
১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার রংপুর সুগারমিলের কাঁচামাল ইক্ষু চাষের জন্য আদিবাসি ও বাংগালী কৃষকদের ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি অ্যাকুয়ার করে। ফলে ১৫টি আদিবাসী গ্রাম এবং ৫ টি বাংগালী গ্রাম তাদের ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ হয়। সরকারের অ্যাকুয়ার চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যদি কখনো সরকার রংপুর সুগার মিল বন্ধ করে দেয় বা উক্ত জমিগুলোতে ইক্ষু ব্যতীত অন্য কোন ফসল চাষাবাদ করা হয় তবে সরকার জমিগুলো তার আসল মালিককে ফিরিয়ে দিবে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় ২০০৪ সালে সরকার উক্ত সুগার মিল দুর্নীতির কারনে বন্ধ ঘোষনা করলেও আকুয়ারকৃত জমিগুলো তাদের আসল মালিককে ফেরত না দিয়ে এলাকার ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নিকট ইজাড়া প্রদান করে। তখন থেকেই সেখানকার আদিবাসীসহ প্রান্তিক বাঙ্গালি কৃষক'রা তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি ফিরে পাবার জন্য বরাবরই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিল। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসন কখনই তাদের এ ন্যায্য দাবি আমলে নেয়নি। বরং গায়ের জোরে বারংবার উচ্ছেদের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে প্রতিরোধ হয়েছে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিষেষে গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ পুলিশ প্রশাসন মিলকতৃপক্ষ ইক্ষু কাটার নামে আদিবাসীদের বাড়ি-ঘরে, বিদ্যালয়ে আগুন লাগিয়ে উচ্ছেদ করতে গেলে এই সংঘর্ষ বাধে।
এত বড় ঘটনা অথচ দু'-একটি মিডিয়ায় সংক্ষিপ্ত খবর ছাড়া জাতীয় পর্যায়ের অধিকাংশ মিডিয়ায় তার ফলাও করে প্রচার নেই। এমনকি দেশের সুশীল সমাজেরও নেই তেমন কোন উচ্চ কণ্ঠ। তবে কি আমরা সবাই প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

