
বাংলাদেশের মানুষ যে দেশে থাকে সে দেশের মুদ্রাকে নিজের দেশের মুদ্রার নামেই ডাকে। এখানে মুদ্রার নাম রিঙ্গিত। কিন্তু বাংলাদেশীরা বেশীর ভাগ সময়ই এটাকে টাকা নামে ডাকে। কোন বাংলাদেশী স্টাফ কাজ করে এমন দোকানে কোন বাংলাদেশী গেলে দরদামের সময় টাকা নামেই করে। শুনেছি, কলকাতাতে তাদের মুদ্রা রূপিকেও তারা টাকা নামে ডাকে। এটা একটি ব্যতিক্রম।
বেশ কয়েকদিন পর শরীরটা একটু ভালো লাগছিল। তাই রাতেই ঠিক করলাম সকালে মাছ ( মালয় ভাষায় – Ikan) কিনতে পুদু বাজারে (মালয় ভাষায় Pasar Pudu) যাবো। ফজরের নামাজ শেষে আমি সাধারণত আর ঘুমাই না। তাই সকাল ৭ টা বাজতেই বের হয়ে গেলাম পুদু বাজারের উদ্দেশে। একটি কথা মনে রাখা যেতে পারে যে, পুদু বাজারের যত বাংলাদেশেী দেখবেন তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের নরসিংদীর বাসিন্দা। তাই আপনি নির্দ্বিধায় তাদের যে কাউকে বলতে পারেন- ভাইয়া, আপনের বাড়ি নরসিংদীর কোন থানায়?
পুদু বাজার বাংলাদেশের যে কোন বাজারের মতোই । জলে কাদায় মেখে একাকার। তারপরও এখানে আমার যাবার কারণ প্রতিটি দোকানে বাংলাদেশী কাজ করে। দেশী আমেজ পাওয়া যায়। দোকানের মালিকরা বেশীর ভাগই চায়নিজ। বাংলাদেশীরা প্রচুর পরিশ্রম করছে। সাথে মালিকও।
আজ অনেক ভিড়। প্রতিটি দোকানে গিজ গিজ করছে মানুষ। বাংলাদেশী ক্রেতাও অনেক। আমি সাধারণঃ দুটি দোকান থেকে মাছ কিনি। প্রথম দোকানে গিয়ে ভিড়ের কারণে চান্স পেলাম না। দ্বিতীয় দোকানে গিয়ে মানুষ একটু কম মনে হলেও দাড়ানোর সুযোগ পেতে বেগ পেতে হলো। আমি মাছ কোনটা কত টাকা কেজি দাম জিজ্ঞেস করে কয়েকটির অর্ডার দিলাম। তারা ওজন করে কেটে পলিথিন ব্যাগে ভরে দিবে।
আমার মাছগুলো ওজন করার পর আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আমার কত টাকা হলো ভাইয়া?
- আপনের হইচে ৩২ টাকা।
- আপনি কেটে রাখেন । আমি একটু অন্য বাজার করে আসছি। টাকা কি এখনোই দেব?
- না, পরে দিয়েন।
আমি আরো দোকান ঘুরে এসে দেখি আবার অনেক লোকজন। আমার মাছ কাটার সিরিয়ালে। তাই আবারও সময় কাটানোর জন্য আশেপাশে ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম। পায়ের তলায় ময়লা পানি আর কাদা। খারাপ লাগছে। গরীব মানুষের সব কিছুতে খারাপ লাগলে চলে না।
এবার আমার মাছ কাটা হয়ে গেল আমার সামনেই। বাংলাদেশী তরুণটি পলিথিন ব্যাগ আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল- ভাইয়া দাম কত হয়েছিল আপনার কি মনে আছে।
- আমি বললাম, আমার মনে আছে। ৩২ টাকা। এই নিন।
- আমি মনে করলাম ৩৫ টাকা।
- আপনি ভয় পাবেন না।এই সব ব্যাপারে আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।
একটি কখা। এখানে মাছ কাটার জন্য আলাদা ভাবে দাম নেয় না। মাছের যা দাম আসেই তাই নেয়। কাটা ফ্রি।
মাছ নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছি। হঠাৎ সামনে দেখি এক সবজির দোকান। বিরক্ত মুখে শাক সবজি গুচাচ্ছে এক বাংলাদেশী তরুণ। মুখে তার দেবদাস দেবদাস দাড়ি। মনে হলো আমি কথা বললে রেগে যেতে পারে। দোকানে সাজানো পুই শাক। দেখে আমার খুব পছন্দ হলো।
-ভাইয়া, পুইশাক কত করে কেজি?
- তিন টাকা কেজি। নেন।
- আামকে এক কেজি দিন তো।
তরুণটি এক কেজি পুইশাক মাপল। তারপর পুরাতন নিউজপেপারে মুড়ে বাধলো। এবার আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। আমি তারে হাতে ৫ রিঙ্গিতের একটি নোট দিলাম। আমার কাছে খুচরো ছিল না। থাকলে ৩ রিঙ্গিতই দিতাম। তরুণটি তার ক্যাশ বাক্স থেকে এক রিঙ্গিতের ৩ টি নোট আমার হাতে ধরিয়ে দিল।
- শাকের দাম তো ভাইয়া ৩ টাকা কেজি। আপনি ২ টাকা রাখলেন যে!
- ওহো… ভুল হয়ে গেছে। আচ্ছা, আপনি নিয়ে যান।
- আমি নিব কেন? শাকের দাম তিন টাকা আমি ৩ টাকাই দিব। আপনি বরং সতর্ক হয়ে যান। ৩ টাকার শাক বেচে ১ টাকা লোকসান করলে তো আপনার চাকরি থাকবে না। আপনার বস চায়নিজ এটা জানলে কিন্তু বিরাট খবর আছে। ব্যবসায় করলে মাথা ঠান্ডা রাখা খুব দরকার।
(আমার মালয়েশিয়া বিষয়ক পোস্ট গুলো যারা পড়বেন তারা একটু স্মরণ রাখবেন, মালয়েশিয়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেমন – ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডার সাথে মেলানোর চেষ্টা না করাই ভালো। মালয়েশিয়া দেশটি উন্নতির পথে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে মাঝপথে থমকে গেছে।)
*আজকের মুদ্রা বিনিময় হারঃ ১ রিঙ্গিত = ২১.১১ টাকা
কৃতজ্ঞতাঃ পোস্টে ব্যবহৃত ছবি দুটি গুগল সার্চ করে বের করা। জানি না কার তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




