somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

হযরত শাহ জালাল (রহঃ )-এর সিলেট বিজয় সম্পর্কে হিন্দু ঐতিহাসিকগণ যা বলেছেন

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইসলাম তরবারী দ্বারা বিস্তার লাভ করেছে। অনেকেই এটা বলে থাকেন। এর জবাবে আবার অনেকে ইসলামকে এমন অকেজো এক ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করেন যা দেখে বোধ হয়, মুসলমানরা মনে হয় কোন দিনও তরবারী হাতে নেননি। এই দুই পক্ষেরই মতামতকে মূল্যায়িত করে আমার মতামত এই যে, ভালো মুসলমানেরা মাঝে মাঝে তরবারী হাতে নিয়েছেন, তবে তা মানবতার খাতিরে। ইসলামের সঠিক অনুসারীরা যখনই কোন অমানবিক কোন কিছু দেখেছেন, সেটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, দরকার হলে খোলা তলোয়ার তাঁদের সাথী হয়েছে।

এমনকি সুফি সাধক হযরত শাহ জালাল (রহঃ )-এরও তরবারী ছিলো যা আজও সিলেটে তাঁর দরবার শরীফে রয়েছে। সিলেটের রাজা গৌড় গবীন্দের অত্যাচার যখন চরমে উঠে, তিনি তাঁর সাথীদের নিয়ে সিলেট বিজয় করেছিলেন সেই তরবারী সাথে নিয়েই! যদিও, তা ব্যবহার করতে হয়নি। কারণ, তাঁদের আধ্যাত্মিক বলের কাছে পরাজিত হয়েছিলো সিলেটের তৎকালীন অত্যাচারী রাজা। আর, হযরত শাহ জালাল (রহঃ )-এর আধ্যাত্মিকতা এতোটাই সিলেটের মানুষের মনে দাগ কেটেছিলো যে, সে সময়ের সব বর্ণের হিন্দু প্রজারা দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই সম্পর্কে ১৩২২ বঙ্গাব্দে দীনকান্ত চক্রবর্তী সাহিত্যসিন্ধু মাসিক শ্রীভূমিতে লিখেছিলেন-

''পীর শাহ জালাল (রহ.)-এর গুণগানে বিমোহিত হইয়া বহু হিন্দু ইসলামের আশ্রয় গ্রহণ করিল। গোবিন্দ দেবের আত্মীয়-স্বজনও স্বধর্ম পরিত্যাগ করিল, এমনকি লাউড়ের ব্রাহ্মণ রাজ পরিবার ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হইয়া অতঃপর রাজা স্থলে 'রেজা' উপাধীতে সম্মানীত হইলেন।''

সিলেট বিজয় করলেও সেই ভূমির অধিবাসীদের কোন রুপ অত্যাচার করা হয়েছে এই মর্মে এখনো কোন হিন্দু অভিযোগ করেননি। অতীতের ইতিহসা ঘেটে সুরেন্দ্রকুমার দাস চৌধুরী তাঁর 'শাহ জালালের মাটি' নামক বইতে লিখেছেন-

''হযরত শাহ জালাল এবং তদীয় অনুষঙ্গিগণের মধ্যে কেহ কখনো কোন অবস্থায় হিন্দু দেবদেবীর প্রতি কোনরূপ অন্যায় ব্যবহার করিয়াছিলেন বলিয়া শোনা যায় নাই। শ্রীহট্ট বিজয় অসী সাহায্যে সম্পন্ন হয় নাই। পাশবিক বলপ্রয়োগের কোন নিদর্শন কোথাও নাই।''

সুরেন্দ্রকুমার শ্রদ্ধা ভরে আরো লিখেছেন- ''হযরতের অনুষঙ্গীরা প্রায়শঃ নির্জন বনভূমিতে বাস করিয়া ইসলাম জপ করতঃ কালাতিপাত করিয়াছিলেন। তাঁহারা নিজ নিজ তপঃ-সিদ্ধির প্রভাবে শত্রু-হৃদয় জয় করিয়া বিনা রণে বিনা রক্তপাতে শ্রীহট্টে ইসলামের বিজয় বৈজয়ন্তী উড্ডীন করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন।''

সিলেট বিজয় নিয়ে শ্রী নগেন্দ্রনাথ মিত্র লিখেছেন- ''আমাদের ইতিহাসে কখনোই বাঙলা দেশের তথা ভারতের বিভিন্ন অংশের ন্যায় মসজিদের সম্মুখ দিয়ে ঢোল বাজনা প্রভৃতির কারণে কোন রুপ গোলযোগ সৃষ্টি হয় নাই।''

তাই তো নরেন্দ্রকুমার গুপ্ত চৌধুরী 'শ্রীহট্ট প্রতিভা'য় লিখেছেন- ''হিন্দুগণ অদ্যপি পীর শাহ জালালের দরগায় অভীষ্ট সিদ্ধির আশায় বাতি দান করিয়া থাকেন, এবং দরগায় প্রতি মুসলমান ভাইদের মতো সমান শ্রদ্ধার ভাব মনে পোষন করিয়া থাকেন।''

আজকের লেখাটি শেষ করবো হযরত শাহ জালাল (রহঃ )-কে নিয়ে একটি মজার ঘটনার মাধ্যমে।

হযরত শাহ জালাল (রহঃ ) ধর্ম পালন ও সমাজ সেবায় এতোটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, সারা জীবনে আর বিয়ে করা হয়ে উঠেনি। একবার হলো কি, সিলেটে খুব শীত পড়েছে। শাহ জালাল (রহঃ )-এর সঙ্গী-সাথীরা সব সময়ই পোশাক-আশাকের দিক দিয়ে উদাসীন ছিলেন। কিন্তু সেবার শীত তাঁদেরকে বেশ কাবু করে ফেলে। তাই, তাঁরা শাহ জালাল (রহঃ )-এর দরবারে এসে কিছু শীত বস্ত্রের জন্যে অনুরোধ করলেন।

সেই সময়ে সিলেটের শাসক ছিলেন সিকান্দার গাজী। শাহ জালাল (রহঃ ) তাঁকে ডেকে বললেন- 'এবার শীত বড় বেশি পড়ছে, একটা ব্যবস্থা কর।'

সিকান্দার গাজী শাহ জালাল (রহঃ )-এর কথা ভুল বুঝলেন। তিনি মনে করলেন যে, শীতের দিনে গা গরম রাখতে দরবেশ তাঁর কাছে সুন্দরী কোন রমণী'র সংসর্গ চাইছেন!

সিলেটের শাসনকর্তা অনেক খুঁজে এক পরমা সুন্দরী নারীকে পালকিতে করে শাহ জালাল রহঃ-এর দরবারে পাঠালেন। সেই রমণীকে নিজের দরবারে হাজির দেখে বিস্ময়াহত হয়ে শাহ জালাল (রহ :) বললেন-

'হায়! সেকান্দর গাজী সংসার সমুদ্রে নিজে ডুবেছে। সে আমাকেও ডুবাতে চায়!'
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×