somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাজ্জাদ হোসেন হিরা
আমি প্রোফেশনাল ব্লগার না,nআমি তেমন ভালো লিখতেও জানি না।nআমি শিখছি কিভাবে লিখতে হয়।nআমি টেকনোলোজি ভালোবাসি,nআমি যতটুকু লিখি,nআমি সেটা নিয়েই লিখি,nআমি জানি আমি পারবো।nআমি একদিন পারবোই।

ফেসবুক , লাইক , কমেন্ট এবং আমাদের বিকৃত মস্তিস্ক

০১ লা আগস্ট, ২০১৫ ভোর ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হেলো সেমুবাসি আসসালামুআলাইকুম,
আমি সাজ্জাদ হোসেন হিরা , যদিও আমি প্রফেশনালি ব্লগার না বা, এতো ভালো লিখতেও পারি না তবুও লিখতে ভালো লাগে তাই মাঝে মাঝে লিখি।
আর যখন লিখি তখন সেমুতেই লিখি।
আমি সাধারনত প্রযুক্তি নিয়ে লিখতেই ভালোবাসি, তবুও আজ একটু ভিন্নভাবে লিখছি।
টপিকঃ ফেসবুক, লাইক, কমেন্ট ও আমাদের চিন্তাভাবনা।
তাহলে শুরু করা যাক,


ফেসবুক একটা সোসাল কমিউনিটি যা সারা বিশ্বকে একটি নেটওয়ার্ক এর মাঝে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এই যুগের লোক হয়ে ফেসবুক ব্যাবহার করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া নিতান্তই কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাবহার করুক বা না করুক দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মানুষের ই একটা করে ফেসবুক আইডি রয়েছে।
আজাকাল তো দেখছি যারা ফেসবুক বুঝে তারাও ফেসবুক ব্যাবহার করছে যারা ইন্টারনেট বুঝে তারাও ফেসবুক ব্যাবহার করছে।
শহর থেকে শুরু করে প্রত্তান্ত গ্রামগঞ্জে বসবাসকারী সবাই ফেসবুক ব্যাবহার করে।
যাইহোক ফেসবুকের ব্যাবহার বা বিস্তৃতি তেমন বলার কিছু নাই তা সবাই জানে, যেই বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম তার মুল কথায় চলে যাই...।

অনেককেই দেখা যায় তারা তারা স্টেটাস দেয়, যারা লাইক দেই না তাদের আনফ্রেন্ড
করে দিবো, ব্লক করে দিবো .... আরো অনেক কিছুই।
আচ্ছা, আমরা ফেসবুকের লাইক দেয়া বলতে কি বুঝি??
আমার স্টেটাস বা ছবিতে আমার একজন ফেসবুক বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী একটা লাইক দিলো বা কমেন্ট করলো,
এতে আমি কি বুঝলাম?
এর মানে কি উনি আমার ফেন্ডলিস্ট এ আছে বলে আমাকে লাইক দিতে বা কমেন্ট করতে বাধ্য?
মোটেই না, এর মানে হচ্ছে আমার লেখা স্টেটাস বা ছবিটা তাঁর কাছে ভালো লেগেছে তাই তিনি
লাইক দিয়ে বা কমেন্ট করে তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন যে তিনি আমার লেখার সাথে একমত।
তাঁর এই লাইক বা কমেন্টে আমি বুঝতে পারলাম আমার দেয়া ছবিটি বা পোস্টটি তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।
আর এই গ্রহণযোগ্যতাটা তৈরি করেছে আমার দেয়া স্টেটাস বা ছবিটি।
তাই আমাদের উচিত অযথা, "plz like me", "plz like my pix", "plz like my status",
"লাইক না দিলে আনফ্রেন্ড করে দিবো", "লাইক না দিলে ব্লক মারবো"
এই টাইপের মেসেজ বা স্টেটাস না দিয়ে ভালো কোন ছবি দেয়া বা পোস্ট করা, যার গ্রহণযোগ্যতা অন্য জনের কাছে আছে।
ভাই, আপু বা বন্ধু, দেখুন ভালো কিছুর মূল্য সবাই দেয়, আপনি যখন ভালো কিছু সবার উদ্দেশে দিবেন সবাই সেটার মূল্যায়ন করবে,
সেই ক্ষেত্রে আপনার কারও থেকে লাইক বা কমেন্ট চেয়ে নিতে হবে না, নিজে থেকেই দিবে।
আরেকটা কথা মনে রাখবেন স্টেটাসে ২০০, ৩০০, ৫০০ লাইক হলেই বুঝানো যায় না আমি একটা ছেলেব্রেটি, আমার গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছে আছে।
আপনি তো "অটোলাইক" দিয়ে অথবা "Add Me, Add Me" করে ফ্রেন্ড বৃদ্ধি করে প্রতি স্টেটাসে ২০০-১০০০ লাইক পেতে পারেন,
তার মানে কি আপনি ছেলেব্রেটি? সবার কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আছে?
মোটেই না, এতে এইটা কখনোই প্রমান করেনা যে আপনি একজন ফেসবুক ছেলেব্রেটি।
এইসব মেথড বব্যাবহার করে আপনি ২০০-৩০০ লাইক পেয়ে আপনি হয়তবা সাময়িক একটা প্রশান্তি পাবেন,
বা কিছু সময়ের জন্য আরেকজনকে বুঝাতে পারবেন আপনি ছেলেব্রেটি বা আপনার গ্রহণযোগ্যতা অনেকের কাছে আছে,
কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী, বালির বাধ বা মরিচিকার মতো কিছুদিন পর আর থাকবে না।
আর, "plz like me", "plz like my pix", "plz like my status",
"লাইক না দিলে আনফ্রেন্ড করে দিবো", "লাইক না দিলে ব্লক মারবো"
এইসব করা মানে নিজেকে মানসিক রোগি হিসাবে প্রমান করা বা ছোট মন মানসিকতার পরিচয় দেয়া।
আপনি কি ভাবেন, আপনি যদি কাওকে আনফ্রেন্ড বা ব্লক করেন সে কি আপনার জন্য ঠেকে যাবে?
মোটেই না, আপনি মনে রাখবেন আপনার গ্রহণযোগ্যতা তাঁর কাছে কখনও ছিলোও না আর ভবিষ্যতে নাও হতে পারে।
তাঁর চেয়ে ভালো, গুনগত কিছুর মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতাটা তাঁর কাছে তৈরি করুন।
মনে রাখবেন ফেসবুকের মাধ্যমে একজন মানুষের বেক্তিত্ব প্রকাশ পায়, সুতরাং এই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
ফেসবুক বা এর মতো সোশাল নেটওয়ার্ক গুলোর মাঝে নিজেকে পরিচিত করতে চাইলে নিজের ভালো কিছু গুনের মাধ্যমে নিজেকে সবার কাছে তুলে ধরুন, অসুস্থ মন মানসিকতা দিয়ে নয়।
আমার এই পোস্টটি কোন বেক্তি উদ্দেশে করা না, সুতরাং কেও নেগেটিভ ভাবে নিয়ে গায়ে মাখবেন না বলে আশা রাখছি।
আমার ৯৬১৪ বর্ণের, ৫২ লাইনের এই পোস্টটি যদি আপনার একটু হলেও পরিবর্তন করতে পারে তাহলে আমার নিজেকে সার্থক বলে মনে হবে।
সবাই ভালো থাকবেন আশা করি।



ফেবুতে আমি
আমার বেক্তিগত ওয়েবসাইট
- Sajjad Hossain Hira
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ ভোর ৬:২৭
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×