somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

একটি কবিতা ও আমার চোখে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ ব্রাজিল-সার্বিয়া

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটি কবিতা
তিমির আঁধার নিধূয়া পাথার বাতায়ন ব্যথার বহিতেছে যে ক্ষণে ক্ষণে,
সুবাস ছড়াইতেছো শুধু, বারবার পথ ভুলাবার লাগি বাতাবি নেবুর বনে।
ওগো ফুল ভালোবাসিবার , জানিনা তুমি কোন সে বাগিচার!
সখি চাহিতেছি তোমারে ভালোবাসিবার তরে
আছো তুমি কোন সে সুদূরে ! মনে হয় গড়েছো আবাস ঐ মেঘের উপারে।
তোমার দেখা নাহি পাই-কেবল একেলা নিশি জাগি
অতন্দ্র প্রহরীর মতন! সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থাকি।
কতদিন কতরাত সয়েছিগো শুধু কাঁটার আঘাত
ফুলের কোমল ছুঁয়া নাহি পাই- আমার অন্তরায় ।
কাটার আঘাত দিবে শুধু সুবাস দেবেনা ফুল,
এ কেমন নিষ্ঠুর রীতি তব ভাবিয়া পাইনা কূল।
আজি এসেছে মহেন্দ্র ক্ষণ-- মুর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ করো হে প্রশমন
সুন্দরো হে সুন্দরো ! কামনার অশ্রুজলে মোর আঁখি যেন ছলো ছলো ।
এতদিন কেবল সয়েছি কাঁটার আঘাত এবার ফুলের সুঘ্রাণ লহিবার চাই




দূর্ঘটনার রাতে ব্রাজিল দলের দূর্ঘটনা হলো মর্সেলোর মাঠ থেকে বেড় হয়ে যাওয়া । বেড় হয়ে যাওয়ার সময় সে কাঁদছে। প্রিয় দলের তথা প্রিয় দেশের হয়ে তার খেলা হচ্ছেনা। এর চেয়ে ব্যথার কি হতে পারে? দর্শকদের জন্যও এটি দূর্ঘটনা। খেলার শুরুতেই এমন অবস্থা। তার পরিবর্তে খেলতে নামলেন শীর্ণদেহের লম্বা এক খেলোয়াড়। জার্সি নম্বর ছয়। রবোর্টো কার্লোসের জার্সি নম্বর ছিল ৬। যে কার্লোসের পায়ে ছিল গোলার মত শট। প্রায় মাঝমাঠ থেকে ফ্রিকিক করে সরাসরি গোল করার অনন্য রেকর্ড যার ঝুলিতে। বুলেটের গতিতে দৌড়াতেন। এসব এখন কেবলই স্মৃতি ।

প্রতিপক্ষ সার্বিয়া শক্তিশালী দল । তাদের সঙ্গে ড্র করলে চলবে। ধীরলয়ে খেলা শুরু হলো। বল দখলের লড়াইয়ে তখন ব্যস্ত ব্রাজিল আর সার্বিয়া। আস্তে আস্তে খেলায় ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। সময় গড়াতে থাকলো একসময় মনে হলো ব্রাজিল সার্বিয়ার খেলোয়াড়দের বালকদের দল বানিয়ে বিভিন্ন কসরত দেখিয়ে চলছে। হ্যা ব্রাজিল দলের খেলেয়াড়রা হেঁটে হেঁটে বা দাঁড়িয়ে খেলছে। এ যেন খেলার মাঠে অসম প্রতিযোগিতা। ব্রাজিল দল তাদের ফ্যানদের বুঝিয়ে দিল আমরাই এবারের বিশ্বকাপে সেরা দল। সার্বিয়া কিছুটা চাপে ছিল এজন্য যে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য খেলায় তাদের জিততেই হতো । আর প্রতিপক্ষ হতো শক্তশালী ব্রাজিল। ফলে তারা আর সুবিধা করে ওঠতে পারেনি । আর ব্রাজিল দল ম্যাচ ড্র করলেই পরবর্তী রাউন্ডে। মোদ্দাকথা ব্রাজিল বেশ চাপমুক্ত স্বচ্ছন্দ । আর খেলাও হলো তাই দারুন শৈল্পিক।

