somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিভিজুড়ে ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের ত্রাস এবং স্বদেশী সংস্কৃতি গ্রাস

০১ লা নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর আগেও যখন আমাদের গ্রামে নতুন ডিশ সংযোগ এসেছে তখন ঢাকা থেকে ছুটিতে বাড়ি এলে টিভির রিমোট কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই আমার দখলে থাকতো । এমনকি প্রতিবেশিদের ঘরে টিভি দেখতে গেলেও আমাকে রিমোট দিয়ে বলতেন, ‘নে, কী দেখবি দেখ…।’ কিন্তু এখন গেলে রিমোট লুকিয়ে রাখে । বলে, ‘ওই যে আইছে!’ না এটা আমার প্রতি অসম্মান বা অসৌজন্য প্রকাশ নয়, এটা তাঁদের অসম্ভব সিরিয়ালপ্রীতি । আমি টিভি দেখতে বসলে আমার যে ছোট বোন আগে টিভির ধারেকাছেও আসতো না, সে এখন দলবল নিয়ে আসে আমার কাছ থেকে রিমোট বগলদাবা করতে । হাতেপায়ে ধরে বলে, ‘শুধু এই সিরিয়ালটা!’ সেই সিরিয়াল আর শেষ হয় না…। এটা শুধু আমার গ্রাম নয়, পুরো বাংলাদেশের চিত্র ।

সিরিয়ালের অধিকাংশ দর্শক গৃহিনী, যারা কী দেখলো না দেখলো সেটা নিয়ে কখনও এতটা ভাবিনি কিন্তু গত কয়েকদিন টিভি দেখতে বসে যখন লক্ষ্য করলাম আমার ৩ বছরের ভাতিজি বারবার এসে বিরক্ত করে বলছে, ‘কাকু কাকু, ইসতার জলছা দেন!!!’ তখন আমি অবাক, চিন্তিত, বিস্মিত । ইন্ডিয়ান বস্তাপঁচা সব সিরিয়ালের একই কাহিনী- ত্যানাপেচাইন্যা পরকীয়া ।

ভেবেছিলাম শুধু গ্রাম এবং শহরের গৃহিনীরাই শুধু সিরিয়াল দেখে কিন্তু ঈদের মধ্যে আমার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আধুনিকা-স্মার্ট বান্ধবীকে ফোন করলে যখন শুনি সে ‘টাপুর টুপুর’ সিরিয়াল দেখছে তখন আরও অবাক হই । অবশ্য ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন ঘন্টার পর ঘন্টা টিভির সামনে বসে থেকেও অসহ্য বিজ্ঞাপনের অত্যাচারে একটা ঈদের নাটক ও অনুষ্ঠানও পুরো দেখতে পারিনি । পরিচালকের ঘনিষ্টজন ছাড়া এ অত্যাচার কেউ সহ্য করে বলেও আমার মনে হয় না ।

ইন্ডিয়ান সিরিয়ালে এই বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনা নেই বললেই চলে, তার উপর রগরগে সব কাহিনী । মানুষ বাংলাদেশি চ্যানেল কেন দেখবে ? শুধু সিরিয়ালের দর্শকদের দোষ দিয়ে লাভ কী!

যখন আমরা আমাদের সিনেমার চেয়ে নাটক অনেক মানসম্মত-উন্নত বলে গর্ব করি । আমাদের রয়েছেন জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, অপি করিম, তারিন, তিশাদের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রী । আমাদের টিভি চ্যানেল মালিক, প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বলছি, ‘আপনারা এতো পরিশ্রম করে, লাখ-লাখ টাকা খরচ করে সুন্দর সুন্দর এক-একটা নাটক বানান তারপরও আমাদের দর্শকরা এদেশের নাটক কেন দেখছেনা, দয়া করে একবার ভাবুন ।’
এই সমস্ত চ্যানেল বন্ধ করা ছাড়া এই অবক্ষয়ের হাত থেকে মুক্তির আর কোনো উপায় নেই ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ২:১৭
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×