somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলোচ্ছ্বাস ১৯৭০চোখের জল মিশে গেছে জলোচ্ছ্বাসের জলে

১১ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মুজাহিরুল হক রুমেন॥
১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর । মনপুরায় তখন বেড়ী বাঁধ নেই। নুরুল ইসলামের বয়স তখন ৮ বছর। অতি চঞ্চল নুরুল ইসলামের শখ ছিল গাছে গাছে ঝুলে বিভিন্ন ফল খাওয়া আর বাতাসে দোলা। মায়ের বকুনি কিংবা মার কিছ্ইু তাকে ফেরাতে পারতোনা গাছে ঝোলা থেকে। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। মা যতোই বকুক সে মায়ের এক বিশেষ আদর ঠিকই বুঝতো। ১৯৭০ সালের ভয়াল ১২ নভেম্বর দক্ষিনাঞ্চলের প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ে নুরুল ইসলামের সেই সখ- গাছে ওঠা’ই জীবন বাঁচাতে কাজে লেগেছে বলে তিনি জানান।

১২ নভেম্বর রাতের সেই দুঃসহ স্মৃতি স্মরণে এখনও শিউরে ওঠেন নুরুল ইসলাম। মনে পড়ে- মায়ের হাতের সেই গরম পিঠা খাওয়ার আমেজ। ভাই বোনদেও সাথে পিঠা আগে নেয়া পড়ে নেয়া নিয়ে হইহুল্লর।

তিনি জানান, দুপুরে বড় বোন বিবি ফাতেমা হঠাৎ করেই কান্না শুরু করে ‘বইন্নায় কেউ বাইচবো না, বাইচবোনা’ বলে। ফাতেমার কান্না দেখে পাশের ঘরের মানুষ হাসাহাসি করে। মা ফাতেমাকে কান্না থামাতে ধমক দেয়। তখন কেউই বুঝতে পারেনি কি হতে যাচ্ছে।

১১ নভেম্বর দুপুর একটার দিক থেকে আকাশ কিছুটা অন্ধকার হয়ে বাতাস শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে বাতাসের তীব্রতা বাড়ে। বিকালে বেশ ঝড়ো হওয়া শুরু হয়।

বাবার সখের কারনে মা মাঝেমধ্যেই পিঠা বানাতো। দিনের সব কাজকর্ম সেরে সন্ধার পর শুরু করতো পিঠা বানানো। সেই রাতেও মা চেতোই পিঠা বানিয়েছিল। রাত ৯ টার দিকে নারিকেল গুড় দিয়ে পিঠা খায় ঘরের সবাই একসাথে বসে। রাত ১২ টার দিকে ঘরের দরজা খুলে দেখে- ঘরের ঢিবির অনেকটাই পানিতে ডুবে গেছে।

তারপর দ্রুত গতিতে পানি বাড়তে থাকে। রাত ২টার দিকে ঘরের চালা ডুবে গেলে নুরুল ইসলামকে জোয়ারের পানি ভাসিয়ে নিয়ে চলে। স্রোতের মুখে থাকা অবস্থায় এক সময় একটি নারিকেল গাছ ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, ‘অ্যাই পানিত থাইকতাম হারিনা (পারিনা)। আই গাছে উডি যাই।’ তিনি জানান, গাছে ওঠার পর পানি আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে গাছের মাথার উপর দিয়ে পানি বইতে শুরু করে। এক একটা ঢেউয়ের ঝাপটায় গাছের পাতা জাপটে ধরে কোন রকমে টিকে ছিলেন। বাবা-মা সবার কথা মনে করে বারবার কান্না আসছিল। নুরুল ইসলামের সেই চোখের জল বার বার মিশে গেছে জলোচ্ছাসের তীব্র গতির জলে।

তিনি জানান, রাত ৪টার দিকে আকাশ হালকা দেখা যায়। এরপর আধা ঘন্টার মধ্যে পানি অনেক কমে যায়। ভোরের আলো স্পষ্ট হয়ে উঠলে সে নিচে নেমে দেখে পানি কোমড় বরাবর। এর মধ্যেই হেটে হেটে খুঁজতে থাকে আপনজনদের। দূর- দূরান্তের অপরিচিত সব মানুষকে আশেপাশে মরে পড়ে থাকতে দেখে। কাঁদতে কাঁদতে ‘মা’ ‘মা’ বলে ডাকতে ডাকতে খুঁজতে থাকে মাকে।

সেদিন ছিল শুক্রবার। সকালের আলো আসার পর আর পানি ছিলনা। নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাইত আয়া বাবারে পাইলেও মারে আর পাই নাই’ অনেক খোঁজাখুজির পর বড় ভাই শাহে আলমকে (১৫) কড়াই গাছের মাথায় আটকে থাকতে দেখা যায়। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় গাছ থেকে দড়ি বেঁধে নামানো হয়। অনেক খোঁজাখুজির পরও তিন ভাই, দুই বোন ও মাকে আর পাওয়া যায়নি।
[email protected]
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×