somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির ছাত্র অসন্তোষ ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

২৩ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২০ জুন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির কোনো ডিপার্টমেন্টেই ক্লাস হয়নি। হলগুলোতে ডাইনিং চার্জ আট টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করার প্রতিবাদে এদিন ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ছিল। অথচ অনেক ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রীরা ওই দিনও ডিপার্টমেন্টগুলোতে এসেছে, লাইব্রেরি-সেমিনার রুমে বসে পড়াশোনা করেছে, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের পরিবহনের জন্য নির্ধারিত বাসগুলো যথাসময়ে ক্যাম্পাসে এসেছে ও ক্যাম্পাস ছেড়ে গিয়েছে। আনুষঙ্গিক সব ঠিক থাকলেও ক্লাস কেবল হয়নি ওই দিন। এর ফলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস বিহীন একটি দিন কাটলো। নষ্ট হলো একাডেমিক ক্যালেন্ডারের একটি দিন। পাশাপাশি ক্ষতি হলো সরকারেরও।

প্রশ্ন আসতে পারে, সরকারের ক্ষতি কিভাবে?

দেশে বর্তমানে পাবলিক ইউনিভার্সিটির সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। অথচ এদের পেছনেই সরকারকে ব্যয় করতে হয় একটি বড় অংকের টাকা। মাসে ১০-১৫ টাকায় একটি স্টুডেন্ট পড়ালেখা করতে পারে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। যা অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে কল্পনাও করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে হলে দিতে হয় ন্যূনতম সিট ভাড়া। আর প্রতি বেলা খাবারের জন্য দিতে হয় সামান্য কিছু টোকেন মানি। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু বাড়লেও পাবলিক ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের বেতন বা হলের চার্জ বাড়ানো যায় না তাদের তীব্র অসন্তোষের জন্য। কারণ তারা কম পেতে পেতে সেটিকেই নিয়মে পরিণত করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুরও যে পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক এটিও তারা মানতে চায় না। অথচ একজন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টের কাছ থেকে প্রথমেই বিবেচিত ডিসিশনটি আশা সবাই করে।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ও সরকারের ভর্তুকি যাতে নির্দিষ্ট লেভেলেই থাকে, এ জন্য হলগুলোর ডাইনিং চার্জ আট টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। অথচ এই টাকা বৃদ্ধিকে ইসু বানিয়ে কিছু স্টুডেন্ট আন্দোলন শুরু করে গোটা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার পরিবেশকেই বিপন্ন করে তুলেছে। দুই বেলা খাবারের ৮ (৪+৪) টাকা সেইভ করাকেই এখন তারা প্রধান বলে মনে করছে। এসব স্টুডেন্ট হয় বাজারের দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে খোজ রাখে না, নয়তো তারা আন্দোলনের ইসুর জন্যই ইসু তৈরি করে।

পড়ালেখাটা এখন অনেকটা অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ছাত্রছাত্রীদের প্রচুর পরিমাণ রেফারেন্স ও আর্টিকল ফটোকপি করতে হয়, অ্যাসাইনমেন্ট কম্পোজ ও স্পাইরাল করতে হয়, আনুষঙ্গিক নানা বই কিনতে হয়। এসব খরচ যোগাতে অনেকেই টিউশনি বা অন্য কোনোভাবে ইনকামের ব্যবস্থা করছে। মানে পড়ালেখার জন্য তারা খরচ করতে দ্বিধা করছে না। দ্বিধা কেবল হলের ডাইনিং চার্জ চার টাকা বেশি দিতে। অথচ এ স্টুডেন্টই যখন পাশের কোনো হোটেল বা ক্যান্টিনে খেতে যাচ্ছে তখন কিন্তু একবারও প্রশ্ন তোলে না যে, খাবারের দাম এতো বেশি কেন? ১২ টাকায় যে খাবার হলের ডাইনিংয়ে সে খেতে পারবে তা বাইরের কোথাও খেতে দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি টাকা লাগে। এসব বিষয়কে হিসাবের মধ্যেই কেউ আনছে না।

নিজস্ব অর্থায়নে দেশের কোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটিই পরিচালিত হয় না। সরকারের ভর্তুকির ওপরই নির্ভর করতে হয়। বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেতন বা ডাইনিং চার্জ সমন্বয় না করলে বাড়তি অর্থের ভর্তুকি সরকারকেই দিতে হয়। অথচ এ বাড়তি অর্থ হয়তো সরকার অন্য কোনো সেবা খাতে ব্যয় করতে পারতো।

এসব বিষয় একজন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টের মাথায় রাখা উচিত। ভর্তি পরীক্ষার সময় ৫০ টাকার ফরমকে ৩০০ টাকা করা হলে অবশ্যই সেটি প্রতিরোধ করতে হবে। কিন্তু বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রাখার জন্য ডাইনিংয়ের চার্জ চার টাকা বাড়ানো হলে সেটি আন্দোলনের ইসু হওয়াটা নিশ্চয়ই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কেউ আশা করে না।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×