somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আর নয়!!!

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে গাজিপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী কুখ্যাত বদর নেতা মীর কাসেম আলী'র ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করায় জামায়াতের পরম বন্ধু একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান আবারো ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে এক প্রেস রিলিজে পাকিস্তান দাবি করেছে- ''ত্রুটিপূর্ণ বিচারে ১৯৭১ এর ডিসেম্বরের আগে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর ‘প্রখ্যাত’ নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পাকিস্তান গভীরভাবে মর্মাহত। ত্রুটিপূর্ণ বিচারের মাধ্যমে বিরোধীদের দমন পুরোপুরি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ১৯৭৪ সালের ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, ক্ষমার আওতায় বিচার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওই চুক্তিতে। পাকিস্তান ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বিপরীতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। যা রক্ষা করা বাংলাদেশের কর্তব্য।''

পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে আবারো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের এ পর্যন্ত যাদেরই বিচারের রায় যখনই কার্যকর হয়েছে, তখন থেকে প্রতিবারই একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের বারবার এই অনাকাঙ্খিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ একাত্তরের কুখ্যাত বদর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তান আবারো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন করলো।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাই কমিশনারকে ডেকে এই শিষ্টাচার লংঘনের বিষয়ে কড়াভাবে জবাব চাওয়া। পাকিস্তান যে এখনো সেই একাত্তরের পুরানো মিত্রদের ভুলতে পারেনি, এখনো যে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই পুরানো মিত্রদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি তারই সুস্পষ্ট উদাহরণ।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের ৯৩ হাজার প্রশিক্ষিত সেনা ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বীর বাঙ্গালীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই পরাজয়ের স্মৃতি পাকিস্তান কোনোদিন ভুলতে পারবে না। একাত্তরের পরাজিত শত্রু পাকিস্তান সেই কষ্টের ভার এখনো বহন করে বলেই জামায়াত ও নিজেদের সেই ভয়ংকর অপরাধকে এখনো মেনে নিতে পারেনি।

এমন কি আজ পর্যন্ত পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি। একাত্তরের সেই ঘৃর্ণ্য অপরাধের জন্য পাকিস্তানকে নিঃশর্তভাবেই ক্ষমা চাইতে হবে। যতদিন পাকিস্তান ক্ষমা না চাইবে ততদিন পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নয়।

পাকিস্তান আবারো যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, এখন বাংলাদেশের উচিত ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাই কমিশনকে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা। আর যদি সঠিক জবাব পাওয়া না যায়, তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। পাকিস্তান তাদের আচরণ দিয়েই বারবার বুঝিয়ে দেয় তারা কোনোদিন বাংলাদেশের বন্ধু ছিল না, ভবিষ্যতেও বন্ধু হতে পারবে না। বরং তারা কূটনৈতিক সম্পর্কের আড়ালে বাংলাদেশে নানান ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে।

চব্বিশঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে ডেকে যথাযথ জবাব না পেলে তাকে বরখাস্ত করাই হবে বাংলাদেশ সরকারের জন্য সবচেয়ে যথার্থ সিদ্ধান্ত। একটি স্বাধীন দেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে পাকিস্তানের মিথ্যাচারকে হজম করা বাংলাদেশের জন্য মোটেও উচিত কাজ হবে না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আজই পাকিস্তানের এই ধৃষ্টতার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিতে হবে।

পাকিস্তান সরকারের এই ঘৃর্ণ্য ধৃষ্টতার জন্য তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাই। পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো বন্ধুত্ব আমরা দেখতে চাই না। পাকিস্তান কার্যত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আর সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রের এমন ধৃষ্টতা বাংলাদেশ মোটেও মেনে নিতে পারে না।

..................................
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×