somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈষম্যমূলক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, সহিংসতার আশঙ্কা

০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুজাহিরুল হক রুমেন
বার্তা২৪ ডটনেট
ঢাকা, ৯ অক্টোবর : একদিকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নি¤œ আয়ের মানুষকে কম দামে বিদ্যুৎ দিয়ে বেশি ব্যবহারীদের চার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা, আরেকদিকে বেশি আয়ের ভোক্তাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার প্রস্তাবকে স্ববিরোধী অবস্থান বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সরবরাহে বৈষম্য বৃদ্ধির এ পরিকল্পনায় অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নেয়ার আশংকা করেছেন তারা।

সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও শহরের চেয়ে গ্রামের ভোক্তারা বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ পাচ্ছেন অনেক কম। অপরদিকে জেলা শহরের তুলনায় নগরসমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহের পার্থক্যও অনেক।

আবার রাজধানীসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে অভিজাত এলাকার সাথে অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বৈষম্য গ্রাহকদের মধ্যে এমনিতেই অসন্তোষ তৈরি করছে। এরপর আবার রাজধানী অভিজাত এলাকার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের সুপারিশ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন তারা।

গত ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন’র (বিইআরসি) কাছে বিদ্যুৎ এ সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাব দাখিল করে। প্রস্তাবানুযায়ী ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের জন্য খরচ করতে হবে সাধারণ হারের তুলনায় চার গুণ বেশি।

এক্ষেত্রে ৪০০ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৪ টাকা ১০ পয়সা, ১১ কেভি লাইনের জন্য ১৪ টাকা, ৩৩ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৭০ পয়সা, ১৩২ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২৩০ কেভি লাইনের জন্য ১৩ টাকা ৪০ পয়সা করে দিতে হবে।

আগামী ২৪ নভেম্বর বিইআরসি’র গণশুনানির মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞানী ড. পিয়াস করিম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্র কর্তৃক সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দেশে যেখানে অধিকাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা যায়নি, সেখানে বিশেষ শ্রেণীর জন্য করা এ ব্যবস্থা মানবাধিকার পরিপন্থি। নাকাল বিদ্যুতের এই পরিস্থিতিতে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে পিডিপি’র প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম বার্তা২৪ ডটনেট’র সাথে বিষয়টি বৈষম্যমূলক স্বীকার করলেও সার্বিক পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বেনা বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ বিশেষ সেবার জন্য বিশেষ লাইন করতে হবে। এটা শুধুমাত্র ঢাকা শহরের কোনো অভিজাত এলাকার জন্য করা হবে। ফলে এর প্রভাব সারা দেশে পড়বেনা।

সারা দেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আবাসিক গ্রাহকদের (১ থেকে ১০০ ইউনিটের জন্য) প্রতি ইউনিটের জন্য দিতে হয় দুই টাকা ৯৪ পয়সা। কিন্তু একই বিদ্যুতের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গ্রাহকদের দিতে হয় দুই টাকা ৬০ পয়সা।

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পিডিবির রংপুর বিভাগের রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার পিডিবির আওতাধীন দুই লাখ ৪১ হাজার ৯৬০ জন গ্রাহকের জন্য ২১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

কিন্তু এর তিনগুণ বেশি পল্লী বিদ্যুতের ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৪৩১ গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১২৩ মেগাওয়াট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার চেয়ে রামপুরা, বাড্ডা, মুগদাপাড়া, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, আদাবর, পুরান ঢাকা, মিরপুর এবং শহরতলিগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি।

বৈষম্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সমান তালে দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় লোডশেডিং-মুক্ত হলেও মিটফোর্ড হাসপাতালে লোডশেডিং করা হয়। আবার মহাখালী এলাকার আইসিডিডিআরবি, বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালগুলোতেও লোডশেডিং হয়।

উল্লেখ্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও ব্যক্তি বিবেচনায় বেশ কিছু স্থানে লোডশেডিং দেয় না ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডিপিডিসি)। এর মধ্যে আছে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, হাইকোর্ট ভবন, মন্ত্রী পাড়া, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা-মেঘনা, সংসদ ভবন, সচিবালয়, বিদ্যুৎ ভবন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×