somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা কঠিন হচ্ছে

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা কঠিন হচ্ছে, তবে খোলা থাকছে ৭ বিকল্প।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি করতে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আদেশের ফলে দেশটির প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আমেরিকার স্বপ্নযাত্রার পথ সুগম করতে পারে এমন আরও কিছু বিকল্প ভিসা চালু থাকছে।

এইচ-১বি ভিসা কি

এইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ওয়ার্ক ভিসা। মূলত উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে এই ভিসা দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, গবেষণা, কিংবা শিক্ষকতার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মী নিয়োগে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিদেশি নাগরিকদের এই ভিসা স্পনসর করতে পারে। এই ভিসাধারী ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিবছর যতগুলো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করে তিন-চতুর্থাংশই পান ভারতীয় নাগরিকেরা। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রশন সার্ভিসের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী ভারতীয় ছিলেন ২ লাখ ৭৯ হাজার জন। এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিলেন চীনের ৪৫ হাজার জন। এই ভিসাধারীদের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার।তবে নতুন ফি নির্ধারণের ফলে এই জনপ্রিয় ভিসাটি এখন অনেকেরই নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এইচ-১বি ভিসার বিকল্প

এইচ-১বি ভিসার পথ কঠিন হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার জন্য আরও কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন তাদের এক নিবন্ধে এরকম সাতটি বিকল্প ভিসার কথা জানিয়েছে।

ক্যাপ-এক্সেম্পট এইচ-১বি

সাধারণত লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়, অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর জন্য এইচ-১বি ভিসার কোটা বা লটারির নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেলে কোটার বাইরেই সরাসরি এইচ-১বি ভিসা পাওয়া সম্ভব।

বহুজাতিক কোম্পানির কর্মীদের জন্য এল-১ ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বহুজাতিক কোম্পানির শাখা রয়েছে, তারা তাদের অন্য দেশের অফিসের ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ বা বিশেষজ্ঞ কর্মীদের এল-১ ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় স্থানান্তর করতে পারে। এক্ষেত্রে কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগের তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ওই কোম্পানির হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার অংশ হিসেবে 'অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং' (ওপিটি) এর আওতায় এক বছর কাজের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারী যদি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল বা গণিত (STEM) বিষয়ে পড়াশোনা করে থাকেন, তবে এই কাজের মেয়াদ আরও ২৪ মাস বাড়ানো যায়। অর্থাৎ, মোট তিন বছর কাজের সুযোগ পাওয়া যায়, যা পরবর্তী ভিসার পথ সহজ করে।

নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভিসা

কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য টিএন (টিএন) ভিসা, অস্ট্রেলিয়ার জন্য ই-৩ এবং চিলি ও সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য এইচ-১বি১ ভিসা রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্য চুক্তির আওতায় এসব দেশের পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের এসব দেশের নাগরিকত্ব আছে তারা এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করতে পারেন।

ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-১ এবং ই-২ ভিসা

যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বা বিনিয়োগের জন্য ই-১ বা ই-২ ভিসার আবেদন করতে পারেন।

বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য গ্রিন কার্ড

প্রায় ৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে ইবি-৫ ভিসার মাধ্যমে সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১৯৯০ সাল থেকে এই ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যবসা দাঁড় করাতে চান, তারা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

স্বামী বা স্ত্রীর ভিসার মাধ্যমে কাজের সুযোগ

অনেক সময় আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী যদি এল-১, ই-২ বা জে-১ ভিসাধারী হন, তবে তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। এমনকি আবেদন করা হলে এইচ-১বি ভিসাধারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীও কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

এইচ-১বি ভিসার পথ সংকুচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকায় যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিকল্প পথগুলো খোলা থাকছে। সঠিক তথ্য ও অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×