রুপোলি চরিত্র বাস্তবে রূপ দিতে
জুড়ি ছিল না তাঁর্
অভিনয় পেশা হিসেবে নেয়াটা তাই
ভুল ছিল না তাঁর।
হাসিয়েছেন প্রাণ খোলা হাসি মানুষেরে
আত্নকষ্ট গোপন করে,
কাঁদিয়েছেন একইভাবে প্রচন্ড পরাভবে
ট্রাজেডি সৃজন করে।
ভাষা আন্দোলনের বছর জন্ম তার
বাংলা মায়ের কোলে
একাত্তরে অস্ত্র ধরেছেন দেশের তরে
জীবনের মায়া ফেলে।
কন্ঠে তার যাদু ছিল হাসিতে বিস্ময়
হাটা চলাতে আভিজাত্য ছিল দেখেছো নিশ্চয়।
অভিনয় তার রক্তে মিশে হয়েছিল আত্নহারা
দুচোখের পাতায় অশ্রু আটকে এ কেমন ট্রাজেডিধারা!
দর্শনে তা কেঁদে একাকার সবার চোখে অবিরাম অশ্রুধারা।
পিঠটি তার অভিনয় করে বেকে যেতো কত ঢঙে
সংলাপে তার দর্শক মনে সুধা ছড়াতো রঙে রঙে।
তার যাদুতে ভিলেনও হয়েছে নায়ক নায়কের কদর নেই
তার বিজয়ে সকলে খুশি স্বার্থকতা সেখানেই।
নির্দ্বিধায় তিনি অভিনয়ের রাজা ;কোন প্রতিদ্বন্ডি নেই
মরেও তাই অমর হয়েছেন — কোন সন্দেহ নেই:
তার মরণে ব্যথিত সবে সবার চোখে বয়েছে অশ্রু নদী
সবার অতি প্রিয় অভিনেতা তিনি হুমায়ূন ফরীদি।
-----------------------------------------
ফরীদির জন্মদিন ২৯ মে ঢাকা জেলায়।তার অভিনয় নিয়ে বলতে গেলে পাতার পর পাতা লেখা যাবে।তার ঘটনা বহুল জীবন রূপালী পর্দার গ্ল্যামারকেও হার মানায়।সেলিম আল দ্বীনের মত বিখ্যাত বক্তির প্রশংসার ডালি নিয়ে তার অভিনয় জীবনের বর্ণিল শোভাযাত্রা। তার অনন্য বৈশিষ্ট্য আর যোগ্যতার কল্যানে সমসাময়িক সবাইকে ফেলে তিনি হয়ে যান কিংবদন্তীর অভিনেতা।হয়ে যান অভিনয়ের মানদন্ড।কোন অভিনেতা নাটকে ভাল অভিনয় করলে বলা হয় তিনি ফরীদির মত অভিনয় করেছেন।কিংবা ফরীদির কাছাকাছি অভিনয় করেছেন।কোন মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে ভাল করেছেন? এর উত্তরে অনেকেই বলতেন মঞ্চের ফরীদি অতুলনীয়।এরপর আসবে টিভি নাটকের অবস্থান। এরপর বাংলা সিনেমা।যেখানে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি খল অভিনয়ের ধারণাই পাল্টে দিয়েছেন।অভিনয়ে তার নিমগ্নতা ছিল অসাধারণ।তার অভিনিত প্রিয় চরিত্র ছিল কানকাটা রমজান ।যেটির কথা তিনি নিজেই বলেছেন।বিবাহ,মহুয়ার মন, সাত আসমানের সিড়ি প্রভৃতি নাটকে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে দারুণ দর্শক প্রিয়তা এনে দেয়।বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক যেমন সংশপ্তক, কোথাও কেউ নেই,পাথর সময়,কাছের মানুষ ইত্যাদি ধারবাহিক নটকে চমৎকার অভিনয় করেছেন।প্রায় সবধর্মী চরিত্রে দারুণ অভিনয় করে চৌকস অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।কমেডি ,ট্রাজেডি,রুমান্টিক ,এন্টি হিরু বা খলনায়ক সব কিছুতে অভিনয়ের নতুন মানদন্ড দাড় করাতে সক্ষম হয়েছেন ।তার অভিনয় দেখা সত্যি উপভোগ্য একটা ব্যাপার।সিনেমাতে ভিলেইন হিসেবেই তার প্রধান পরিচিতি হলেও চরিত্র অভিনেতা হিসেবে বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। সন্ত্রাস,বিশ্বপ্রেমিক, ভন্ড,অপহরণ ,ঘাতক, কমান্ডার ইত্যাদি বাণিজ্য ধারার চলচ্চিত্রের পাশপাশি আহা, শ্যামল ছায়া,জয়যাত্রা ,দহন ইত্যাদি ছবিতে পজেটিভ চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন।সিনেমাতে অভিনয় করে তিনি সাধারণ মানুষের, সিনেমাপাগল দর্শকদের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন ।চন্দ্রগ্রস্তের মত চমৎকার কিছু টিভি নাটকও তিনি নির্মান করেছেন।উপস্থাপনা করেছেন আনন্দ মেলা, ক্রিকেটের উপর নির্মিত অনুষ্ঠান।ক্রীড়া অনুরাগী ফরীদি আর্জেন্টিনার খেলা সমর্থন করতেন।তার ব্যতিক্রমী কন্ঠযাদু ,অসাধারণ অভিনয় শৈলী প্রচন্ড হিউমার তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।বাংলা অভিনয় শিল্প যতদিন থাকবে ততদিন ফরীদি থাকবেন ধ্রৃবতারার মতন।আজকের এই দিনে আমার প্রিয় অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদিকে নিরন্তর শুভকামনা আর শ্রদ্ধাঞ্জলী । আর উৎসর্গ করছি আমার এই সামান্য কবিতা খানি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


