
আজি হতে শতবর্ষ আগে
কেঁদেছিলো সদ্য প্রসূত এক নবজাতক
যেন তিমির আঁধার দূর করার অঙ্গীকার,
মুক্তির আবির দু'চোখে মেখে,
শিশুটি জন্মেছিল— এই বঙ্গদেশে
প্রথম ক্রন্দণ তাঁর
যেন সারা বাংলার বঞ্চিত মানুষের
ক্রন্দণ রোল মনে করে,
একদিন কন্ঠে তাঁর পরাধীন বাংলার
মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির কথা— দৃপ্ত শপথ
হ্যামিলনের সেই বাঁশি হয়ে যেন বেজে ওঠে
মহান একাত্তরে— রক্তাক্ত প্রান্তরে
বাংলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে মুক্তি পাগল জনসমুদ্রে
অনেক বেদনা বঞ্চনা শয়ে।
আজি হতে শতবর্ষ আগে
হে মহান অধিপতি,
স্বাধীন বাংলার অকূতভয় মহান স্থপতি,
তুমি জন্মেছিলে এই দেশে পরাধীন বাংলায়
আর্ত পীড়িত বাংলার মানুষের সেবায় আত্ননিবেদিত হয়ে
অপার ভালোবাসা লয়ে বুকে
তুমি সুদীর্ঘ ছাব্বিশ বছর কারানির্যাতিত
এই বাংলাকে ভালোবেসে,
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায়,
তোমার পরিবার কাটিয়েছে তুমিহীনা কতো বিনিদ্র রাত
শত বঞ্চনা সাথে লয়ে !!
গল্প কবিতা রূপালী পর্দায় টিভি নাটকে মুক্তিসেনাদের স্মৃতি চারণে
ব্যথাতুর সমুদ্দুর এই দু'চোখে আজও যেনো ভেসে ওঠে—
পাক হানাদার হিংস্র হায়েনার জুলুম অত্যাচার
তুমি কি তবে জন্মেছিলে সেদিন
মাতৃভূমির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় প্রত্যয় লয়ে বুকে!
জন্মেছিলে যে দিন তুমি কি তবে দিয়েছিলে চিৎকার সেই-দিন
শত জালিমের বুক বিদীর্ণ করে,
এদেশে পাক-হানাদারবধ কাব্য রচনার
দৃপ্ত শপথ কন্ঠে লয়ে!
আজি হতে শতবর্ষ আগে।
তুমি কী ভেবেছিলে কোন এক কবি
নিবে হাতে কলম তুলে স্বাধীন বাংলায়— ২০২০ সালে
তোমার জন্মের ও শতবর্ষ পরে
কেবলই তোমায় স্মরণ করে
কলম ফেটে যার ঝরবে আগুন
ঠিক যেমন তোমার কন্ঠ থেকে দ্রোহের বহ্নি শিখা ঝরে।
হে বঙ্গবন্ধু !
হে স্বাধীনতার মহান স্থপতি !
কবিগুরুর কথা তুমি ভুল প্রমাণ করেছিলে
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির ঐক্য গড়ে
ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় মহা-কাব্যিক বিজয়ী বীর প্রমাণ করে ,
হে বঙ্গবন্ধু !
তোমায় নিয়ে লিখবো বলে
নিয়েছি আজ কলম তুলে হাতে অপরাজেয় বাংলায়;
কোন ভুলতো করি নাই
তাই প্রশান্তির ছোঁয়া যেন লাগে বুকে।
হে স্বাধীনতার মহান স্থপতি,
শুভ জন্মদিন তোমায় নিরন্তর শুভকামনা
হৃদয়ের গহীন থেকে
করতেছি আজি তোমার বন্দনা
মহান স্রষ্টার অশেষ কৃপায়
আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস— এই কবিতা খানি লিখে,
কবিতা খানি মোর করিতেছি নিবেদন
শুধুই তোমার তরে
পরম শ্রদ্ধাভরে—
লহ গো মোর শ্রদ্ধাঞ্জলিখানি
আজি হতে শতবর্ষ আগে,
তুমি জন্মেছিলে তাই
আজ স্বাধীন বাংলাদেশ— আমরা স্বাধীন জাতি,
লাল-সবুজ পতাকা বাংলার আকাশে উড়ে
কোন সন্দেহ নাই।
মুজিববর্ষ এসেছে আমরা সবাই
তাই আবারো উঠেছি জেগে অনন্ত যৌবনে
ভোরের রবির মতো ভালোবাসার অনুরাগে
লাল-সবুজ পতাকায় আমরা উঠিবো মেতে—
বসন্তের মাতাল সমীরণে, পাহাড়ি ঝর্ণার মতো
উছলিয়া উঠে জলে— টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকা হয়ে
বঙ্গোপ-সাগরের উত্তাল ফেনিল বুকে
জল কল্লোলে আনন্দ উৎসবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


