
জোসেফ একটা ব্যাপার খেয়াল করেছে তার স্ত্রীর ধর্মীয় ব্যাপারে জ্ঞান কম। জোসেফকে উল্টা পাল্টা সন্দেহ করতে ছাড়ে না। হয়তো তাদের এলাকায় ধর্মীয় অনুশাসন নেই। অথবা তার বাবা মা সেক্সুয়াল ব্যাপারে ধর্মীয় রীতি মানে তরিকা জানে না মানে না। ব্যাপার গুলো খুব খারাপ হলেও জোসেফ সাহেবের মাথায় খুব ঘুরপাক খায়। মনে মনে এটাও ভাবে তার স্ত্রী সাইকো। অথবা পশ্চিমা ধারার সেক্স লাইফ বিষয়ে খুব সমঝদার। যেমন বাইসেক্সোয়াল হুমো গে লেসবিয়ান ব্লা ব্লা ব্লা। জোসেফ এভাবে ভাবার অবশ্য একটা যুক্তি আছে । জোসেফের বউ জিনিয়া সারাদিন ফেসবুকে পড়ে থাকে। তার দুচারজন যেসব বন্ধু বান্ধব ইউরোপ আমেরিকায় আছে তাদের সঙ্গে রেগুলার চ্যাট করে। বেশির ভাগ আলাপ সেক্স বিষয়ক। জোসেফ অবাক হয় ধর্মীয় হিসেবে কাদের সঙ্গে এফেয়ার করা যাবে বন্ধু হওয়া যাবে সে বিষয়ে জিনিয়ার ধারণা নেই অথবা সে মানে না। সে ভাবতে পারে সেক্স ফর অল। জোসেফের ভাবতেও ঘৃণা লাগে। জোসেফ জানে যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম তাদের ব্যাপারে কুরাআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু। এবং অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম। পর্দার ব্যাপারটি এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে কোন সমস্যা নেই।
জোসেফের খুব বিরক্ত লাগে। জিনিয়া কি এ বিষয়ে জানে না। না জানলে সেসব পাপ হওয়ার আশংকা থেকে যায়। না জানলে এসব বিষয়ে নিজের স্বামীকে সন্দেহ প্রকাশ করা যায়। জিনিয়ার স্বপ্ন এয়ার হোস্টেজ হওয়ার সারা পৃথিবী ঘুরার এ ভাবনা তার কোন সিনিয়ারের কাছ থেকে আসতে পারে। যে পশ্চিমা ধ্যান ধারণায় অভ্যস্ত। অথবা কলগার্ল কেউ একজন হতে পারে। আধুনিকতা মানে ভালগারিজম নয়। অশ্লিলতা নয় অধর্ম নয়। বিকৃত মন নয়। বিকৃত মনে বিকৃত সব বাস করে। জিনিয়া পরীক্ষা করে তার পেছন দিকের প্রতি জোসেফের যৌন উত্তজনা আছে নাকি? স্বামী তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে তার ধারণা হয় সে গে। এমন নির্বোধ জিনিয়া। তাকে কোন খারাপ চক্র ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে টেনে নিতে পারে এসব ভেবে জোসেফের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। জোসেফ প্রশস্ত মন নিয়ে আশা নিয়ে থাকে তার গবেট শ্রেণীর বউ একদিন ভালো হবে। তবে এটা নিশ্চিত বউয়ের বন্ধুদের মধ্যে ভয়ানক খারাপ লোকজন আছে। ইয়াবা সেবীদের খপ্পরে পড়লে তো কথাই নেই। যদি যৌনতা বর্ধক পিল খেয়ে কেউ তার সঙ্গে …..তাহলে তো ভয়াবহ অবস্থা। কিংবা কোন বান্ধবী এ বিষয়ে তাকে মিসগাইড করা খুব সম্ভব । এসব ভাবে আর সে প্রমোদ গণে। যে বন্ধুদের সব কথা বিশ্বাস করে সামান্য বিবেচনা নেই তার চেয়ে ভয়াবহ আর কে হতে পারে? তার পরিবারের লোকজনের কথায় জোসেফ খুব বিরক্ত। জোসেফের শ্বশুড় তার বড়ো মেয়ের ব্যাপারে জোসেফের কাছে যখন বলে বড় মেয়ে অসুস্থ তখন জোসেফ মনে মনে চরম বিরক্ত হয়। তার বউয়ের বড়ো বোন সম্মানিত ব্যক্তি তার বড়ো বোনের মতই । জিনিয়ার মন পাবার জন্য সে তার প্রশংসা করে। হিতে বিপরীত হয়।
