- আমার খানিক জল চাই
- তেষ্টা পেয়েছে খুব?
- না
- তাহলে?
- কান্না।
- কান্না পেলে জলের অভাব হয় নাকি?
- হয়। বুকের ভেতর দলা পাকানো জমাট কষ্ট থাকলে।
- কষ্টরাইতো কান্না হয়। জলও।
- হয়। কিন্তু কষ্টদের গলে যেতে হয়। গলে যেতে পারলে চোখের কোল বেয়ে জল হয়ে যায়।
- তো যাক। জলের অভাব তাহলে ঘুচল তোমার।
- না, ঘোচেনি।
- কেন?
- জমাট পাথরগুলো ভাঙ্গেনি যে! পাথুরে পৃথিবী গলেনি এক বিন্দুও।
- তাহলে?
- তুমিই গলিয়ে দাও।
- আমি? কিভাবে?
- ওই যে, আমার খানিক জল চাই। খানিক জল দাও।
- আমি জল পাবো কই?
- বুকের ভেতর।
- সবার বুকেই জল থাকে বুঝি?
- থাকে।
- কই? কখনও টের পাই নি তো। জলের তো শব্দও থাকে। কিন্তু এ তো নিঃশব্দ।
- নৈশব্দেরও শব্দ থাকে।
- কই? আমিতো শুনি নি!
- শুনতে চাও নি হয়তো। শুনতে চাইতে হয়।
- কিভাবে?
আমি এই কথার জবাব দেই না। উদাস চোখে তাকাই রাতের আকাশে। সেখানে ঝকঝকে কাঁসার থালার মতন মস্তবড় চাঁদ। আমি সেই চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকি। জোছনার দিকে। থইথই জোছনায় ভেসে যাওয়া অবাক চরাচর। আমি ফিসফিস করে বলি, 'হাতের ভেতর হাত থাকতে হয়, চোখের ভেতর চোখ, তাহলে নৈশব্দেও শব্দ থাকে, ভাষা থাকে, গল্প থাকে, কথা থাকে। অনেক কথা। অনেক'।
সে কি ভাবল কে জানে, সম্মোহিতের মতন আমার হাত ছুঁয়ে দিল। চোখের ভেতর চোখ রাখল। সেই চোখ জুড়ে জল কিংবা জোছনারা। অবাক নৈশব্দে স্থির জল অথবা জোছনা। আমি সেই জল জোছনা ছুঁয়ে যেন সমূলে কেঁপে উঠলাম। বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত ঝড়ে ওলটপালট হয়ে গেলো নীল কষ্টের পাথুরে পৃথিবী। জমাট বাঁধা নীল নীল কষ্ট। ওরা শেষ অবধি জল হলো।
আমি সেই জল ছুঁয়ে তাকালাম। তার জল থই থই চোখে। সেখানে নৈশব্দেও শব্দ আছে। ভাষা আছে। অবাক জলের ভাষা।
আমরা সেই অবাক জলের ভাষায় তীব্র নৈশব্দেও পড়ে চলেছি পরস্পরকে।
------------------------------------------------------------------------
অবাক জলের ভাষা/ সাদাত হোসাইন
২০.০৩.২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




