somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামে দাস প্রথা

০৪ ঠা মে, ২০২৩ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম ধর্মে দাস প্রথাকে সীমিত করা হয়েছে কিন্তু নিষিদ্ধ করা হয়নি। ইসলামের বিধান আসার আগে স্বাধীন মানুষকে জোর পূর্বক দাস বানিয়ে বেচা কেনা করার প্রথা ছিল। ইসলাম এই পদ্ধতি নিষেধ করে দিয়েছে। ইসলাম ধর্মে শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীকে দাস বানানো যায় আর দাসের সন্তান দাস হয়। এছাড়া দাস বানানোর কোন উপায় নেই। যুদ্ধাপরাধীদের জেলে রেখে দেয়া যেত বা হত্যা করা যেত। কিন্তু সেটা না করে তাদেরকে দাস বানালে সেটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। একটা দেশের কয়েদিরা দেশের অর্থনীতিতে কোন ভুমিকা রাখে না বললেই চলে। খুব সামান্য ক্ষেত্রে এদেরকে দিয়ে কিছু কাজ করানো হয় যার পরিমান অতি নগণ্য।

ইসলামের দাস প্রথা মানবিক। দাস মুক্তির কথা এত জায়গায় আছে যে এই প্রক্রিয়ায় দাসেরা ধীরে ধীরে সমাজে মিশে যেতে পারে। ফলে সমাজে দাস এক সময় আর থাকে না অথবা একদম কমে যায়। যারা থাকে এরাও মুলত যুদ্ধাপরাধী। এটাকে একধরনের পুনর্বাসন বলা যেতে পারে। এই যুদ্ধাপরাধীদেরকে ধীরে ধীরে কাজে নিয়োজিত করে সমাজের সাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। ইসলামের সবচেয়ে বড় সমালোচনা হোল অধিকার ভুক্ত দাসীর সাথে সেক্স। এটার কারণ হোল এই নারীরা যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধের ময়দানে পুরুষদের সাথে থেকে যুদ্ধে সাহায্য করেছে এরা। এদেরকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুরুষ যুদ্ধাপরাধীদের ইসলামের রাষ্ট্রপ্রধান চাইলে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে, দাস বানাতে পারে, মুক্তিপণ ছাড়া মুক্তি দিতে পারে, মুক্তিপণ নিয়ে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে যে নারী থাকে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার উপর নিষেধ আছে। তাদেরকে দাসী বানানো হয় শাস্তি হিসাবে। ইসলামের রাষ্ট্রপ্রধান চাইলে এদেরকে মুক্তিপণ নিয়ে বা না নিয়ে মুক্তি দিতে পারে অথবা দাসী বানাতে পারে। চাইলে এদের মনিব এদের সাথে সেক্স করতে পারে। আবার চাইলে তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিতে পারে বা বিক্রি করে দিতে পারে।

জেলে নারী বা পুরুষের সেক্সের কোন ব্যবস্থা থাকে না। ইদানিং শুনলাম একটা উন্নত দেশে জেল কর্তৃপক্ষ মাসে কয়েকদিন স্বামী/ স্ত্রী/ পার্টনারের সাথে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ দিচ্ছে বা দিবে। সেক্সের ব্যবস্থা না থাকার কারণে জেলে অনেক যৌন নিপীড়ন হয়। যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা। এই কারণে দাসীদের সাথে সেক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দাসদের ক্ষেত্রে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।


দাস প্রথার ক্ষেত্রে শুধু ইসলাম ধর্মকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু খৃস্ট এবং ইহুদি ধর্মে দাস প্রথা আছে। ইসলাম ধর্মে দাসের সাথে মানবিক আচরণের নির্দেশ আছে। মনিব যা খাবে তাকে তাই খাওয়াতে হবে। মনিব যে পোশাক পড়বে তাকেও তাইই পড়াতে হবে। কারণ আমাদের রসূল (সা) বলেছেন যে দাসরা তোমাদের ভাই। দাসের উপরে অতিরিক্ত কাজের বোঝা দেয়া যাবে না। যদি অতিরিক্ত বোঝা দেয়া হয় সেই ক্ষেত্রে মনিবকে সাহায্য করতে হবে। দাসকে পরিবারের সদস্যের মত মনে করা হয় ইসলামে। অন্যায়ভাবে দাসকে প্রহার করলে তার শাস্তি হোল দাসকে মুক্ত করে দেয়া।

যে কোন যুদ্ধকেই জিহাদ বলা যাবে না। জিহাদ করতে হলে স্বীকৃত ইসলামি রাষ্ট্র থাকতে হবে। সেই স্বীকৃত রাষ্ট্র যদি কোন কারণে কাফেরদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় কেবল সেটাকেই জিহাদ বলা যাবে। এখন আইসিস, আনসার উল্লাহ টিম যা করছে এগুলি কোন জিহাদ না। পৃথিবীর কোন ইসলামিক স্কলার এদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। বর্তমান যুগে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। ফলে যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই চুক্তি মানতে হবে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বন্দিদের ব্যাপারে চুক্তিতে কিছু লেখা থাকলে সেটা মানতে হবে। তাই বর্তমান পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে দাস বানানোর সুযোগ নাই বললেই চলে।

ইসলামে অনেকভাবে দাস মুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বা উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে দাসেরা সহজেই এক সময় সমাজের মূল স্রোতে মিশে যেতে পারে। তাই ইসলামের দাস প্রথা নিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। ইসলামের দেয়া সমাধান সমাজের জন্য কল্যাণকর।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২৩ রাত ১২:৩০
৫৩টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

অন্তর্জাল থেকে।

এ যাবত প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এই অবৈধ যুদ্ধে ইতোমধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×