somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেডিস ডে আউট-২

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আগের পর্ব


৩.
পথটা নেহাৎ কম না। একঘেয়েমি লাগছে না যদিও। পথের ধারে বাহারি বাড়িগুলো দেখার মত। এগুলো ছোট ছোট গেস্টহাউস। কাঠের দেয়ালগুলোতে হোটেল হোটেল কমার্শিয়াল গন্ধ নেই। তার বদলে আছে বারান্দা উপচে পড়া ফুলের সুবাস। ফুলের থোকাগুলো যেন বাড়ির মালিকের রুচির সার্টিফিকেট হয়ে ঝুলে আছে ব্যালকনির ফোঁকর গলে। কোথাও বারান্দার এধার থেকে ওধার জুড়ে শুধুই রক্ত লাল গোলাপ। কোনো বা বাড়ির ফুল হালকা গোলাপি থেকে গাঢ় হতে হতে বেগুনি বনে গিয়ে একেবারে লতিয়ে সদর দরজায়ে নেমে এসেছে। এমন জায়গায় দিন দুই কাটালে জব্বর হতো।

উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তায় এখন রীতিমত হাঁপ ধরে যাচ্ছে। আরেকটু এগোলেই নাকি পৌঁছে যাব। মৌরি আপুর মন ভুলানো কথাও হতে পারে। তাও সরল মনে পা চালিয়ে যাচ্ছি। খানিক বাদেই বামের অদ্ভূত পথটা দেখে থামতে হলো। ঢালু হয়ে কই যে নেমে গেছে, বোঝার উপায় নেই। দু’পাশে নেই বাড়িঘর, নেই গাড়িঘোড়া। শুধু গাছগাছালি। সবুজ ডিঙ্গিয়ে চোখ চলে যায় দূরের পাহাড়চূড়ার মরীচিকায়। যেন হাত বাড়ালেই নাগাল মিলবে। কোত্থেকে হঠাৎ এক বুনো বাদামী খরগোশ লাফিয়ে উঠে মিলিয়ে গেল। কৌতূহলে এগিয়ে গেলাম এক পা। যাবো নাকি এই পথে? হারিয়ে যাবার হাতছানিটা মায়াবী সুরে ডাকছে ‘আয় আয়’। ওদিকে বাকিরাও ডাকছে খুব। নাহ্, হাতছানিটা ফিরিয়ে দিতে হল। খরগোশের পিছু ছোটা আর হল না।

কাঠের সাঁকো এঁকেবেঁকে চলে গেছে লেকের পাড় ঘেঁষে। ক্যাঁচকোঁচ শব্দ তুলে চলছি। স্বচ্ছ জলে এক আধটা মাছ উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। মনের ভেতরের বড়শিটা টোপ লাগিয়ে তৈরি হতে চাইছে। ভাজা মাছের মচমচে ঘ্রান কল্পনা করে নিতে একটুও বেগ পেতে হল না। পানির বাতাস খিদে চাগিয়ে দিতে ওস্তাদ।

চারিদিকে শুধু পাহাড় আর পর্বত। তারই ঠিক মাঝখানে কাক চক্ষু জল টেগের্নসী। আকাশের আঙ্গিনায় ঘাসফুল মেঘ এখানে ওখানে ছন্নছাড়া ভবঘুরের মত ভেসে বেড়াচ্ছে। ছোট্ট ফেরি যাত্রী নিয়ে খুব ধীরে এগোচ্ছে। কারোই কোনো তাড়া নেই। তবে আজকে বাতাসের খুব তাড়া। জলে ঢেউ ভাঙ্গিয়ে ছাড়ছে সাগরের আদলে। উইন্ডসার্ফিং করতে আসা লোকজনের পোয়াবারো। বাতাস ফুড়ে উজ্জ্বল লাল-নীল পাল উড়িয়ে ছুটছে তারা। টেগের্নসী জায়গাটা আসলেই সুন্দর।

৪.
আলো ছায়া লুকোচুরি খেলছে, এমন জায়গা খুঁজে চাদর বিছিয়ে বসে পড়লাম। সাথে সাথে শক্তিশালী আলসেমিটা ছেঁকে ধরলো। মনে হল, বনবন্ না ঘুরে আজকের দিন শুয়ে বসে এখানেই গড়িয়ে দেই না। মাথার ওপর চড়া সূর্যটাও যেন সায় দিয়ে বললো, ‘চিল ম্যান, চিল। এই রোদ্দুরে ঘুরে কাজ নেই।‘ মাঝ দুপুরের রোদকে ‘কুল ডুড’ মেনে তার উপদেশ আমরা মাথা পেতে নিলাম।

জায়গাটা নিরিবিলি। যদিও লোকজন একেবারে কম না। পাশেই এক বিকিনি সুন্দরী ফিতাবিহীন পিঠ মেলে রোদ পোহাচ্ছে। তার হাতে মেলে ধরা কোনো পেপারব্যাক। এমন ভঙ্গিমায় পড়লে ছাইপাশ র‍্যান্ডম বইও পাঠক টানতে বাধ্য। ঘটছেও তাই। কতগুলো বছর আঠারো-বিশের ছেলে-ছোকরা কাছেই তাস পেটাচ্ছে আর অস্থির চোখ তুলে বইয়ের নাম পড়তে চাইছে। কি আর করা, বয়সটাই যে জ্ঞান আহরনের।

বাচ্চারা সাথে করে খেলার সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। থলে উল্টাতেই ছোট বড় নানা কিসিমের ডাইনোসর বেড়িয়ে এল। সেগুলোকে ইচ্ছেমত চরতে দিয়ে তারা খড়কুটো জোগাড় করছে। উদ্দেশ্য, আগুন ধরিয়ে বন ফায়ারের আয়োজন। ফায়ারটা কোত্থেকে আসবে সেটা একটা ব্যাপার অবশ্য। দেখা গেল, আগুনের জন্যে পাশের ছোকরাগুলোর কাছে দেয়াশলাই চাইতে গিয়েছে। ওরা দিলো না, আর তাইতেই পাথর ছুড়ে মাথা ফাটিয়ে দিল। তখন তল্পিতল্পা তুলে ঝেড়ে দৌড় না দিয়ে উপায় থাকবে না আমাদের। (চলবে)




সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৬
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×