somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দীর্ঘ কবিতা ।। দূরত্ব :: সানাউল্লাহ সাগর

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবী সমান দূরত্ব আমাদের
অথচ সম্পর্কের লাল সমুদ্র সাঁতরে
উৎরে গেছি ঘুম;
নিষেধের পার ধরে হেঁটেছি অসংখ্য জীবন,
মিথ্যের মতোন মনে হচ্ছে সব।
নুয়ে গেছে রঙিন বোশেখ
মৃত্যুর আতরে ঝলসে গেছে শান্তির ফুটপাত
যেন রহস্যের নোঙর থেকে কোনো চিৎকার উঠবে
মৌসুমী ফলের মতোন গেয়ে উঠবে কেউ
আর সিঁড়ির স্তর জুড়ে লেপ্টে যাবো আমি;
তেমন অপেক্ষা আমাদের।

তুমি মহাপ্রাণ জ্যোতিষ!
আগলে রাখো ভ্রম-সকল;
আর আমি নিঃসঙ্গ গুণীতক
খালি পেটে কথার লাঙল নিয়ে ছুটে যাই ধুলোয়।
মথিত ঘ্রাণের স্পর্শ নিয়ে শুয়ে পড়ি বেঘোর,
স্বপ্নে পালাই; মহৎ তন্দ্রায় আবার অযথাই
ছিঁড়ে যাই
মহাউৎসবের নাকে-মুখে...

তুমি নিঃশ্চুপ,
সহস্র বিষাদঘোড়া ছুটে যাচ্ছে
দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে মাথার মশকরায়।
চারদিকে জীবনের প্রার্থনা-
ওঠো! উঠে দাঁড়াও,
স্থির হও তুমি।
আমাকে নিয়ে চলো সীতার কারাবাসে;
এবং একাকি উৎসব থেকে ছুটি দাও খেয়া।

এ আদিম, সম্ভ্রান্ত সন্ত্রাস-
পুলকিত ধ্যানে নত হয়ে আছে কার পায়ে!
হে অনাগত প্রার্থনা সড়ক-
তুমি বিস্তৃত হও
নিজস্ব নির্বানে প্রস্তুত হও
পালায়নপর সতীত্বে।
আমিও পবিত্র খামে পৌঁছে যাবো
লিখিত সেইসব উদ্যানে
যেখানে রোপিত হয় শোকের হাততালি।

যাপন শেষ হলে প্রেতাত্মার গুঞ্জন ওঠে
রথের মগজ জুড়ে জ্বলে ওঠে পুষ্পিত অন্ধকার।
তবু তুমি নিষ্পাপ অহংকারে
প্রচার হতে থাকো-
গোপন হও দ্রুত
আপ্যায়িত স্রোতের মতোন।

তারপর পৃথিবীর জন্ম হবে আবার
আমাদের দূরত্বও বাড়বে অনেক
স্বাধীন শব্দের মতোন তোমার চুল
থেকে খসে পড়বে অজস্র নারীর কঙ্কাল।
আর আমার মধ্যে সেসব কঙ্কাল থেকে
জন্মাতে থাকবে
শত শত
বাবাহীন পৃথিবী।
যেন বাবারাই কেবল এ পৃথিবীর মালিক
একমাত্র সৌভাগ্যের ফর্মুলা।

বাবাহীন শহরে আমি হেঁটেছি
ভিজেছি অনেক
ভ্রমন ক্লান্ত জন্তুর মতো শুয়ে থেকেছি
সপ্তাহের প্রতিবারে।
কখনো দেখা পাইনি কোনো কুকুরের
দেখা মেলেনি একক কোনো মায়ের!
বরং মনে হয়েছে আমি
আমার চারপাশ মা হয়ে গেছি;
ক্রমাগত জন্মাচ্ছি
কোটি কোটি নতুন বৃক্ষ গজিয়ে উঠছে
আমার যোনি ফুুুঁড়ে...

তবলার তাল আসতেই কেটে যায় ঘোর
বৃত্তান্ত মুখর বন্যায় নুয়ে যায় দিন
আমাদের জানা হয়না বসন্ত বিমূখ
কোকিলের আত্মহত্যার সচিত্র প্রতিবেদন।
বরং আমরা রক্তাক্ত হাত নিয়ে
ঘাটে ঘাটে নোঙর করি;
দেশ থেকে দেশে মুখ বিক্রির কসরত করি।
ক্ষুধার্ত তবলার বিকৃত দিনলিপি বিকিয়ে
বেঁচে থাকতে চাই।
কোনো ক্রমেই স্বদেশ জেগে ওঠে না,
তীর্যক নাচের কোরাসে হেসে ওঠে না ময়ূর।

প্রতিশব্দের মতোন তোমার কান্নারা আসে
আমার চারপাশে সটান দাঁড়িয়েও যায়
পালাতে চায় দুর্গম খাঁচা থেকে।
যেন তুমি ভুলে গেছো দগ্ধ হতে হতে
তৈরি হওয়া এই খাঁচার স্পর্শ
মসৃন ঘুমের ইতিহাস।
যেখানে হয়তো আমি নেই কখনো
তবুও আমি আছি খাঁচার নামে!
বিবিধ স্বপ্নের স্কেচে
উহ্য শহরের মুগ্ধ ছয়ার মতোন
অবুঝ, উজ্জ্বল।
যার তীব্র আলো প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল হয়
নিমগ্ন যত্নে লেপ্টে যায় সতীর্থ সময়ের
টোল পড়া গালে।

নাগরিক নিঃসঙ্গতা শুয়ে আছে পাশে
দূরত্বের মুখোমুখি জানালার নাক;
আমাদের ক্ষুধার্ত মুখ থেকে উচ্চারিত হয়
মৃত্যুমুখর সন্ধ্যার গান।

আমাদের এই দূরত্ব কমে গেলে কোনো দিন
তোমার প্রেমক্লান্ত ভ্রু জুড়ে শুয়ে থাকা
ফতোয়া নিয়ে বিসর্জন দিবো পদ্মায়।
নতুন স্নানে প্রস্তুত হবো আবার
যথাযথ প্রস্থানে তোমার খর্ব হওয়া পরিপাটি
ফিরে আসবে দ্রুত।
বেসুমার ক্ষুধা নিভে গিয়ে শুদ্ধ হবে
প্রতিটি নদীর অবনত চোখ।
পৃথিবীর গজদাঁত থেকে নুয়ে যাবে
নিষেধ পরিক্রমা সকল;
আমিও ফের প্লাবিত হবো-
লজ্জিত ষোড়ষীর যোনিতে খত দিয়ে
বেজে উঠবে মহৎ প্রার্থনা সঙ্গীত।

তুমি কেবল নেচে ওঠো
দ্রুত বেড়ে ওঠো-
বেজে ওঠো আপন ভঙ্গিতে ফের;
আমাকে মথিত করে অলংকরন করো
তৃষ্ণার্ত শর্তের স্বাদে আলিঙ্গন করো বহুবার।
সঙ্গমে সঙ্গমে ডুবিয়ে দাও পৃথিবী,
মুগ্ধ তন্দ্রায় তলিয়ে যাই আবার...

১০ এপ্রিল ২০২০ খ্রি., মধুখালি, ফরিদপুর।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:২৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×