মুজাহিরুল হক রুমেন
বার্তা২৪ ডটনেট
ঢাকা, ৯ অক্টোবর : একদিকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নি¤œ আয়ের মানুষকে কম দামে বিদ্যুৎ দিয়ে বেশি ব্যবহারীদের চার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা, আরেকদিকে বেশি আয়ের ভোক্তাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার প্রস্তাবকে স্ববিরোধী অবস্থান বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সরবরাহে বৈষম্য বৃদ্ধির এ পরিকল্পনায় অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নেয়ার আশংকা করেছেন তারা।
সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও শহরের চেয়ে গ্রামের ভোক্তারা বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ পাচ্ছেন অনেক কম। অপরদিকে জেলা শহরের তুলনায় নগরসমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহের পার্থক্যও অনেক।
আবার রাজধানীসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে অভিজাত এলাকার সাথে অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বৈষম্য গ্রাহকদের মধ্যে এমনিতেই অসন্তোষ তৈরি করছে। এরপর আবার রাজধানী অভিজাত এলাকার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের সুপারিশ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন তারা।
গত ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন’র (বিইআরসি) কাছে বিদ্যুৎ এ সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাব দাখিল করে। প্রস্তাবানুযায়ী ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের জন্য খরচ করতে হবে সাধারণ হারের তুলনায় চার গুণ বেশি।
এক্ষেত্রে ৪০০ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৪ টাকা ১০ পয়সা, ১১ কেভি লাইনের জন্য ১৪ টাকা, ৩৩ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৭০ পয়সা, ১৩২ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২৩০ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৪০ পয়সা করে দিতে হবে।
আগামী ২৪ নভেম্বর বিইআরসি’র গণশুনানির মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞানী ড. পিয়াস করিম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্র কর্তৃক সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দেশে যেখানে অধিকাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা যায়নি, সেখানে বিশেষ শ্রেণীর জন্য করা এ ব্যবস্থা মানবাধিকার পরিপন্থি। নাকাল বিদ্যুতের এই পরিস্থিতিতে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে পিডিপি’র প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম বার্তা২৪ ডটনেট’র সাথে বিষয়টি বৈষম্যমূলক স্বীকার করলেও সার্বিক পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বেনা বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এ বিশেষ সেবার জন্য বিশেষ লাইন করতে হবে। এটা শুধুমাত্র ঢাকা শহরের কোনো অভিজাত এলাকার জন্য করা হবে। ফলে এর প্রভাব সারা দেশে পড়বেনা।
সারা দেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আবাসিক গ্রাহকদের (১ থেকে ১০০ ইউনিটের জন্য) প্রতি ইউনিটের জন্য দিতে হয় দুই টাকা ৯৪ পয়সা। কিন্তু একই বিদ্যুতের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গ্রাহকদের দিতে হয় দুই টাকা ৬০ পয়সা।
সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পিডিবির রংপুর বিভাগের রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার পিডিবির আওতাধীন দুই লাখ ৪১ হাজার ৯৬০ জন গ্রাহকের জন্য ২১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
কিন্তু এর তিনগুণ বেশি পল্লী বিদ্যুতের ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৪৩১ গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১২৩ মেগাওয়াট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার চেয়ে রামপুরা, বাড্ডা, মুগদাপাড়া, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, আদাবর, পুরান ঢাকা, মিরপুর এবং শহরতলিগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি।
বৈষম্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সমান তালে দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় লোডশেডিং-মুক্ত হলেও মিটফোর্ড হাসপাতালে লোডশেডিং করা হয়। আবার মহাখালী এলাকার আইসিডিডিআরবি, বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালগুলোতেও লোডশেডিং হয়।
উল্লেখ্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও ব্যক্তি বিবেচনায় বেশ কিছু স্থানে লোডশেডিং দেয় না ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডিপিডিসি)। এর মধ্যে আছে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, হাইকোর্ট ভবন, মন্ত্রী পাড়া, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা-মেঘনা, সংসদ ভবন, সচিবালয়, বিদ্যুৎ ভবন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


