somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আষাঢ়ে গল্পঃ সুখী মানুষ

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আকবর আলি ছাই দিয়ে দাঁত মাজে, পান খায় গাবের বিচি দিয়ে। পানটা তার আম গাছেই হয়—গুয়ার বাড়ি ধুয়া হয় মনে করে সুপোরি লাগায়নি। টাকা খরচের ভয়ে অসুখের চিকিৎসা না করালেও বাঁচার আকুতি অতিশয়। জ্বর-জারি হলে দোয়া-দরূদ পড়তে থাকে; এবং কাজ দেয়। অবশ্য স্ত্রীর বক্তব্য ‘অসুখ-বিসুখ ভাবে এই খাটাসের ট্যাঁক থেইকা কোনও টাকা বাইর করা যাবে না—তাই হাল ছাইড়া পালায়।’

আকবর আলি সব সময় কপাল কুঁচকে থাকে—এতে বেশ ফল দেয়—বন্ধু-বান্ধব চা খেতে চায় না। উল্টো তারা বলে ‘মনটা খারাপ নাকি? আসো এক কাপ চা খাও ফ্রেশ লাগবে।’ সে খুশি হয় পাশে গিয়ে বসে। ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরে না—আকবর আলির জমি বাড়ে—স্ত্রী বাজারের কথা ভুলে যায়। সব কাজেই স্ত্রীর খুঁত ধরে আকবর আলি—নয়ত সে পেয়ে বসবে, পেঁয়াজের খরচ বাড়িয়ে দেবে।

সকালে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। রুচি তৈরির সময় দেখে আটা শেষ।
‘বাবা যা তো দুই কেজি আটা নিয়ে আয়। তোর বাপের রুটি হবে না।’
‘আমি যাইতে পারব না। ওরা বাকি দিতে চায় না।’
আকবর আলির বকেয়া আদায় করতে পাওনাদারের জীবন ফাতাফাতা হয়ে ওঠে। অনেক জোরাজুরিতে ছেলে বিরস বদনে দোকানে যায়।

খেতে বসে আকবর আলি। আজ শহরে যাবে। রুটিতে কামড় বসিয়ে খিঁচিয়ে ওঠে ‘রুটিটা যদি ঠিক মত বানাতে শিখেছ!’
স্ত্রী জানে স্বামীর প্রতিদিনকার বদ-অভ্যেস, ভ্রুক্ষেপ করে না।
‘আমাকে কি বিড়াল, কুকুর মনে করো...’
‘কাকাতুয়া...’
‘মুখ সামলাইয়া কথা কও! আমার বয়স কি এত বেশি যে কাকা কও?’
‘তাইলে দুধের বোতল ভইরা দেই?’
‘তোমার বাপ-মায়ে কিচ্ছু শিখায় নাই। কোনও কিছুই ঠিক মত পারো না। আমার বিয়া করাই ঠিক হয় নাই।’
‘হ, জানো তো ঐ একখান কথা! সব থুয়া বাপের বাড়ি যামু গা...!’
‘তা যাও, কয়দিন ঘুইরা আসো গিয়া। কবে যাইবার চাও?’
‘তোমার মত বেহায়া মানুষ আমি জীবনে দেখি নাই! কয় দিন একটু বেড়াইতে যামু, সেই জো নাই—গিয়া হাজির হইব... তোমার জ্বালায় বাপের বাড়িও বন্ধ...’
‘ভাল-মন্দ খালি তুমিই খাইবা? তোমার পিছে পিছে না গেলে কোনওদিন দাওয়াত দেয় নাকি? সবাই বছরে কতবার শ্বশুর বাড়ি বেড়ায়, আর আমি... কঞ্জুস বুইড়া...’
‘বাজানরে গালি দিবা না কইলাম! তোমারে দিব দাওয়াত! কোনও দিন কিছু নেও নাকি? তোমারে দেইখা বাজান শরম পায়! সব যখন জানবার চায় ধনি জামাই কী আনল? কিছু জবাব আছে?’
‘মিছা কথা কইবা না কইলাম! গতবারের আগেরবারের আগেরবার বিশ টাকার কটকটি নিয়া গেলাম না?’
‘হ বিশ টাকার কটকটি দিয়া আর কত বছর দাওয়াত খাইবা? ছেঁচ্ছর একটা...!’

এক টুকরো রুটি মুখে পুরে আবার খিঁচিয়ে ওঠে।
‘আচ্ছা এগুলা তুমি কী বানাইছ! নিষ্কর্মা একটা...!’
‘চুপচাপ খায়া নেও, বেশি কথা কইলে তাড়াতাড়ি হজম হয়া পেট খালি হইব।’
‘খাওয়া গেলে না খামু—সব উলটায়া আসছে!’
‘আচ্ছা প্রত্যেক দিন একই কথা কইতে তোমার হয়রান লাগে না?’

সদর দরজা দিয়ে কেউ ঢুকল মনে হয়। চাচি বলে ডাক দিল। বারান্দায় এসে মশা বলল ‘চাচি একটা ভুল হয়া গেছে... সবুর ভাইয়ের হাতে বানাইনা সাবানের গুঁড়ার বস্তা থেইকা দাদি ভুলে আটা মনে কইরা দিয়া দিছে...’
‘হায় হায় কস কী!’
‘আরে না মশা! অন্য কাউরে দিছে। মোমেনা তুমি ঐগুলা দিয়াই রুটি বানাইছো না?’
‘হ্যাঁ, আগের খানিক ছিল মিশায়া...’
‘অন্য কেউ নিছে খুঁইজা দেখ। এই তো খাইতেছি, সাবানের গুঁড়া কি খাওয়া যায়!’ গপাগপ রুটি গিলতে থাকে আকবর আলি। মশা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে।
‘পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুই কেজি আটার দাম দিয়ে দাও মোমেনা।’
মশা কাঁচুমাচু হয়ে আটার দাম নিয়ে বিদায় হয়।
আকবর আলি স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বোয়াল মাছের মত একটা হাসি দেয়। হাতের পাঞ্জাবিটা স্বামীর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে রান্না ঘরে যায় মোমেনা।
আকবর আলির বুকটা সুখে ভরে ওঠে।

ছবি - গুগল থেকে তালিমারা
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×