somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা..........(২)

০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(১)

'এই তোরা ক্লাসে যাবি না......'

তাকিয়ে দেখি সন্ত্রাসী নাঈমা। কিছু মানুষ আছে যাদের কপালে লেখা থাকে এর থেকে দশ হাত দূরে থাকুন। ওর ক্ষেত্রে মনে হয় একশ হাত লেখা আছে........
উত্তর না দিযে হাঁটা ধরলাম। অন্য কেউ হলে আলাদা কথা, কিন্তু এ হল নাঈমা.!!! জোঁকের মত লেগেই থাকল। এরপর যা বল্ল তাতে মনটাই খারাপ হয়ে গেল....'তোরা ত কাল আস্‌স নাই; সেইরকম মজা হইসে.....অগ্নিলার চুলে চুইংগাম লাগাই দিছিলাম.!!! তারপর ঢঙ্গিটার যা কান্না। আজকে দেখি আবার চুল কাটাই আসছে....ঢং....'
অগ্নিলার চুলের দিকে তাকিয়ে প্রায়ই উদাস হওয়া....আপাতত বাদ দিতে হওয়ার দু্ঃখে বুকটা ফাঁকা ফাঁকা ঠেকল....... :(


শারমিন আপা


ক্লাসে ঢুকে দেখি লাস্ট বেন্ঞ্চটা দখল হয়ে গেছে........ /:)

আজকের প্রথম ক্লাস বাংলা। নতুন একজন ম্যাডাম নাকি ক্লাস নিবে, কি জানি কেমন হয। শফিক স্যারের ক্লাস, আজব সব গল্প, ঐরকম ক্লাস কি আর কেউ নিতে পারে। স্যার যে কেন অবসর নিতে গেল..!!! একটুপরে অবশ্য যিনি ক্লাসে ঢুকলেন তাকে ম্যাডাম না হয়ে বড়আপু টাইপ হলে বেশি মানাত। চেহারায় কেমন জানি একটা স্নিগ্ধ ভাব আছে। কিন্তু বড়আপুরা ছোটভাইদের জীবন ভাজা ভাজা করে ফেলে। ঊনিও ঔ টাইপ হলে আমাদের জীবন শেষ। তবে, প্রথম যে কথাটা বলল তাতেই মন অর্ধেক ভাল হয়ে গেল.......

'আমার নাম শারমিন রহমান। তোমরা আমাকে শারমিন আপা ডাকতে পার। আর এখন থেকে আমি বাংলা ক্লাসে তোমাদের সাথে গল্প করতে আসব....'
হঠাৎ রাজিব বলে উঠল, 'কেন ম্যাডাম আমাদের পড়াবেন না....' মনে মনে ওর চৌদ্ধগুষ্ঠি উদ্ধার করলাম। সারাক্ষন পড়া আর পড়া...... X(
ম্যাডাম হেসে বললেন, 'তোমাদের সাথে যখন গল্প করব তখনই তোমাদের পড়া হয়ে যাবে....' আমরা ম্যাডামের সাথে সম্মতি জানালাম। রাজিবের মনে হয় ব্যাপারটা পছন্দ হয় নায়......

'আজকে যেহেতু আমি প্রথম এলাম; আজকে তোমরা গল্প বলবে, আমি শুনব......'
'কি গল্প ম্যাম..????' ক্লাসের পুতুপতু টাইপ একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করল।
'এই যেমন...তোমার, তোমার বন্ধুর....তোমাদের ক্লাসের গল্প.....'
সবাই চুপচাপ হয়ে গেল। ক্লাসে অনেক ঘটনাই ঘটে, কিন্তু এইসব নিয়ে গল্প কিভাবে বলতে হয় তা কারো জানা নায়.......

যথারিতি রাজিব হাত উঠাল। আমি বুজি না ক্লাসের ফার্স্ট হলেই কি সবকিছুতে হাত উঠাতে হয়.!!! ব্যাটা তুই তোর পডা নিয়ে থাক, গল্পের তুই কি বুঝিস.....শুধু শুধু গল্প শোনার মজাটা নষ্ট করার মানে কি..!!!! কিন্তু গল্পটা যখন বলা শুরু করল তখন তো আমার ধরনী দ্বিধা হও টাইপ অবস্থা.........