ইদানিং তার কোন বন্ধবীর হাজবেন্ড বান্ধবীর সঙ্গে সাত বছর ধরে প্রেম করে বিয়ে করলেও সন্তান থাকার পরও আরেকটি বিবাহ করার দোষও যেন জোসেফের। তার আশংকা জোসেফ তাকে রেখে আবারা বিয়ে করবে। জিনিয়ার ধারণা পৃথিবীর সমস্ত মেয়ের সঙ্গে জোসেফের প্রেম তার নিজের আত্নীয় শ্বশুড়বাড়ীর আত্নীয় সবার। আর জোসেফের ধারণা জিনিয়ার সেই বান্ধবীর কথা মতো চলেই জিনিয়ার এ অবস্থা। জিনিয়ার বান্ধবী এ ধরণের আচরণ করাতে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার হাজবেন্ডের বিষয়েও তার অভিযোগ যে সে বৃদ্ধ হয়ে গেছে। বা অক্ষম। সে বিষয়ে সবার কাছে জ্ঞান বিতরণে কোন অলসতা করেনি। এসব নিয়ে বেশ হাস্যকর অবস্থানে জিনিয়া। এমনকি জিনিয়া তার স্বামীর কাছ থেকে সন্তানকে দূরে সরিয়ে দেয়। শিশুকে তার বাবার কাছ থেকে আলাদা করতে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করতে পিছপা হয় না। সে যোসেফকে শিশুর ব্যাপারেও সন্দেহ করে। অথচ জিনিয়া জানে জোসেফ ধর্ম বিষয়ে অনেক জানে। জোসেফ কোন ধরণের নেশা করে না। জোসেফের শ্বশুড় কদম সাহেব বেকুব ধরণের। সে মেয়ের ছেলেমানুষি সব কথা বিশ্বাস করে। তার মেয়ে চরম বদরাগী জানার পরও মেয়ের উলটা পালটা অভিযোগে জোসেফের সঙ্গে অযৌক্তিক কথা বার্তা বলায় জোসেফ তার সঙ্গে কোন বিষয়ে আলাপ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। জিনিয়া উগ্র স্বভাব পারাপ্রতিবেশি থেকে শুরু করে শ্বশুড় বাড়ীর সবাইকে তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে ফেলে। জোসেফ অবাক হয় আর ভাবে সব মেয়ে এমন নয়। তবে বিয়ের আগে জোসেফ এক মেয়েকে পছন্দের আর বিয়ের ব্যাপারে বললে মেয়েটি বলতো জোসেফ তোমার সঙ্গে আমার কোন দিন বিয়ে হবার সম্ভবনা নেই মরার পরও না। জোসেফ অবাক হয় কেন নয় ? উত্তর পায়না। ১৪ জনের মধ্যে মেয়েটি পড়েনা। তাহলে কোন যুক্তিতে একথা বলে। একজন পুরুষে একজন নারীতে বিয়ে হয় এটা্ই স্বাভাবিক । ভিন্ন ধর্মের বর্ণের বয়সের অসম বয়সীর মধ্যে বিয়েতে কোন ধর্মীয় নিষেধ নেই। তবে সে কেন এ কথা বলতো । এসব শুনতে শুনতে জোসেফের মাথা ঝালাপালা হয়ে যেত । বিবাহিত মেয়ে ডিভোর্স দিয়েওতো বিয়ে করতে পারে তার চেয়ে অনেক জুনিয়র অথবা সিনিয়র কাউকে । এসব ভাববার অবকাশ নেই।
