somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজা ঘটক
বাংলাদেশ আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা...

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে বাংলাদেশ একটি মৃত্যুপরী হতে যাচ্ছে!!!

১৬ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি। খেয়াল করুন- দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ধরা পরে ৮ মার্চ। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল ৩১ জানুয়ারি। সেখানে আমরা তখন মুজিব বর্ষ নিয়ে মেতে ছিলাম। সারা দেশে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করার পর আজ সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলো।

শুরু থেকেই করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকার বাহাদুরের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী। প্রথমে বিমানবন্দর এবং স্থল বন্দর থেকে করোনা ভাইরাস প্রবেশের সকল যজ্ঞ সাঙ্গ করা হয়েছে। তারপর করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পরেও দেশে উপনির্বাচন করা হয়েছে। তারপর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু যানবাহন চলাচল চালু রেখে। তারপর ৪ এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবাধে ঢাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপর মসজিদ মন্দির চালু রাখা হয়েছে। সর্বত্র করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পর এখন সরকার বাহাদুরের কিছুটা টনক নড়েছে।

ওদিকে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে নকল মাক্স সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কতবড় আত্মঘাতী হলে একটা রাষ্ট্র ধীরে ধীরে সকল মৃত্যুর আয়োজন এভাবে সাঙ্গ করতে পারে!!! যেখানে করোনা ভাইরাসের প্রস্তুতি নেবার জন্য সরকার তিন মাস সময় পেয়েছে। সেখানে সেই তিন মাস মন্ত্রীরা প্রস্তুতির নামে বড় বড় বুলি ছুড়েছেন। পরে গোটা দেশের স্বাস্থ্য খাতের আসল চেহারা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে। উন্নয়নের নামে এত বুলি ছোড়া হয়েছে সেসব এখন ফানুস!

এখন পর্যন্ত দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পুরোপুরি অথর্ব অবস্থায় আছে। কোনো মন্ত্রণালয়ের সাথে অন্য মন্ত্রণালয়ের কোনো সমন্বয় নাই। এখন পর্যন্ত খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একজন অযোগ্য লোককে মন্ত্রী করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে গোটা স্বাস্থ্যখাতে সর্বত্র অযোগ্য লোকজন এখনো মিডিয়ার সামনে রোজ মিথ্যার বেসাতি করছেন। আমরা এমন একটি অভাগা দেশে জন্মগ্রহণ করেছি যেখানে ছাগল দিয়ে হাল চাষ করানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে।

এতকিছুর পরেও আমি মনে করি, দেশে করোনা ভাইরাসের চেয়ে না খেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে। কারণ তার যথাযথ কারণ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। সারা দেশে চাল চোরের খনি আবিস্কার হচ্ছে। সরকারি ত্রাণ কেন দলীয় লোকদের মাধ্যমে দিতে হবে??? সেনাবাহিনী দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করলে সমস্যা কোথায়? দলীয় লোকজন চুরিচামারির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে তাই না???

দেশে যে দুর্ভিক্ষের লক্ষণ সুস্পষ্ট হচ্ছে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো ধরনের প্রস্তুতি নাই। একটা কথা সরকার বাহাদুর বুঝতে না চাইলেও সবাই বুঝবে যে, দলীয় লোক দিয়ে আসন্ন দুর্ভিক্ষ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে হলে সেনাবাহিনী দিয়ে ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দলীয় লোকদের আসল চেহারা ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

দুর্ভিক্ষ মকাবেলার কৌশল কী হবে তা নিয়ে সরকার বাহাদুরের এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা সুস্পষ্ট নয়। ফলে ধরে নেওয়া যায় দুর্ভিক্ষ না লাগা পর্যন্ত সরকার অপেক্ষা করবে। কারণ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ঘটনা ঘটে যাবার পর সিদ্ধান্ত। সবকিছু লেজেগোবরে করার পর এখন হায় হুতাশ শুরু হয়েছে। মনে রাখতে হবে সরকারের এই অবহেলা এবং কর্মযজ্ঞের সকল খতিয়ান মানুষ মনে রাখছে। এখনো সরকার বাহাদুরের হুস না আসলে খুব শিঘ্রই বাংলাদেশ একটি মৃত্যুপুরী হতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:২৫
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×