
হিজাব
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ধ্বংস স্তূপের নিচে
চাপা পড়া মৃতপ্রায় মেয়েটি —
নিশ্চুপ থাকে না মুখফোটে ওঠে বলে,
মুখে তার নেই হিজাব গায়ে কাপড়
তাই তার একান্ত অনুরোধ
ছবি যেন না তোলে ।
অভিযোগ
সিরিয়ার নিষ্পাপ শিশুটি খুব তার অভিযোগ
তাদের কি নাই কোন ডর?
আল্লাহার কাছে সে— সবকিছু দিবে বলে
কেন এত অত্যাচার, তাদের উপর?

গোধূলির অস্তরবি
করোনায় আক্রান্ত মৃতপ্রায় বাবা
ছেলে তার ডাক্তার গণচীনে— খুব নামকরা,
বাবার আবদার আরো একবার
গোধূলির আলোয় সূর্য ডোবার
দৃশ্যটি দেখার,
হতে পারে এই তার— শেষ অস্তরবি দেখা
ছেলে তার নিয়ে গেছে তাঁরে খোলা আকাশের নীচে
ঘরের বাহিরে; সারা দেহ ঢাকা তাঁর—
যেন হিজাবে মুখ ঢাকা সিরিয়ার— অত্যাচারিত নারিটা।
মুগ্ধ চোখে চেয়ে রয়েছেন বাবা—
দেখছেন গোধূলির আলোয় অপূর্ব লাল টকটকে সূর্য,
সূর্যটা ডোবে যায়— পশ্চিমের আকাশে
অতঃপর বাবাটা মরে যায়—
অপরূপ রূপতার গায়ে মেখে
তা্ই সীমাহীন বেদনা পুত্রের বিষন্ন মনে
স্বান্তনা একটাই বাবা তার রেখেছে দু’চোখ অপরূপ রূপটায়
গোধূলির আলো মেখে —সূর্যটা ডো্বে গেছে;
বাবাটা সূর্যইতো ছিলো— ছেলেটার জীবনে
সে সূর্যটা হায় ডুবে গেছে আজ
মাথার উপরে তার—এক বিশাল শূণ্য আকাশ
তিমির আঁধারে, ছুমছাম নিরবতা চারিপাশ
রাতের আঁধার কেটে আবারো উঠিবে রবি— ভোরে,
তবু বাবা তার মেলবে না দুচোখ আর কোনদিন
অনন্ত আগ্রহে অস্ত রবি প্রেমে,
জীবনটা যেন তার অঘোর আঁধারে।

ভয় নাই ! ভয় নাই!!
জীবনটা অনেক সুন্দর—
জীবনে মৃত্যু আছে তাই
ক্ষণিকের ধরণিতে মানুষ আর ক’দিন বাঁচে
তাইতো জীবনটাকে —সাজাতে হয়
সুন্দর একটা মৃত্যুর জন্য,
সেই জীবন কতোই না সুন্দর!
যেন এক রক্তগোলাপ সদ্য প্রস্ফুটিত
যে জীবন উৎসর্গকৃত
বিশ্বমানবতার সেবায় মহান স্রষ্টার অশেষ কৃপায়,
চলো ওগো হই নিবেদিত তাই জীবের সেবায়
মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ।
ক্ষণিকের পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নেই কিছু
তাই বলি চলো সকলে হই নিবেদিত—মানবতার কল্যাণে ।
টাকা কড়ি সোনাদানা— সঙ্গে তো কেউ যাবে না
যাবে শুধু ঈমান আর আমল,
কোন ভয় নেই কঠিন হাশরের দিনে
আদর্শ যার নবী মোহাম্মদ,
লা শরিক আল্লাহ মুখে তার জিকির—একাগ্র মনে,
ভয় নাই ভয় নাই—সেই সব জীবনে
সফল সমাপ্তি তাঁর, সুন্দর মরণে ...

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