সামনে খেলা। আর্জন্টিনা আর ফ্রান্স খেলবে। ফ্রান্সের ব্যাপারে জোসেফের মিশ্র অনুভূতি। সে জানে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের দৌড়ে আটকে দেয়া দল গুলোর একটি ফ্রান্স। সেই ৮৬ তে প্লাতিনির ফ্রান্স সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ট্রাইবেকারে বিদায় দেয়ার কারনে আর্জেন্টিনা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়। আবার ৯৮ তে ফ্রান্স ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে রোনাল্ডোতে খুঁজে পাওয়া গেলনা। রোমারিও কে কোচ দলে নেয়নি। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে। সেই ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে আবার ব্রাজিলকে আটকে দেয় ২০০৬ সালে। আজকে কোন দল জিতবে? জোসেফের মনে হয় ফ্রান্স জিতবে। মেসি ২য় রাউন্ডে ওঠে আত্নতৃপ্তিতে আছে। তার মরার ফারা কেটে গেছে। আইসল্যান্ডের সঙ্গে পেনাল্টি মিস তাকে মৃত্যুর দৌড়গোড়ায় পৌছে দিয়েছিল। রোনাল্ডোর পেনাল্টি মিস আর পরের ম্যাচে মেসির গোল মেসিকে এ যাত্রা রক্ষা করেছে। জোসেফের মন বলছে আর্জেন্টিনা হেরে যাবে। জিতলে ভাল হতো। ফ্রান্সের প্রতিশোধ নিয়ে দিতো আর্জেন্টিনা । আর আর্জেন্টিনা ব্রাজিল একটা ম্যাচ হবার সম্ভাবনা থাকতো। অবশ্য ব্রাজিলকে জিততে হবে মেক্সিকোর সঙ্গে। এসব ভেবে লাভ নেই। হতাশার কথা হলো এই রাউন্ডে ফ্রান্স হারে না। আর আশার বাণী হলো ফ্রান্স এ বিশ্বকাপে গোল করেছে মাত্র ৩টি। গোল না দিতে পারলে ম্যাচ জিতবে কিভাবে? তবু মনে হয় ফ্রান্স জিতবে। ফ্রান্স জিতলে আর অন্য খেলায় উরুগুয়ে জিতলে একটা সমতা রক্ষা হবে। মেসি আর রোনাল্ডোর যে প্রতিদন্ডিতা সেথা থেমে যাবে। কিন্তু পর্তুগাল জিতে গেলে সেটা কেমন একটা ব্যাপার হবে। জোসেফের মনে প্রশান্তি নেই বউকে সঙ্গে নিয়ে খেলা দেখার সৌভাগ্য তার নেই। তার বাচ্চাও বউয়ের সঙ্গে নানাবাড়ি। জোসেফ সন্তানের কথা ভেবে নিরবে অশ্রু ফেলে। কেউ তা দেখে না। বুকের বা পাশটা ব্যথা করে ওঠে।চিনচিনে ব্যথা। চারিদিকে খুব অশান্তি। তীব্র ক্ষোভ বিরাজমান। দেশে গণতন্ত্র নেই। নেই গণতন্ত্রে উত্তরণের কোন পথ। পুরো দেশ ইয়াবায় ডুবে আছে। ভয়াবহ কিছু ঘটার আশংকায় উদ্বিগ্ন দেশের মানুষ। এসব ভাবার চেয়ে বরং খেলা নিয়ে ভাবনায় ডুবে থাকা অনেক ভালো। খেলা দেখলে দেখার সময় অন্তত ভালো থাকা যায়। তবে খেলা নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ জোসেফ পছন্দ করে না।
