somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতির অধ্যায় সূচনা করেছে

০৬ ই মার্চ, ২০১২ ভোর ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্ষমতা একজনকে কত অমানুষ করিতে পারে শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসে ইহারই একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত-- অলি আহাদ
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গত তিন বছরের শাসনামলে হামলা, মামলা, জেল, জুলুম ও নির্যাতনের যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে ইতিহাসে এর নজির নেই। দেশের কয়েদখানাগুলোতে এখন ধারণ-ক্ষমতার দশগুণেরও বেশি কয়েদী অবস্থান করছেন এবং এর অধিকাংশ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মী। বন্দীদের প্রতি সরকারের অসদাচরণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তার পিতার নেতৃত্বাধীন ১৯৭২-৭৫ এর সরকারকেও অতিক্রম করে গেছেন বলে অনেকে মনে করেন।

রাজনৈতিক দলটিকে এখন তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেয়া হচ্ছে না। এর কেন্দ্রীয় দফতর কোনও প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। মহানগরীসহ জেলা উপজেলা অফিসসমূহেরও স্বাভাবিক তৎপরতায় বাধা দেয়া হচ্ছে। জামায়াত নেতাকর্মীরা এখন নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। জেলখানায় কয়েদী কার্ডের উপর লাল কালি দিয়ে ‘জামায়াত-শিবির' লিখে দিয়ে সর্বত্র তাদের বিশেষ হয়রানির শিকার বানানো হচ্ছে। আদালত থেকে জামিন পাবার পরও জেল গেট থেকে গোয়েন্দারা তাদের ডিবি অফিসে ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন মামলা দিয়ে আবার আদালতে চালান দিচ্ছে। যাদের ভাগ্য ভাল তারা জামিনে বাড়ি ফিরে আসছেন নতুবা আবার জেলখানায় ফিরে যেতে হচ্ছে। রিমান্ডের নামে নির্যাতন-নিপীড়ন শুধু নতুন ইতিহাসই সৃষ্টি করেনি ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মী, পুলিশ কনস্টেবল এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রশস্ত রাস্তাও তৈরি করে দিয়েছে।

১৯৭৪ সালের ৩০শে জুন বিশিষ্ট রাজনীতিক ভাষাসৈনিক জাতীয় লীগ প্রধান জনাব অলি আহাদ বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি মুক্তি পান। তার ঐ কারা-জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জনাব অলি আহাদ তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫-এর ৮৯ পৃষ্ঠায় একটি বিরল তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘নূরুল আমিন সরকারের কারাগার মন্ত্রী জনাব মফিজ উদ্দিন আহমদ কারাগার পরিদর্শনকালে আমাদের ৫ নং ওয়ার্ডে দেখা করিতে গেলে শেখ মুজিবুর রহমান বন্দীদের পক্ষে খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কিত অসুবিধার প্রতিকারের অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী মহোদয় মুজিব ভাইয়ের অনুরোধ মোতাবেক রাজবন্দীদের ১ম শ্রেণীর কয়েদির মর্যাদা ছাড়াও রাজবন্দীদিগকে অন্যান্য বিশেষ সুবিধাদানের নির্দেশ দেন। অতীব দুঃখের সহিত লিখিতে হয়, ১৯৭৪-৭৫ সালে মুজিব আমলে রাজবন্দী হিসেবে আমি প্রায়শঃ অর্ধাহারে কাল কাটাইয়াছি। কি শীত কি গ্রীষ্ম সব সময়ই বস্ত্র, তেল, সাবান, তোয়ালে, পাদুকা, খবরের কাগজ ও অন্যান্য নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য এমনকি রোগে ওষুধ হইতেও বঞ্চিত হইয়াছি। মুজিব সরকার নিজস্ব বাড়ি হইতে রন্ধন করা খাদ্য দূরে থাকুক এমনকি কাঁচা ডিম পর্যন্ত কারাগারে সরবরাহ বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। ১৯৪৮ সাল হইতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বৎসরের পর বৎসর কারাজীবন কাটাইয়াছি। এমন অমানুষিক দুঃসহ দৈহিক ও মানসিক কষ্ট আর কখনো পাইনি। ক্ষমতা একজনকে কত অমানুষ করিতে পারে শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসে ইহারই একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। জেনারেল আইয়ুবের শাসনামলে চার বৎসরের বেশি কারা-জীবন কাটিয়েছি। শেখ সাহেবের তুলনায় আইয়ুব ফেরেশতা ছিলেন।’’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে জেলখানায় বন্দীদের অবস্থা ও মর্যাদার আরো অবনতি হয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি রাজবন্দীদের হাতে হাতকড়া, পায়ে ডান্ডাবেড়ী এবং রিমান্ডের নির্মম ব্যবস্থাও চালু করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×