somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যিনি 'আলিফ'-এ খোদাকে পেয়ে যান, তাঁর কিতাব দিয়ে কি হবে?

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৩৩০ সাল, সকাল ১১টা

মাইদি ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বসে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের কথা পড়ছে। ভিডিউটারে সেই ব্যক্তির লেখা একটি কবিতা ভেসে উঠে-

''তুমি বৃন্দাবনে গরু চরিয়েছিলে, লংকাতে বাজিয়েছিলে বিজয়ানাদ ,
তুমি মক্কাতে হাজি রুপে এসেছিলে আবার।
আশ্চর্য, তুমি কত রুপ, কত রং-ই না বদলালে,
এখন তুমি কি লুকিয়ে থাকতে পারবে আর?"


বাহ! খুব সুন্দর কথা! মনে মনে ভাবে ছেলেটি। সে এবারে সেন্ট্রাল কম্পিউটারকে মনে মনে জিজ্ঞাসা করে-
'উনার নাম?'

সামনের ভিডিউটার সাথে সাথে ফ্ল্যাশ করে-
'বুল্লেহ শাহ। আসল নাম সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহ কাদরী(রাঃ)।'

'উনি কে ছিলেন?' আবারো জিজ্ঞাসা করে মাইদি।

'উনি ছিলেন ভারতবর্ষের বিখ্যাত সুফি সাধক, যদিও তোমার দেশের অনেকের কাছে অজানা নামটি।'

'উনার উপরের কথাগুলো বোধহয় উর্দু বা হিন্দিতে লেখা কবিতা। লাইনগুলোকে কি কেউ বাংলায় ছন্দাকারে সাজায়নি?'

এবারে স্ক্রিনে ভেসে উঠা মেয়েটি একটু সময় নেয়। তারপর বলে,
'
'সত্যপথিক শাইয়্যান নামের এক ব্লগার করেছিলো। কিন্তু, শাইয়্যানের লেখা ভাবার্থে কিছু গণ্ডগোল থাকায় সেটা উনি গোপন করে গেছেন। যারা ছন্দের কারুকার্য জানেন, তাঁদের জন্যে নয় এটা।'

'তবুও, আমি জানতে চাই। তুমি তো জানো আমার এগারো মাত্রার পারমিশন আছে। আমি যে কোন কিছু জানতে চাইতে পারি।'

এবারে স্ক্রিনে ভেসে উঠে সত্যপথিকের লেখা লাইনগুলো-

বৃন্দাবনে গরু চরিয়েছো তুমি, লংকাতে এনেছো বিজয়,
তোমার আগমনে মক্কার ভূমি, হয়ে উঠেছিলো অক্ষয়।
আশ্চর্য হই, কত রুপ যে তোমার, কত রং-ই না বদলাও তুমি,
কোথায় এখন লুকাবে তোমায়, কোন বাগানে থাকবে শুনি?


'হুম, ভালোই তো! যাহোক, বুল্লেহ শাহ সম্পর্কে আরো কিছু তোমার তথ্য ভান্ডারে আছে কি?'

''আছে। উনার সম্পর্কে একটা মজার কাহিনী আছে।'

উনি ছোটবেলায় পড়া-লেখায় খুব অমনোযোগী ছিলেন। তা দেখে উনার বাবা একটি মক্তবে পাঠান যদি অন্যান শিক্ষার্থীদের সাথে থেকে কিছু শিখতে পারেন উনি। কিন্তু, বিধি বাম! একদিন শিক্ষক দেখতে পান, শিশু বুল্লেহ শাহ শুধুই আলিফ নিয়ে আছেন, অন্য দিকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আরবী বর্ণমালা শেখা শেষ করে কায়দা ধরে ফেলেছে! শিক্ষক খুব রাগান্বিত হয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন।

অগত্যা, বুল্লেহ শাহের পিতা অন্য এক শিক্ষকের কাছে পাঠালেন পড়া শিখতে। সেখানেও ঐ একই অবস্থা! উনি 'আলিফ'-এর বেশি শিখতে পারলেন না। শিক্ষক জানালেন যে ছাত্রের মাথায় কিচছু নেই।

ওদিকে বুল্লেহ শাহ'রও এসব ভালো লাগছিলো না। তাই, তিনি জঙ্গলে পালিয়ে গেলেন একদিন। সেখানে গিয়ে হলো এক মহাবিপত্তি! যেদিকেই তাকান শুধুই 'আলিফ'! গাছ-পালা, লতা-পাতা, পাহাড়-পর্বত, পশু-পাখি, যেদিকেই তাকান, সবই আলিফ-এর রুপ নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হয়। তাই দেখে একদিন তিনি গেয়ে উঠেন-

'আমি পেয়েছি, আমি পেয়েছি, সদ্গুরুতে অরূপ আল্লাহকে সরূপে আমি পেয়েছি'

এবারে তিনি নিজের পুরোনো শিক্ষকের কাছে ফিরে গেলেন। বললেন-
'আপনি মেহেরবানী করে আমাকে পাঠ শিখতে দিয়েছেন। আপনি যা শিখিয়েছিলেন, আমি তা আয়ত্বে এনেছি।'

শিক্ষক তাচ্ছিল্য ভরে বললেন- 'লেখো দেখি দেয়ালে যা শিখে এসেছো তুমি!'

বুল্লেহ শাহ দেয়ালে লিখলেন- 'আলিফ'

সাথে সাথে ঐ দেয়াল ভেঙ্গে পড়লো!

শিক্ষক হতবাক হয়ে বললেন-
'আজ থেকে তুমিই আমার শিক্ষক। এক আলিফ অক্ষর দিয়ে তুমি যা শিখেছো, আমি সারা জীবনের শিক্ষা দিয়েও তা শিখতে পারিনি।'

ভিডিউটারের মেয়েটি বলে উঠে- 'উনার লেখা একটি গান শুনবে, মাই্দি?'

'শুনাও।'

স্ক্রিনে ভেসে উঠা গানটি শুনতে শুনতে ভাবনার অতলে হারিয়ে যায় মাইদি-


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×