
যদ্যপি আমার গুরু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী আহমেদ ছফার একটি অসাধারন রচনা। ছাত্র ও শিক্ষকের কথোপকথন যে অনেক জ্ঞানগর্ভমূলক হতে পারে তা বইটি পড়লে বোঝা যায়। লেখক আহমেদ ছফার পিএইচডি গবেষনার সুত্রে পরিচয় হয় জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের সাথে। সমাজ , রাষ্ট্র ধর্ম, রাজনীতি, দর্শন ও সাহিত্যে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের পাণ্ডিত্য ছিল অগাধ । তিনি ছিলেন কিংবদন্তী একজন স্কলার। লেখক ও আব্দুর রাজ্জাক স্যারের আলাপচারিতায় উঠে এসেছে সমকালীন বিশ্ব, ইতিহাস, রাজনীতি, সাহিত্য ও দর্শন। তিনি নজরুল ও জসীমউদ্দিনের লেখার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নজরুল সমন্ধে বলেছেন বজ্র, বিদ্যুৎ আর ফুল এই তিনে নজরুল। আরেক সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদারের সমন্ধে বলেছেন তিনি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী কিন্তু জিহ্বা টা ভালো নয়, যাকে তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। কবি জসীম উদ্দিনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার জবাবে তিনি মোহিতলাল মজুমদার কে বলেছিলেন বাংলাসাহিত্যের ইতিহাস লেখা হলে জসীমউদ্দিনকে নিয়ে যদি এক অধ্যায় লেখা হয় তবে আপনাকে নিয়ে লেখা হবে চাইর লাইন। প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের বাণী কতটা সঠিক তা বর্তমানে আমরা জানি। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন তিনি আজীবন মুসলমানের টাকায় পড়াশোনা করে মুসলমানদের বিরুদ্ধেই লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমন্ধে বলেছেন তিনি বড়মাপের লেখক তবে বড়মনের মানুষ নন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে তিনি বড়মনের মানুষ বলে মনে করেছেন। রাজা রামমোহন রায় সমাজ সংস্কারক হিসাবে সর্বজনবিদিত তবে অধ্যাপক রাজ্জাক মনে করেন তার প্রধান কৃতিত্ব গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচনা করা।দেশবিভাগের পর উল্লেখযোগ্য কোন মৌলিক সাহিত্য কর্ম বা গবেষণা না করার জন্য তিনি ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমালোচনা করেছেন। বঙ্গীয় মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা উন্মেষ ঘটানোর জন্য বদরুদ্দীন উমরের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। এছাড়াও মার্কসীয় দর্শন, লেনিনের সমাজতন্ত্রবাদ ও রুশ বিপ্লব বিষয়ে তিনি অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মী ও বিচক্ষণ মন্তব্য করেছেন। উপমহাদেশের রাজনীতিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের তৎকালীন প্রেক্ষাপট ও আলোচিত হয়েছে তার কথোপকথনে। পরিশেষে বলা যায় আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক ঘটনার সুচিন্তিত মতামতের কারনে বইটিকে সামাজিক দলিল হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


