যুর জন্য স্বাধীন।
.
লোহার কাঠের কিংবা সূক্ষ্ণ রেশমের পরদাও তোমার জীবনে নেই
স্বাধীনতা চেয়ে নেবার দরকার নেই
তুমি স্বাধীন,
কিন্তু এই ধরনের স্বাধীনতা অনন্ত নক্ষত্রবীথির নিচে
একটি ব্যর্থ প্রেম ছাড়া আর কিছুনা।
.
.

২। আশাবাদী মানুষ
.
শৈশবে সে কখনো মাছির পাখা ছেড়েনি
বিড়ালের লেজে বাধেনি টিনের ক্যান
ম্যাচবাক্সে বন্দী করেনি পোকাদের
কিংবা আটকে রাখেনি উইপোকাদের ।
সে বড় হয়ে উঠলো,
এইসব কিছুই করা হল তার প্রতি
আমি তার মৃত্যুশয্যার পাশেই ছিলাম ।
সে সমুদ্র ও সূর্য নিয়ে,
পারমাণবিক চুল্লি ও স্যাটেলাইট নিয়ে
মানব সভ্যতার মহত্ব নিয়ে
আমাকে একটা কবিতা পাঠ করতে বললো।

** ( নাজিম হিকমত (১৯০২-১৯৬৩)
নাজিম হিকমত একজন তুর্কি কবি। জন্ম তুরষ্কে হলেও ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পরে জীবনের বিরাট একটা অংশ কেটেছে অন্য দেশে। মস্কোতে কেটেছে তার অধিকাংশ জীবন। সেখানে রাশিয়ান কবি মায়াকোভস্কির সাথে পরিচয় হয়েছে। দুইজনেই ছিলেন বামপন্থী আদর্শে উজ্জীবিত। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরাধীন তুরস্ক থেকে রাশিয়ায় চলে যান। ১৯২৪ সালে তুরষ্কের স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু বামপন্থী একটি পত্রিকায় কাজ করার অপরাধে অচিরেই গ্রেফতার হন। পরে মস্কোতে পালিয়ে যান।
১৯২৮ সালে পুনরায় তুরষ্কে আসার অনুমতি পান। পরবর্তী ১০ বছরে তিনি সাংবাদিক, অনুবাদক হিসেবে কাজ করাকালীন প্রকাশ করেন ৯ টি কবিতার বই। এরপর পুনরায় দীর্ঘ কারাবাসের পর ১৯৫১ সালে শেষবারের মত তুরষ্ক ত্যাগ করে সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যান। এবং কমিউনিজমের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। এসময় রাশিয়ান ফিউচারিস্টদের প্রভাবে এসে কবিতার গতানুগতিক ফর্ম পরিত্যাগ করেন। অবশ্য ইতোমধ্যেই প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে হার্ট এটাকে মৃত্যুবরণ করেন। নাজিম হিকমত বিংশ শতাব্দীর অন্যতম একজন আন্তর্জাতিক কবি হিসেবে স্বীকৃত। জেলখানার চিঠি কবিতাতে লিখেছেন, "মানুষের মুন্ডুটাতো আর বোটার ফুল নয় যে ইচ্ছে হলেই টান দিয়ে ছিড়ে নেবে!" কী অসাধারণ!
তার প্রতিবাদী কবিতাগুলো মুক্তিকামী, মাটির কাছাকাছি মানুষের কাছে চিরদিন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।)
.
*পুনশ্চ - শহরতলী ব্যান্ডের 'জেলখানার চিঠি' শুনতে পারেন। নাজিম হিকমতের কবিতার বারুদের গন্ধ পাবেন বেশ ভালোমতই !
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫৫
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌতুক কিংবা রম্য - বলুন তো, বিষয়টা কী?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৮

আমি যদি বুঝতেই না পারি যে, আমি তোমাকে যা বোঝাতে চাই তা তুমি বুঝতে পারছো না, তাহলে আমি কীভাবে বুঝবো যে, তুমি কিছুই বোঝো নাই? বুঝেছ? না বুঝলে বরং বোঝার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল

লিখেছেন জুন, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৪


আমার ছোট বাগানের কসমসিয় শুভেচ্ছা।

আজ পেপার পড়তে গিয়ে নিউজটায় চোখ আটকে গেল। চীন বলেছে করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি ভারত আর বাংলাদেশে, তাদের উহানে নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মায়াময় ভুবন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৯

এ পৃথিবীটা বড় মায়াময়!
উদাসী মায়ায় বাঁধা মানুষ তন্ময়,
অভিনিবিষ্ট হয়ে তাকায় প্রকৃতির পানে,
মায়ার ইন্দ্রজাল দেখে ছড়ানো সবখানে।

বটবৃক্ষের ছায়ায়, প্রজাপতির ডানায়,
পাখির কাকলিতে, মেঘের আনাগোনায়,
সবখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×