somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই সমাজ, এই দেশ

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসের পিয়ন নাজিম কয়েকদিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গেছে। এ কারণে অনেকের মতো আমারও চা খাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। অথচ আট ঘণ্টায় কমপক্ষে তিন-চারটা চা না খেলে আমার চলে না। আবার এমন সমস্যা যে, বানাতে যাওয়ার মতো সুযোগ সবসময় জোটে না।

কম্পিউটারের প্রাথমিক সমস্যা সারানোর জন্য বেলায়েত ভাই আছেন, উনি চা বানান একবেলা। নাস্তা আনার কাজও উনি করেন। চা-নাস্তা শেষে কাপ-পিরিচ যেন সবাই পরিষ্কার করে রাখেন; সেজন্য বারবার অনুরোধ করেছেন তিনি। কিন্তু তার অনুরোধে কাজ হয়নি। শেষে এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বাকী ভাই সশরীরে এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উপর্যুক্ত কাজ ঠিকভাবে সম্পন্নের নির্দেশনা দিয়েছেন। দেখলাম, যে লাউ সেই কদুই।

টেবিল, এমনকি ওয়াশরুমের যাচ্ছেতাই অবস্থা! টিস্যু বা অন্যান্য জিনিস ফেলে নিজেদের টেবিলও নোংরা করে রাখেন অনেক কর্মী। পিয়ন নাজিম আগে থেকেই সবাইকে বলত। কিন্তু কে কার কথা শোনে? এখানে কর্মরত সবাই মাস্টার্স পাশ, চাকরি করেছেন অনেক প্রতিষ্ঠানে।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রাথমিক ধারণাটুকু তো সবার থাকার কথা। কেউ তো খেত্ থেকে উঠে আসেননি, যদি উঠে আসেনও বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশে ‘কমনসেন্স’ অর্জন করা তো কঠিন কিছু না।

এ তো কেবল একটা মাত্র অফিস; মাত্র ৩০-৩৫ জন্য কর্মী এখানে কাজ করে। এদের প্রত্যেকের কাজটুকু যথাযথভাবে করিয়ে নিতে গেলেওও কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। দশ মিনিটের কাজ চল্লিশ মিনিটে করেন অনেকে। যারা খাটেন বেশি, তাদের ওপর খবরদারিও বেশি চলে। এখন তো যুগটাই এমন যে কাজের চেয়ে তেলবাজির মূল্য বেশি।

আমরা যারা সমাজ পরিবর্তনের কথা ভাবি, দেশের উন্নতি চাই- সেই কাজগুলো কীভাবে সম্ভব? আমরা কি নিজেদের পরিবারকে যথাযথভাবে চালিত করতে পারি? নানা মুনির নানা মত্। এক মতকে প্রাধান্য দিলে অন্য মতাদর্শীরা করেন গোস্বা।

রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিও তো আমাদের দৃষ্টি এড়াচ্ছে না। মতের অমিল হওয়ায় একজন দল ত্যাগ করে অন্য দলে যাচ্ছেন। সমঝোতা নেই। হবে কেমনে? আবার সমঝোতা না হওয়ার ঝামেলাও তো কম না। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হচ্ছে।

একজন আমাকে বলছিল, কী ব্যাপার? কোনো ব্যাপারে মত্ দেন না কেন? আমি বললাম, কী হবে আমার মতামতে? আমার মত্ কি কারও পছন্দ হবে? না হলেই তো আমি খারাপ হয়ে যাব। নিজে এমনকি পরিবার পড়বে বিপদে। সবাই তো নিজে বলতে চায়, অন্যের মতাদর্শের ধার ধারে না।

শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে তো পড়ালেখা নেই। আট বছর ছিলাম বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে। দেখেছি ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দিতে অভিভাবকদের কত তোড়জোর, প্রতিষ্ঠানও জোরজবরদস্তি করেছে। এমনকি প্রশ্নফাঁসের জন্য কত প্রলোভন! ‌এসব তো আমার ধাঁতে নেই, তাই আমি ভালো না। একটা-দুটো টিউশনি জোটাতেও জান গেছে। যারা অভিভাবকদের খুশি করতে পেরেছে তাদের টিউশনির অভাব নেই।

এদিকে মত্ না দিয়েও যে শান্তি আছে, তাও কিন্তু না। নগর পুড়লে দেবালয় কি এড়ায়? যে ছেলে নকল করে পাশ করেছে তার ভবিষ্যৎ কী? কর্মক্ষেত্রের কথা বাদ; সে যাই করুক, সবখানে অসদুপায় খুঁজবে। দুর্ভোগ তার পরিবার তো পোহাবেই, সমাজও পুড়বে। এই যে সমাজে মান্যতা নেই, শ্রদ্ধা-ভক্তি নেই- এগুলো কি অশিক্ষা-কুশিক্ষার ফল না? সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গেলে কত ভোগান্তি অথচ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চটজলদি সেবা। কেন? মানুষ তো একই দেশের, একই ভাষার।

যে ধর্ম বিশ্বাস করে না, বা ভিন্ন ধর্মের, অথচ সে একটা ধর্মের পক্ষে বিপ্লব করছে। আবার যে মেয়ে ধর্মকর্মে মনোযোগী না, সে ধর্মীয় রাজনীতি করছে। কেন করছে এসব? নীতি-নৈতিকথার স্বার্থে? মোটেই না। এখানে ধান্ধা আছে। তাই করে টাকা-পয়সা কামিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। দেশকে তো কেউ ভালোবাসে না।

এসব করেই চলছে সমাজ, দেশ। সমূলে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত জাতি ঠিক হবে না।

ছবি
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

?

লিখেছেন স্প্যানকড, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৭



ছবি নেট



কবে যে ছুঁয়েছি বিষের পেয়ালা
ঠিক মনে নেই
তবে বিষ ছড়িয়ে গেছে সারা গায়
এ বেশ সকলে টের পায়।

কবে যে কাকে খেয়েছি শেষ চুমু
কবে যে কাকে বলেছিলাম ভালোবেসে
আয়,
একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

চ্যাটের পানি পেটে যায় চুমা দিলে জাত যায়

লিখেছেন আজব লিংকন, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৪


খেলবো কিন্তু হাত মিলাব না। মুরুব্বির একটা কথা মনে পড়ে গেল। একদিন মুরুব্বি কইছিলো, "চ্যাটের পানি পেটে যায় চুমা দিলে জাত যায়।" মুরুব্বিকে প্রশ্ন করেছিলাম, কথাটার মানে কি? তিনি বলেছিলেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫


ইসরায়েলের চাপ সত্ত্বেও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাচ্ছে না, কারণটা বোধহয় এতে আমেরিকার বেশি লাভ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, কাতার বা ওমান এ হামলার বিপক্ষে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ, এই দেশ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

অফিসের পিয়ন নাজিম কয়েকদিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গেছে। এ কারণে অনেকের মতো আমারও চা খাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। অথচ আট ঘণ্টায় কমপক্ষে তিন-চারটা চা না খেলে আমার চলে না। আবার এমন সমস্যা যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের বংশলতিকা সংরক্ষণ করা জরুরী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১২



উপরে যে ছবিটি দেখছেন, তা সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ)-এর আমলের, প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো। তিনি হযরত
শাহ জালাল (রহ)-এর সাথে সিলেট জয়ের সময়ে বাংলায় এসেছিলেন। তিনি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×