
একটু আধটু নয় বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে শব্দটি যে করোনা টিকায় পশুর জিলোটিন ব্যাবহৃত হয়েছে , তাও শুকরের চর্বি থেকে আহরিত । লন্ডনে বেশ কজন মুফতি টিকা নিয়েছেন এবং বলেছেন টিকায় কোন হারাম জিনিষ ব্যাবহৃত হয়নি । কিন্তু কে শোনে কার কথা ! তারা টিকা নেবেন না । লন্ডন শহরে টেলিফোনে নাগরিকদের লিস্ট ধরে কল করে সময় জানিয়ে দেবার সময় এই বিপত্তি । তারা ডাক্তারকে বলেছে তোমরা মিথ্যা বলেছ , এটায় শুকরের জিলোটিন দেওয়া আছে , ডাক্তার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন । এরা মুসলিম এবং ইহুদি ধর্মাবলম্বী । একজন ৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ বলেই দিলেন ও আমাদের বুড়োরা গিনিপিগ , আমাদের উপর দিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তোমরা ইয়াংরা নেবে ? ওইদিনের আনপ্যাক করা টিকা ডাক্তার নার্স আর অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরা নিয়ে নিল ।
সউদি আরবে বাইওনটেক এর টিকা চলছে কিন্তু কেউই বলছে না এটা হারাম ।
আজকের গরম খবর হচ্ছে সউদি ক্রাউন প্রিন্স টিকা নিয়েছেন ।
ইজরায়েল থেকেও কোন খবর আসেনি যে টিকা কোশের না হারাম ।
মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ কাজ করছে। তাদের নানা প্রশ্ন। কেউ বলছেন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি এই ভ্যাকসিন বের করা সম্ভব হলো, ঠিকমত ট্রায়াল হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তারা। অনেকে সন্দেহ করছেন বয়স্কদের হয়তো গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বোর্ড অব স্কলারস অ্যান্ড ইমামস (বিবিএসআই)- যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা দেয় - তারা এ সপ্তাহে তাদের একটি বিবৃতিতে বলেছেন কোভিড ভ্যাকসিনের ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকেই তাদের কাছে প্রশ্নে করছেন।
যেমন, সংগঠনটি বলছে, এসব ভ্যাকসিনে যদি হালাল কায়দায় জবাই না করা গরুর বা শুয়োরের কোলাজেন থেকে তৈরি জেলাটিন থাকে, তাহলে তা হালাল হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরও অনেক মুসলিম চাইছেন।
বিবিএসআই, যাদের সাথে অনেক চিকিৎসকও জড়িত, তারা তাদের এক বিবৃতিতে মুসলিমদের আশ্বস্ত করেছেন ফাইজার বা মডার্নার ভ্যাকসিনে কোনো জেলাটিন ব্যবহৃত হয়নি।তারা নানা হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ইসলামে অসুস্থতা থেকে নিরাময়ের চেষ্টার নির্দেশ রয়েছ। তারা বলেছে, কোনো ওষুধে জেলাটিন বা এমন কিছু পদার্থ যদি থাকেও যা সাধারণভাবে হারাম বলে বিবেচিত হতে পারে, তাহলেও জীবন বাঁচাতে সেই ওষুধ সেবন হালাল। মজুত ও সরবরাহ সুবিধার জন্য স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে অনেক টিকাতেই শূকরের চর্বিজাত জেলাটিন ব্যবহার করা হয়৷ কিন্তু ইহুদি ও মুসলিম ধর্মে শূকরজাত পণ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় সুইস প্রতিষ্ঠান নোভার্টিসের মতো অনেকেই এখন বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে৷ কিন্তু ইন্দোনেশিয়াতে অবশ্য ওলামারা অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অতীতে৷ ২০১৮ সালে হাম ও রুবেলার টিকায় জেলাটিন ব্যবহার করা হয় বলে এই দুই টিকাকে হারাম বলে ঘোষণা করে দেশটির ওলামা কাউন্সিল৷ সন্তানকে টিকা না দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়৷ এর পরপরই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় দেশটিতে৷ হামে সংক্রমিত হওয়ার হারে বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ দেশে পরিণত হয় ইন্দোনেশিয়া৷ পরে ওলামা কাউন্সিল তাদের মন্তব্য পালটে ‘টিকা হালাল' ঘোষণা করলেও তখন সাধারণ মানুষ আর তাদের সন্তানদের টিকা দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেননি৷ ফলে এখন করোনার টিকা নিয়েও যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
অক্টোবরেই টিকা বিষয়ে চুক্তির জন্য ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু কূটনীতিক ও ইসলামি আলেম চীনে যান৷ কূটনীতিকেরা যখন দাম, পরিমাণ, সরবরাহ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, আলেমদের মূল দায়িত্ব ছিল টিকাটি হালাল কিনা তা নিশ্চিত করা৷ কিন্তু এখন চীনের টিকার বদলে যখন ইউরোপ-অ্যামেরিকার টিকা বাজারে চলে এসেছে, এ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে নতুনভাবে৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