কাব্য বিড়ম্বনা


প্রতিদিনের মতই রিফাত স্যারের অংকের হোমওয়ার্ক জমা দিলাম। নিশ্চিন্ত মনে বসে আছি এমনসময় স্যারের ডাক শুনে একটু অবাকই হলাম.!!!(অংকে যে ভাল তা না। কিন্তু রুমকি আপুর করা অংক ভুল হওয়ার চান্সই নাই, তাই........ :P) সায়ান গাধাটা করুন চোখে আমার দিকে তাকালো। আমার ভুল হলে যে ওর ও খবর আছে........

কিন্তু স্যার যখন খাতাটা দেখালেন আমার তো চক্ষু চড়কগাছ (এই গাছটা কেমন কি জানি....) আমার মহান কাব্য প্রতিভা এই রসকষহীন সরল অংকের মাঝে কিভাবে..!!!!! স্যার বললেন 'এইটা কি..?' একে কবিতা তার উপর ক্লাসেরই এক বালিকার সৌন্দর্য্য বর্ননা করা..... :-*
কি আর করা। স্যারের হাতের বিখ্যাত কিছু থাপ্পর আর পুরো ক্লাস কান ধরে ক্লাসের বাইরে.... তাতেও চলত; বেইজ্জতি হল যখন স্যার ঐ বালিকাকে দিয়েই আমার কান......... :((

আর এই গল্পটাই কিনা রাজিব..!!!! পাশ থেকে সায়ান ফিসফিস করে বলল, 'আমি বলছিনা তোরে ও ভূলে নাই.....'


একটি কবিতা ও জালিবেতের প্রহার


সেবার আমাদের ক্লাস থেকে রাজিবকে বার্ষিক প্রতিযোগীতায় আবৃত্তি ফাইনালে সিলেক্ট করা হয়েছে। যদিও রাতুল ওর চেয়ে ভাল পারে; কিন্তু ঐ যে ফার্ষ্ট হওয়ার সুবিধা...(স্যাররা যে কেন বুঝে না..!!!! ফার্ষ্টবয় হলেই একটা ছেলে সবকিছুতেই ভাল হয় না....)

ফাইনালের দিন....রাজিব মচ্ঞে উঠে আবৃত্তি শুরু করার একটুপর দেখি সামনের দিকের জুনিয়র ছেলেগুলো হাসা শুরু করছে। খেয়াল করে দেখি রাজিবের প্যান্টের চেইন খোলা এবং.....রাজিব যখন টের পেল তখন তার চেহারাটা দেখার মত হয়েছিল......

আমি এই মহান মুহুর্ত নিয়ে একটি কাব্য রচনা করলাম.......


বাজিল বুঝি সুখের বীণ
নত হইবে সকল হীন।
উন্নত মস্তকে উঠিবে শিখড়ে
লুটাইবে সকলে তাহার শিয়রে।

দেখিয়া সকল হাস্যমুখ
স্মিত হাসিল কি একটুকুন ?
দৃপ্ত কন্ঠে বলিয়া গেল সে
দাড়ি কমা সকল নির্বিশেষে।

হঠাৎ তাহার হইল খেয়াল
হইয়াছে সে বেখেয়াল...!!!
দরজা খোলা পাইয়া উচ্ছাসে
নানা..জান; উঁকি দিতাছে উল্লাসে.....

শুনিয়া সকল হাসির উচ্ছস্বর
ডুকরে উঠিয়া লুকাইল
পেছনের আঁধার ঘর...........


এইখানে আমি রাজিবের নাম কোথাও লিখি নাই। তারপরও আমার নাম প্রায় প্রতিদিনই বোর্ডে উঠতে লাগল আর স্যারেরা তাদের জালিবেত গুলো আমার পিঠের উপরে...... /:)

আরে আজব...!!!! আমি কি আর জানতাম নাকি..... এই কবিতাটা দেয়ালিকার জন্যে নির্বাচিত হবে...... আর ক্লাস টেন এর ঐ ভাইয়াটা কবিতার শিরোনামের নিচে ''উৎর্সগ : রাজিবকে'' এই কথাটা লিখে দিবে..................... :-B :-B :-B



(চলবে......)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১১ ভোর ৪:৫৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×