প্রথমার্ধে পাউলিনহো গোল করলেন কোটিনহোর পাস থেকে বলের পিছনে দৌড়ে পা দিয়ে আলতো ছোয়ায় গোলরক্ষকের উপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজেও ভারসাম্য হারিয়ে ডিবক্সে পড়ে গেলেন । গোল তো হলো। গোল হবার পর ব্রাজিলের খেলা আরো ভালো হতে থাকলো। নেইমার যেন প্রজাপতির মতো বল নিয়ে এদিক ওদিক ছুটলেন। তার পা দুটি যে পা নয় হাত। সেই হাত দিয়ে বল নিয়ে নানা ক্যারি কেচি দেখালেন। এদিন দারুন খেললেও গোল কিন্তু করতে পারেননি নেইমার। একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেন। তবে দ্বিতীয় গোলটি হলো তার করা কর্ণার থেকে। আর কর্ণার থেকে হেড দিয়ে গোল করলেন থিয়েগো। থিয়েগো সিলভা, গত খেলার পর যার সঙ্গে নেইমারে বিবাদ নিয়ে খবর এসেছিল।

সেই থিয়েগো গোল উদযাপন করলেন সতীর্থ নেইমারের দিকে ফ্লায়িঙ কিস উড়িয়ে দিয়ে। নেইমারও কম যাননি। তিনি ফ্লায়িঙ কিস গ্রহণ করে আরেকটি ফ্লায়িঙ কিস ছুড়ে দিলেন থিয়েগোর দিকে। যাক বাবা তাদের ঘিরে বিবাদের ইতি ঘটেছে । দেশের হয়ে খেলতে নেমে নেইমার থিয়েগো দারুন একতাবদ্ধ। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এটি খুব দরকার।

পাউলিনহো ভালো খেলেছেন, কোটিনহো ভালো খেলেছেন, উইলিয়ান ভালো খেলেছেন । কাসেমিরো ভাল খেলেছেন। জেসুস সারা মাঠ খেলেছেন। মোদ্দাকথা ব্রাজিলের অনবদ্য খেলা মুগ্ধ করলো সমর্থকদের। খেলায় ২-০ গোলে জিতে গেলো তিতের স্যালেসাওরা ।আর সেই ৬ নম্বর জার্সিধারি শীর্ণ দীর্ঘদেহী খেলোযাড় ফিলিপ লুইস দারুন খেললেন। গোলমুখে প্রচন্ড এক শটও নিয়েছিলেন যেটি অসামান্য দক্ষতায় গোলকিপার থামিয়ে দিলেন। নাহলে ওটি গোল হয়ে যেত। সবকিছু ছাপিয়ে খেলার সেরা খেলেয়াড় সেই নেইমার। ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর সুইজারল্যান্ড রানার আপ।

এদিনে অতিরিক্ত সময়ের জোড়াগোলে গোল দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইঁদুর দৌড় থেকে সরিয়ে দিল। খেলায় জার্মানি ছিল প্রচন্ড চাপে। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে তাদের ম্যাচটি অবশ্যই জিততে হতো । আর জিতে গ্রুপ রানার আপ হয়ে ২য় রাউন্ডে গেলেও খেলতে হতো ইয়েলো পেরিল ব্রাজিলের সাথে। এ ব্রাজিলের সঙ্গে খেলা মানে নিশ্চিত পরাজয়। তাই হয়তো জার্মানি আর পেরে উঠলো না ।

অপর খেলায় সুইডেন ভালো খেলে শ্রেয়তরো দল হিসেবে মেক্সিকোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিল। সুইডেন হলো গ্রপচ্যাম্পিয়ন, রানারআপ মেক্সিকো আর সবার শেষে অর্থাৎ চারে পড়ে থাকলো জার্মানি।সবচেয়ে বাজে অবস্থান নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী তথা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫১
৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×