somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই পড়ার আনন্দই আলাদাঃ বেশী বেশী বই পড়ুন

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম যাবার সময় আমার ঝোলায় ছিল কথাশিল্পী মাহবুব রেজার দুইটি বই।অনেকদিন আগেই বই দুটো সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু নানান কারন ও সময়াভাবে পড়া হয়ে উঠেনি। ট্রেনের লম্বা জার্নিতে এক নি:শ্বাসে বই দুটো পড়া হলে ভাললাগা - মন্দলাগা নিয়ে কিছু লিখব লিখব করেও লেখা হয়ে উঠেনি। রাতে বাসায় ফিরে খেলা দেখবো না বলেই একটু সময় মিলে যাওয়ায় নিজের অনুভুতিটুকু লিখলাম।


প্রথমে বলি " যখন আমি বড় হয়ে উঠছি" উপন্যাসটি নিয়ে। পুরানো ঢাকার বসুবাজার লেনের এক হিন্দু পরিবারের দেশভাগের পর বাস্তুভিটা ছেড়ে যাবার হদয়বিদারক কাহিনী নিয়ে উপন্যাসের শুরু।ঢাকা জজকোর্টের মুহুরী ক্ষমাদাস চক্রবর্তীর বহুসাধের, স্বপ্নের বাড়ি ছেড়ে যাবার রক্তক্ষরণ, পড়শী আজিজ সাহেবের কাছে সস্তায় নামমাত্রমুল্যে বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত, লেখকের বয়ানে বসুবাজার লেনে বেড়ে উঠা জীবন ও পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে মধ্যবিত্তের গল্পই এ উপন্যাসের উপজীব্য। মেদহীন ঝরঝরে গদ্য , সাবলীল বর্ননায় এককথায় চমৎকার একটি উপন্যাস পড়লাম।
" যখন আমি বড় হয়ে উঠছি" পড়তে পড়তে হারিয়েছি ষাট, সত্তুর দশকের পুরান ঢাকার আবহে, তখনকার জীবনাচরনের কাছে।ভাল লাগার মতনই একটি উপন্যাস।
বইটি প্রকাশ করেছে সিঁড়ি প্রকাশন।


দ্বিতীয় বইটি " সব গল্পই পুরান ঢাকার"। ১০ টি চমৎকার গল্পের সংকলন এটি। ' রঞ্জুদেরবাড়ি , বেহালা, আমি তোমার বন্ধু হতে চাই, আমাদের বাবা মা, ২৪ বসুবাজার লেন , একজন খুব একাকী ' গল্পগুলো মনের গভীরে আচড় কাটেনি শুধু বারবার নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত করেছে । আহা আমাদের হারিয়ে যাওয়া কৈশোর কি দুর্দান্তই না ছিল ! টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া মধ্যবিত্তের জীবনের খন্ড খন্ড চিত্রগুলো লেখক পরম মমতায় চিত্রিত করেছেন। এই বইটির ' ২৪ বসুবাজার লেন , বাবার কিছু চিঠি'' পড়তে পড়তে মাঝেমাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে উঠেছে । বই পড়া শেষে দীর্ঘসময় ভেবেছি, নির্বিকার দৃষ্ঠিতে জীবনকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখার চোখ ক'জনের আছে? লেখকের এ দৃষ্ঠি পাঠকের হ্রদয়কেও ভীষন রেখাপাত করে,খানিক সময় ভাবায় । রেখাপাত ফেলার এই শক্তিটুকু সব কলমের মধ্যে নেই , লেখনীতে নেই, যা মাহবুবের আছে।
বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৫
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×