somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরমাণু গল্প সিরিজঃ অপ্রাপ্তি

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপক্রমণিকাঃ সিরিজটাকে নিরীক্ষাধর্মী বলতে পারেন কিংবা কম শব্দের স্ট্যাটাস সংকলনও বলতে পারেন। বিচারের ভারটা নাহয় আপনার উপরেই রইলো।



১।
সকাল বেলার চেঁচামেচি, কলতলার ঝনঝন, ঠেলাঠেলির বাস, ঘামের গন্ধ, শার্টের হাতায় পানের রসের দাগ, চায়ের দোকানে এক পশলা রাজনীতির আলাপ আর রাতের বেলা মশারী টানানোর ঝগড়া- মধ্যবিত্তের জীবনটা বড় বেশি টানাপোড়েনে ভরা! মানিব্যাগের অল্প কটা নোট যখন প্রতিমূহুর্তে সাধ্যের সীমাবদ্ধতা জানান দিতে থাকে, তখন মুখের একটুখানি হাসিই অনেকটা সুখের যোগান দেয়। তাইতো ছোট মেয়েটার ক্যান্সারের চিকিত্‍সা না করে রহমান সাহেব পা বাড়ান বার্বি ডলের দোকানটার দিকে। অসুস্থ বোনকে একা ফেলে রুনু তখন বাসস্ট্যান্ডে তপুর জন্য দাঁড়িয়ে। তপু আসে না, এরকম হাজার খানেক রুনুর জন্য আসতে তার বয়েই গেছে! একা বাড়িতে ঝুনু তখন ভয়ে কাঁদে, বড় বোনটাকে ডেকে ডেকে অস্থির। আরও একজন কাঁদে। সবার সামনে, বড় বেশি আকুল হয়ে।


২।
মধ্যবিত্তের স্বপ্নগুলো প্রায় সবসময়ই সরলপথে চলে। নিম্নবিত্তের স্বপ্নের সীমারেখাটা কিন্তু অনেকটা বেশি বিস্তৃত। সরকারী চাকুরে রহমান সাহেব যেখানে ছেলেটাকে প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি করার বেলায় হাজারবার ভাবেন, রহিম ব্যাপারি সেখানে ছেলেটাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য সর্বস্ব বিক্রি করতে হয়ত একটুও দ্বিধা করেন না। ছেলে আকাশপথে উড়াল দেয়, প্লেনের জানালার কাচটা কি ঝাপসা করে দেয় কৃষকের স্বপ্নটাকেও? দিন যায়, মাসের পর বছরটাও পেরুতে চায় আশার সীমানাটুকু। পোস্টঅফিসের দরজায় মা তখন একটুকরো খামের প্রত্যাশী। পিয়ন আসে, চিঠি আর আসে না। ছেলে তখন ভাঙা শরীরে পাপের চিহ্ন বয়ে মৃত্যুর দিন গোনে। স্বপ্নটাও কি হারিয়ে যায় না?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -২

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

ছবিব্লগ প্রকাশের পর আপনাদের ভাল লাগায় আরেকটি ছবি ব্লগ এবার।
সময়ঃ রাত ৮টা
স্থানঃ টরোন্টর আকাশ
তাপমাত্রাঃ ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তঃ টরণ্টোর আকাশে আজকের সন্ধ্যায় সূর্যের শেষ উঁকি

... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩



আপনারা কেমন আছেন?
আমি কেমন আছি, বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোনো অলৌকিক কিছু যেন জেনে ফেলেছি। না জানলেই বুঝি ভালো হতো। দুনিয়াতে যে যত কম জানে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সাথে আমার দিদার কেমন ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১২



আমি বিশ্বাসী মানুষ। আমার আল্লাহর দিদারে বিশ্বাস আছে। আল্লাহর সাথে আমার দিদার হয়েছে চার বার। প্রথমবার আমি স্বপ্নে দেখলাম হাসরের মাঠ। পূর্বে জাহান্নামের গভীর খাদ। খাদের উত্তর পাড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×