somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরান-আতঙ্ক ছড়ানোর সৌদি, তুর্কি ও ইসরাইলি প্রচেষ্টা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে সৌদি আরব, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের বিরোধিতায় অভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। নানাভাবে নানা কৌশলে তারা ইরানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়টিকে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

ইসরাইল ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গতকালের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, দু’টি সরকারই মনে করছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অতীত ব্যর্থতাকে ঢাকা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরান বিরোধী রব তুলতে হবে। কিন্তু তাদের বক্তব্য ছিল চর্বিত চর্বণ এবং মিথ্যার ফুলঝুরিতে পূর্ণ।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিউনিখ সম্মেলনে বলেছেন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চলছে। পাশাপাশি রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যু এবং অর্থনৈতিক সমস্যা। এ অবস্থায় ইসরাইলের সঙ্গে আরবদের ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা উচিত। তিনি ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ইরান অন্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর প্রতি যে ইঙ্গিত করেছেন তা অনেকাংশে বাস্তবসম্মত। কিন্তু এর কারণ হিসেবে তিনি যেদিকে ইশারা করেছেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আদেল আল-জুবায়ের প্রকৃতপক্ষে পুরো ঘটনাটিকে উল্টো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। সেই সঙ্গে তার বক্তব্যে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অভিযোগের মিল দেখা গেছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবারম্যান মিউনিখ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে ইরানকে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করে দাবি করেছেন, সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থক সবচেয়ে বড় দেশ হলো ইরান। তিনি আরো দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার প্রধান সমস্যা এখন আর ফিলিস্তিন নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও লিবারম্যানের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়াচ্ছে।

রিয়াদ, তেল আবিব ও আঙ্কারার এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ বিশ্লেষণ করলে এর একটিমাত্র উদ্দেশ্যই বেরিয়ে আসে; আর তাহলো ইরান-আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া। তবে এসব অভিযোগের পেছনে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কিছু লক্ষ্যও রয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইল চায় মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা ফিলিস্তিন থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে এদিক দিয়ে তেল আবিবকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দিয়েছেন। আদেল আল-জুবায়ের নিজেও চান ইয়েমেনে তার দেশের গত দুই বছরের বর্বরোচিত গণহত্যার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে।

কিন্তু এক্ষেত্রে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান বিরোধী বক্তব্যের সুস্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তুরস্ক দৃশ্যত অনেকগুলো ভূমিকায় অভিনয় করছে। দেশটি একদিন আইএসআইএল বা দায়েশকে সবরকম পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তো আরেকদিন দায়েশকে একহাত দেখিয়ে দেয়ার জন্য সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালায় এবং এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তুর্কি জনগণের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান চালায়।

তুরস্ক ও সৌদি আরব এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বেশিরভাগ সংকটের জন্য এই দু’টি দেশই দায়ী। ইরাক ও সিরিয়ার অনুমতি ছাড়াই ওই দু’টি দেশে সেনা পাঠিয়ে দেশ দু’টির নিরাপত্তাকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে তুরস্ক।

এ ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা ইরান মেনে নেবে না জেনেই এসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল, সৌদি আরব ও তুরস্ক আয়নায় নিজেদের চেহারা ও আচরণ দেখে আঁতকে উঠে সেই আচরণের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাহরাম কাসেমি যথার্থই বলেছেন, অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে তারা দায়মুক্ত থাকতে পারবে না।

সুত্রঃ পার্সটুডে।।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:১২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×