জোসেফ দুপুর ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে তার সঙ্গে জিনিয়ার ঝগড়া হচ্ছে। জিনিয়া চলে যাচ্ছে আর জোসেফ চিৎকার করে বলছে আমি আর তুই রাস্তায় ঘুরবো না খেয়ে থাকবো গাছের নীচে রাত কাটাবো কিংবা রাতের বেলা খোলামাঠে শুয়ে থাকবো। আকাশের তারা গুনবো। গুনে গুনে রাত পার করবো। তোকে ভালবাসবো। খোলা মাঠে রাতের আধারে আমাদের নিত্য বাসর হবে। খাবার থাকলে খাবো না থাকলে না খাবো। তবু আমরা একসাথে বাচবো। মরলেও একসাথে। তোকে আগলে রাখবো আমার এই বুকে। চুম্বনে চুম্বনে সিক্ত করবো। নদীর জলে ভাসবো। বৃষ্টির জলে দুজনে ভিজে একাকার হবো। তুই পাশে থাকলে আমি আর কিছু লাগবে না। ধরে নে আমার কোন টাকা পয়সা নেই, বাড়ি নেই শুধু একটা মন আছে। সেই মনে তোর জায়গা আছে। তুই শুধু আমার কবিতা হবি। আমি হবো তোর কবিতা। জিনিয়া এসব কথা শুনছে না সে চলে যাচ্ছে । জোসেফের সন্তানের চোখে জল সে জোসেফের কোলে আসতে চাচ্ছে। জোসেফের বুকে গভীর দুঃখ। তার আদরের সন্তান তার কাছে থাকবেনা সে ভাবতেও পারেনা। ঘুম ভেঙে যায় জোসেফের । বুকের ব্যথা মনের ব্যথা সব জায়গায় ব্যথা। এসব ব্যথা দূর হবে কবে। ব্রাজিল জিতলেই হয়। নেইমার ইনজুরি কটিয়ে ওঠে নিজের খেলাটা ফিরে পেলে হয়। আশার কথা হলো দা ফেনোমেনন রোনাল্ডো মেন্টর হিসেবে তার পাশে আছে। তার লক্ষ্যভেদী শট বিশ্ববাসীর জানা আছে। নেইমার সেভাবে গোল বরাবর টার্গেট নিতে পারলে ব্রাজিল জিতে যাবে। কবে তার সন্তানের সঙ্গে দেখা হবে? কবে তার স্ত্রী তার কাছে। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে বউকে পাশে নিয়ে দেখতে পেলে দারুন হতো। কিন্তু সেটি কি আর হবে?
এমন সময় কলিংবেল বেজে ওঠে। জোসেফ এগিয়ে যায়। একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। চেনা চেনা মনে হয় তবু যেনো চেনা নয়। দেখে যেন মনে হয় কত দিনের আপন। মেয়েটি বলে তুমি জোসেফ। জোসেফ বলে হা। মেয়েটি নিজেই বলে আমি চাঁদকন্যা। আমি তোমার একাকিত্ব দূর করার জন্য এসেছি। জোসেফের চোখে সরষে ফুল। জোসেফ বলে বাসায় কিন্তু আমি ছাড়া কেউ নেই। ভয় পাবে না তো । মানে কোন সমস্যা নেই তো। চাঁদকন্যা বলে কি যে বলো। আমি তো জানি তুমি এত বড়ো বাসায় একাই আছো। জোসেফ চাঁদকন্যাকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। চাঁদকন্যার চোখ কাজলকালো মুখে অদ্ভুত সুন্দর হাসি নিষ্পাপ চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার দিশা রুপতার শ্রাবস্তীর কারুকার্য ….জোসেফ চাঁদকন্যাকে বলে আজকে আমি তোমাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখবো। তুমি সামনে বসে থাকবে আর আমি বসে বসে তোমায় দেখবো কল্পনা মিশিয়ে কবিতা লেখবো। দেখি তোমার হাত। চাদকন্যা হাত বেড় করে। তার আঙ্গুলের নখে কারুকার্য আকা। জোসেফের চোখে মুগ্ধতা । জোসেফকে অবাক করে দিয়ে চাঁদকন্যা বলে আমি তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে চাই। বলেই জোসেফের হাতে হাতে রাখে । মেয়েটি গায়ে থেকে মৃগনাভীর ঘ্রাণ বেড় হচ্ছে । জোসেফ নিজের হাতে চিমটি কাটে বাস্তবতা নিশ্চিত হবার জন্য…..
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




