somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাওয়া ঘাটে ভ্রমণ--হাটাহাটি ও ছবি তোলা।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি সিনেমা রিভিউ লিখতে বেশ পছন্দ করি। আমারতো আবার আরেকটা শখ আছে আর সেটা হলো ঘন্টার পর ঘন্টা হাটাহাটি করা। তো বহুদিন ধরে প্ল্যান করেই যাচ্ছিলাম যে মাওয়া ঘাট যাবো। সময় হয়েই উঠছিলনা। অবশেষে গত শুক্রবার, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই চিন্তা করলাম মাওয়া ঘাট যাবো। হুট করে চিন্তা করে কাজ না করলে সম্ভব হবে না আর। ফ্যামিলির সবাই গিয়েছিল বনশ্রীর এক আত্মীয়র বাসায় তাদেরকে নামায় দিয়ে আমি রওনা হলাম। সকালে নাস্তা করি নাই তাই যাবার পথে CP থেকে একটা ললিপপ ও meatball কিনে খেলাম। ললিপপ বলতে বাচ্চারা যেই ললিপপ খায় সেটা নয়। এটি হলো চিকেন সসেজ এর মতো ললিপপ এর সাইজে বানানো মজার একটা খাবার। দাম ৪০ টাকা আর মিটবলের দাম ২৫টাকা। বনশ্রীর রাস্তার যে বেহাল দশা সেটা নিজ চোখে দেখলাম ও দেখার পর প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম।





গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছিল। আমার বেশ ভালো লাগছিল বৃষ্টির ভেতর হাটাহাটি করতে। পরে একটা বাসে উঠে পড়ে রামপুরা থেকে গুলিস্তান গেলাম। বাসে চড়লে নানা রকমের মানুষের সাথে দেখা হয় তাই হরেক রকমের মানুষ দেখার জন্য বাসে উঠা ভালো। গুলিস্তান নেমে আরাম পরিবহন পেলাম। বাসটার নাম "আরাম"। এই "আরাম" বাসে উঠে আরাম করতে করতে মাওয়া ঘাট গেলাম। ভাড়া নেয় ৭০ টাকা। বাসটি ভালোই লাগলো। এই বাসে এক পরিবারের প্রায় ১০--১২ জন সদস্য উঠলো। তারাও যাচ্ছে মাওয়া ঘাট। যাবার পথে কোন এক স্টপেজ থেকে এক আচারওয়ালা উঠলো। তারা সবাই মিলে আচার খেলো। কুলের আচার। কিছুক্ষণ পর বাসের ফ্লোরে তাকায় দেখি কুলের বিচিতে ভড়ে গিয়েছে। হা হা হা।



অবশেষে বাস যখন মাওয়া ঘাটে আসলো তখন বাজে দুপুর ২টা। মাওয়া ঘাট থেকে তখনও বাস প্রায় ৫--১০ মিনিট দূরে। আমি নেমে পড়লাম। হাটা শুরু করলাম। খুবই ভালো লাগছিল। সেইরকম জোড়ে জোড়ে বাতাস হচ্ছিল। বাতাসে আমার ছাতা উল্টায় গেলো। তা তে কি! আমি হাটতেই থাকলাম। একটা কথা বলে রাখা ভাল, মুন্সিগন্জ্ঞের অনেক বাড়ির নকশা এখই রকম। আমার কাছে খুব ভালো লাগে।





ঘাটে আসলাম, ঘাটে এসে ফেরীতে উঠলাম। স্পীডবোর্ড চলাচল করে ভাবলাম স্পীডবোর্ডে উঠবো কিনা। পদ্মা কিন্তু পুরাই ভাবে ছিল, মানে উত্তাল ছিল। ঝুঁকি আর নিলাম না। ইচ্ছে ছিল ঐপারে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে গিয়ে ঘুরাঘুরি করে আবার এদিকে আসা। ইনশা-আল্লাহ আরেকবার যাবো।



এরপর একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম। এখানে বলে রাখা ভালো আমি প্রায় ৪--৫টা হোটেলে গেলাম কোথাও ইলিশ পেলাম না। আর কি করার! কেচকি মাছ দিয়ে গরম ভাত খেলাম শেষমেষ। আদি কচুয়া বাগেরহাট হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খেলাম। সবাই ভাববে এতোদূর গেলাম সেই মাওয়া পর্যন্ত এই কেচকি মাছ খেতে!!! দয়া করে কেউ হাসবেন না!



এরপর আবার বাসে উঠলাম। ভাড়া সেই একই; ৭০ টাকা। গুলিস্তান নেমে পড়লা. একটি টঙের দোকানে চা খেয়ে নিলাম। বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছিল। এরপর উত্তরার উদ্দেশ্য রওয়ানা হওয়া আরেকটা বাসে আসলাম। আমার কাছে বেশ ভালই লাগলো আজকের এই ঝটিকা সফর। আশা করি এরপরের বার স্পীডবোর্ডে চড়ে ঐপারে যাবো কাওরাকান্দি বা কাঠালবাড়ি।



আজকের সফরের হিসাবটা দেই:

১) সকালের নাস্তা: CP থেকে ললিপপ, মিটবল ও পানি: ৮৫টাকা
২) বাসে করে রামপুরা থেকে গুলিস্তান: ২০টাকা
৩) গুলিস্তান থেকে মাওয়া ঘাট: ৭০টাকা
৪) মাওয়া ঘাটে দুপুরের খাবার: কেচকি মাছ: ১ প্লেট: ৯৫টাকা
৫) ভাত: ১৫টাকা
৬) পানি: ২০টাকা
৭) বাসে করে মাওয়া থেকে গুলিস্তান: ৭০টাকা
৮) চা: ৫টাকা
৯) বাসে করে গুলিস্তান থেকে উত্তরা: ৪০টাকা
১০) রিক্সা করে বাসা পর্যন্ত ভাড়া: ২০টাকা
সর্বমোট: ৪২৫টাকা
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০৮
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×