somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বকচরের বকতিয়ার-৪

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইল খানেক দূরে খাল পাড়েই বকতিয়ারের ছোট ঘর। ছনের ছাউনি। খড়ির বেড়ার অনেক জায়গাই ফাঁকা। ছেঁড়া কাগজ দিয়ে আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা। খাল পাড়ের বাতাসে অনেক জায়গার কাগজও উড়ে গেছে। দিনের আলোয় চোখ রাখতে হয় না। হঠাৎ তাকালেই দেখা যায় ভেতরের খানিকটা। এতদিন খেয়াল করেনি বকতিয়ার।

আজ মনের মানুষটিকে ঘরে এনে সব কিছুই বড় বেশি চোখে লাগছে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাতাস যেন ঢুকছে পাল্লাপাল্লি করে। ফিসফিসানি শব্দে মনে হয়, কারা বুঝি উঁকি দিয়ে দেখছে তাদের। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেয় পা রাখতে পারে না মেয়েটা। আবার তেল চিটচিটে বিছানায় ভালো করে পা তুলে বসতেও কেমন ঘেন্না হয়।

কি করবে ভেবে পায় না বকতিয়ার। তার জীবনটা কেন এমন অগোছালো! ঘরদোরের এমন শ্রী! লজ্জায় আয়েশার দিকে ভালো করে তাকাতেও পারে না। একটা খাটও নেই যে তার। নৌকার পাটাতন চুরি করে এনেছিলো। তার উপরই দুইটা কাঁথা বিছানো। শেষ কবে ধুয়েছিলো মনে করতে পারে না মানুষটা।

- পিয়াস লাগছে।
আয়েশার কথায় সম্বিত ফেরে বকতিয়ারের। তাড়াহুড়োয় উল্টে ফেলে পানির ঘড়া। গড়িয়ে যায় সব পানি। একটা কাষ্ঠ হাসি দিয়ে এদিক ওদিক কি যেন খোঁজে বকতিয়ার। দরজার পাশেই পড়ে আছে টিনের পাত্রটা। খুঁজে পেতে হাতে নিয়ে খালের দিকে দৌড় দেয়। সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির আগুন আর দেখা যায় না। খালের পানিতে নেমে একবার সেদিকে তাকায় বকতিয়ার। বুকটা কেমন হু হু করে ওঠে।

- পানি আনছি। খায়া লও।
সেদিকে ভ্র“ক্ষেপ নেই আয়েশার। ঝট করে উঠে দাঁড়ায়। বকতিয়ারের মনে হয়, এই বুঝি পালানোর চেষ্টা করে মেয়েটা। কিন্তু না! এক টানে তক্তার ওপর থেকে তেল চিটচিটে কাঁথা দুটো টেনে ফেলে দেয়।

-ক্যাথা দুইটা নিয়া বাইরে যান। ভেতরে আসনের দরকার নাই।
কন্ঠের ঝাঁঝটা ঠিকই টের পায় বকতিয়ার। কিন্তু মেয়েটার শীতল চোখের দিকে চেয়ে কথা বলার সাহস হয় না। ইতস্তত পায়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। কুপির আবছা আলোর খানিকটা এসে পড়েছে বাইরে। তাতে অন্ধকার যেন আরো গাঢ় হয়েছে। ঘরের পাশেই খানিকটা দুবলা জন্মেছে। কাঁথা দুটো বিছিয়ে বসে পড়ে বকতিয়ার। বসা থেকে শোয়া।

ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসে কান্নার চিকন সুর। মাথার ওপর উড়ে যায় দু-একটা বাদুড়। দূরে কোথাও ডেকে ওঠে রাত জাগা পাখি। বকতিয়ারের মন কেমন করে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভেতরের ম্যাড়ম্যাড়ে আলোটাকে ভৌতিক লাগে। এক মনে সেদিকেই চেয়ে থাকে বকতিয়ার। চেয়ে থাকতে থাকতে শরীরের সেই জ্বালাটা আবারো ফিরে আসে। খাল পাড়ের হিম মাখানো হাওয়ায় সে জ্বালা জুড়োয় না।

অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে থেকে খানিক এপাশ-ওপাশ করে বকতিয়ার। কান্নার শব্দ এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কি ঘুমিয়ে পড়লো মেয়েটা? তড়াক করে উঠে বসে বইক্যা চোরা। যেন শিকারের গন্ধ পেয়েছে কোনো নেকড়ে।

খড়ির আলগা দরজাটা এক পাশে সরিয়ে রাখে বকতিয়ার। উঁকি মেরে দেখে খালি তক্তার উপর শুয়ে আছে তার মনের মানুষ। পায়ের কাছে শাড়িটা কি একটু উঠে গেছে? ফর্সা একটা ভাব তাইতো বলে। ঘরে ঢুকতে গিয়েও ঢোকে না লোকটা। কিসের একটা ভয় ভর করে তার জ্বালা ধরা শরীরে। আশপাশে কেউ নেই। তারপরও এদিকে-ওদিক তাকায় বকতিয়ার। অন্ধকারেই দেখার চেষ্টা করে কোনো ছায়া চোখে পড়ে কি না।
(চলবে........)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×