বৃষ্টি একটু বেশি হলেই রাস্তায় পানি জমে হাটু সমান।আর এই চিত্র ঢাকার অধিকাংশ এলাকার।
উত্তরা আজমপুর থেকে অটো করে চৈতি গার্মেন্টস এর পাশেই ( বন্ধুর বাসায়) যেতেই দেখলাম রাস্তার কি বেহালবস্থা! জলাবদ্ধ রাস্তা, অটোর চাকা পানির নিচে চলে গেছে। ডানদিকে কাত হয়ে অটো চলছিল। পড়ে যাবে যাবে অবস্থা!
সমন্ধির ছেলের খাৎনা অনুষ্ঠানে যাবো দনিয়া। রিক্সার ড্রাইভারদের জিজ্ঞ্যেস করলে ডাইরেক্ট বলে না, যামুনা! সমস্যা? ঐ একটাই।
দক্ষিন পশ্চিম যাত্রাবাড়ীর ওয়াসারোডে অর্থাৎ ব্রিজের ঢালে যে বাসায় থাকতাম, সেখানেও ওয়াসা ও সুয়ারেজের পানির লাইন একাকার হয়ে যেত। আর সেই পানি ব্যাবহারের ফলে ঘরে অসুখবিসুখ লেগে থাকতো সারা মাসেই।
আর এখন আমরা যে এলাকায় থাকি ওখানের চিত্রও একই। বৃষ্টির পানি আর সুয়ারেজ লাইনের পানি একাকার হয়ে যায়। পানি ফুটিয়ে পান না করলে অবস্থা টাইট। মানুষের প্রয়োজনতো আর ঐ ময়লা পানির জন্য আটকে থাকেনা। লোকজন হাটুর উপর কাপড় তুলে ঐ পানির উপর দিয়েই টিপে টিপে হাটে। কারন ম্যানহোল। যদিনা আবার ম্যানহোলে পা ঢুকে প্রেস্টিজ পানচার হয়ে যায়!
তাছাড়া দেশের রাস্তার বিভিন্ন অংশের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় নানা গর্ত সহ রাস্তার পাশে ময়লার স্তুপ জমা থাকে । ময়লা-আবর্জনার গন্ধে হাটা চলাই কষ্টকর। আমাদের দেশে সঠিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা না থাকার কারনেই মূলত এই সমস্যা। কোন কোন রাস্তা দিয়েতো রিক্সা একটা চললেই রাস্তা পুরা ব্লক। নিয়মিত স্ট্রিট লাইট জ্বলে না, মশার যন্ত্রনা, অলিগলির রাস্তা ও ড্রেন-নর্দমার বেহাল অবস্থা।
ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর রাজধানী ঢাকা। অপরাধের মাত্রা, সংঘাতের ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবার মান, বাধানিষেধের মাত্রা, তাপমাত্রা এবং বিদ্যালয় ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করলে বুঝা যায় আমাদের রাজধানীর করুনবস্থা। এখনতো আবার জঙ্গি আতংক যোগ হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন থাকলেও , ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার জন্য পানি সরতে পারেনা। পানি আটকে উপরের দিকে ঠেলে উঠে। ঘন জনবসতির অপর নাম শহর। আর ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য আমরা জনগনরাই দায়ী।
আমাদের প্রয়োজনেই আমরা শহরে থাকছি।আর এই শহরটাকে সুন্দর রাখার দায়ীত্বটাও আমাদেরই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


