somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী ও একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচার প্রসঙেগ

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১০ জানুয়ারি সদ্য স্বাধীন দেশে পা দিয়েই যুদ্ধাপরাধী ও একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচারের ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সবধরনের মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের বিচারে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ জারি করেন।

এরপর ওই আইনে ১৯৭৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও 'শান্তি কমিটি'র সদস্যসহ মোট ৩৭ হাজার ৪৭১ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে দালাল আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় ৭৫২ জন যুদ্ধাপরাধীর।

তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার বিচারকাজ সম্পন্ন করতে ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয় দুই হাজার ৮৮৪টি মামলা। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর প্রায় ২৫ হাজার ৭১৯ জন আসামি ছাড়া পায়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক থাকা প্রায় ১১ হাজার আসামির বিচার চলছিল। এ ছাড়া ৭৫২ জনের সাজাও হয়। তাদের মধ্যে ১৫ এবং মতান্তরে ১৯ জনের মৃত্যুদ হয়েছিল। বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড হয়।

দালাল আইনে প্রথম মৃত্যুদ ের রায় হয় রাজাকার চিকন আলীর।

কুষ্টিয়ার মিরপুর গ্রামের চিকন আলীর বিরুদ্ধে একাত্তরের ১৯ অক্টোবর একই গ্রামের ইয়াজউদ্দিনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ছিল।

জানা যায়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা ের পর তিন মাসের মাথায় জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দালাল আইন বাতিল করেন এবং অভিযুক্ত, এমনকি দ িত ৭৫২ জনকে জেল থেকে মুক্তি দেন। সেই সুযোগে চিকন আলী মুক্ত হন।

পঁচাত্তরের ৩১ ডিসেম্বর জিয়া দালাল আইন বাতিল করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল), ১৯৭৩ আইনটি বাতিল করতে পারেননি। এর মূল কারণ ছিল, এটি সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত। ওই আইন ছিল বলেই স্বাধীনতার ৪২ বছরে এসে জাতি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এই প্রথম কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে।
*সমকাল পত্রিকা হতে সংগৃহীত।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×