কাঁচে ঘেরা দেয়াল। শত কৃত্রিমতার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক আবহ তৈরির বেখাপ্পা আয়োজন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই পরিবেশ আমাকে আমার বিরক্তির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে নিয়ে গেছে। সব কাজ ফেলে কাঁচে ঘেরা পশ্চিম দেয়ালের কোল ঘেঁষে দাড়ালাম। তীরের মত চোখটা চলে গেল সামনের ফাঁকা মাঠটার পানে। কতিপয় শহুরে বালক খেলে চলেছে আপন মনে। খেলার ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঝগড়া। কতা শোনা না গেলেও তাদের মুখভঙ্গি দেখে তেমনটাই আন্দাজ করা যায়। হয়তোবা কেউ বলছে আউট আবার কেউ বলছে নট আউট ইত্যাদি ইত্যাদি। আচমকা আছাড় খেয়ে গেল আমার কোমল হৃদয়টা। কাল বিলম্ব না করে শাঁ শাঁ করে সোজা চলে গেলাম গ্রাম্য কৈশোর থেকে কৈশোরান্তরে। গ্রাম্য সুবোধ বালক আমি । মায়ের কোল ছাড়ার পরপরেই আমার সখ্যতা হয় আমার পল্লী জননীর সাথে। সেই বন্ধুত্বে পল্লী মাতার সম্মতি থাক আর না থাক তা কখনো ভাববার অবকাশ নেই আমার। সময়ের সাথে সাথে আমার আমিত্বে জগদ্দল পাথরের মত ভর করে দুরন্তিপনা কিংবা দস্যিপনা। সেই কাক ডাকা ভোরে নিদ্রার সাথে আমার বিচ্ছেদ ঘটে। ঝড় বৃষ্টি শীতকে এক লাথিতে দুরে সরিয়ে চলে যেতাম মাঠের পানে। নিমিষেই জড়ো হয়ে যায় নাঙগা ভুখার দল। শুরু হয় মার্বেল খেলা। খেলার ফাঁকে ফাঁকে কত হানাহানি কাটাকাটি মারামারি হতো আজ তা আমাকে নস্টালজিক করে তোলে। ক্ষুধার জ্বালা না অনুভব না করলে কখনোই জানতাম না কখন দিনের উত্তম ভাগ কেটে যেত। পেটপূজার জন্য চলে যেতাম মাতৃগৃহে। নিমেষ তরে আপন মাতা হয়ে যেত পর। হারামজাদা , তোর ভাত নাই। যার স্কুল নাই তার ভাতও নাই। এভাবে কত দিন যে চলে গেছে। তাতে কি। সোজা চলে যেতাম পুকুর পানে। পরণের শার্ট প্যান্ট খুলে ফেলে উঠে পড়তাম গাছের মাথায়। তারপর চিত হয়ে লাফ দিতাম গভীর পানিতে। অনির্দিষ্ট কাল ব্যাপিয়া চলতো ডুবাডুবি আর সাতার কাটার খেলা। ভেজা শরীরে কাপর পরে আবার মাঠ পানে চলে যেতাম। খেলতাম কত জানা অজানা খেলা। সন্ধ্যা হতে না হতেই রাজ্যের তন্দ্রা এসে ভিড় জমাতো আমার চোখের কোনায়।তারপর চলতো ঘুম আর ঘুম সেই সাথে স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ। সময় পেরিয়া গেছে . আমার কৈশরত্বও আর নেই। কিন্তু মনের সেই কৈশরত্বকে কে ঠেকাবে বয়স না কাঁচের দেয়াল ?
কিন্তু মনের সেই কৈশরত্বকে কে ঠেকাবে বয়স না কাঁচের দেয়াল ?

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মূল্যটা খুব কম দিইনি...
মূল্যটা খুব কম দিইনি...
দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়
বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন
গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন
গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প
রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
সীমান্তের সুলতান

টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
রুবা

শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।