somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

ঢাকার রাস্তায় শাইয়্যানকে সাথে নিয়ে কয়েক টুকরো হাসি কেনা

৩১ শে জুলাই, ২০২৫ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রদ্ধেয় গুরু শামস তাবরীজী,
আসসালামু আলাইকুম। আপনার কাছ থেকে শিখে একবার বলেছিলাম - "এবার নিজেকে এক টুকরো হাসি দাও! হীরার কি দাম আছে যদি সে হাসি দিতেই না পারে!" আমি আমার বন্ধু শাইয়্যানকে কিভাবে হাসি দিতে হয় তা শিখাতে চাই।

তার চারদিকে এত্তো এত্তো দুঃখের ছড়াছড়ি! আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের দামামা, দেশে খুন-রাহাজানি-রেপ লেগেই আছে! রাজনৈতিক দলগুলোর মারামারি! রাতের ঢাকা শহরে মাদকের ফেরিওয়ালার খবর আগেই চাউর হয়েছে বেশ! এর মাঝে সে হাসি দিবে কিভাবে!

তাই, একদিন শাইয়্যানের কানে কানে বললাম- চলো, কিছু হাসি কিনি! তা যদি পারি, আমাদের কেনা এই হাসিগুলো তোমাকে সারা জীবন পথ দেখিয়ে যাবে, এমনকি চারদিকে যদি দুঃখের পাহাড়ও থাকে! প্ল্যান মোতাবেক, তাঁকে সাথে নিয়ে বের হলাম ঢাকার পথে।

ঢাকার লালমাটিয়া এলাকা আগে কি সুন্দর ছিলো! এখন যেন ময়লার ভাগাড়! ছিঃ! যারা রাস্তায় থুথু আর ময়লা ফেলে এরা কেমন মানুষ! এলাকার কমিশনার সাহেব করছেন কি! শাইয়্যানকে জিজ্ঞাসা করতেই সে বললো - গুরু, কমিশনার সাহেবকে রাস্তায় ময়লার ছবি পাঠিয়েছিলাম। উনি বলেছেন যে, ব্যবস্থা নিবেন। আমি তার কথা শুনে হাসলাম আর বললাম-

"যা-ই ঘটুক না কেন, হেসে যাও এবং ভালোবাসার কাছে ধরা দাও! "

ঐ দেখো, শীতের মাঝেও খালি পায়ে কিছু শিশু মলিন মুখে রাস্তায় ঘুরছে। শাইয়্যান, ওদেরকে কিছু চকলেট বিলানো যাক! দেখি ওদের মুখের মলিনতা দুর হয় কি না! শাইয়্যান আমার কথা শুনে একগাদা চকলেট কিনলো পাশের একটি দোকান থেকে।



কিছুক্ষণ পরে শাইয়্যানের বিবিজানও আমাদের সাথে যোগ দিলো। বড় ভালো মেয়ে! শাইয়্যানের কথা সব সময় মেনে চলে। শাইয়্যানও তার বিবিজানের মজার মজার জোকস শুনে মুখ এতো বিরাট হা করে এমন ভাবে হাসে যে মাঝে মাঝে বুঝি তার মুখে মাছি ঢুকে যায়! শাইয়্যানের এমন চাপা শুনে আমি হাসি।

"আমি ফুলের মতো হাসি, সেই হাসি আমার ঠোঁটের সীমারেখা পেরিয়ে সারা স্বত্বায় ছড়িয়ে পড়ে!"

আমরা আবার ঢাকার রাজপথে নামলাম। সাথে এক হাঁড়ি চকলেট। ধানমণ্ডি ২৭ নাম্বারের স্বপ্ন চেইন শপের সামনে অনেক অবহেলিত শিশুর দাঁড়িয়ে আছে! আমি আমি শাইয়্যান ও তার স্ত্রীকে ওদের মাঝে কিছু চকলেট বিলিয়ে দিতে বললাম। চকলেট পেয়ে তাদের কি খুশি! তারা ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দিতে বললো - দাদু, তোমরা কি ভালো!

আমাদের চারপাশে ভীড় জমে গিয়েছিলো! স্বপ্ন দোকানটার দারোয়ান আমাদের বেশিক্ষণ সেখানে দাঁড়াতে দিলো না! আমার খুব রাগ হলো! কিন্তু, খুব শীঘ্রই রাগ সামলে উঠলাম। কারণ? আমি তো রুমী।

"আমার কাছে সত্যিকারের হাসির মতো মূল্যবান কিছুই পৃথিবীতে নেই, বিশেষ করে একটি শিশুর কাছ থেকে যদি তা আসে।"



আমরা আগে বাড়লাম। এবারে, আড়ং-এর সামনে যাওয়ার পালা! সেখানেও অনেক পথশিশু ভীড় করে থাকে! তাদেরকে চকলেট বিলিয়ে আসাদগেট বাস স্ট্যান্ডের সামনে এক ফোকলা দেঁতো শিশুকে তার বান্ধবীর সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। চকলেট পেয়ে তাদের সে কি হাসি!

ডেকচিতে উঁকি দিয়ে দেখলাম বেশ কিছু চকলেট রয়ে গিয়েছে। আসাদগেট বেহারী ক্যম্পের সামনে আসতেই, কিছু শিশু আমাদের ঘিরে ধরলো। তারাও চকলেট চায়।

শাইয়্যান বললো - এক মুঠোয় তোমরা যতগুলো নিতে পারবে, সব তোমাদের।

সবাই মুঠো মুঠো চকলেট হাতে নিলো। তাদের মাঝে একটা মেয়ে ছিলো কিছুটা দূর্বল। তার মুঠোয় বেশি চকলেট উঠলো না! শাইয়্যানকে বললাম- ওর হাতে আরও কিছু চকলেটে তুলে দাও।

আমাদের সব চকলেট শেষ হয়ে গেলো! এবারে বাড়ি ফেলার পালার। বাড়ি ফিরতে ফিরতে গুনগুন করে গেয়ে উঠলাম-

"খুব অল্প কিছু বাদে পৃথিবীর সব মানুষই শিশু। মুক্ত ইচ্ছা ছাড়া কেউ বড় হয় না।"




ইতি,
আপনার একান্ত অনুগত রুমী

=====
২০২২ সালের ঘটনা
=============
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২৫ রাত ১০:৩৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সকালে শিক্ষক, বিকালে সবজি বিক্রেতা

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪৯


মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন আলোড়ন সৃষ্টিকারী পদক্ষেপে যখন মিডিয়া জগৎ সয়লাব এমনি সময় হটাৎ করেই ইউ টিউবে একটা ভিডিও চোখে পড়লো। ২ মিনিটের এ ভিডিওটা সেলফ এক্সপ্লানেটোরি ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়াময় স্মৃতি, পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫….(৯)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

অষ্টম পর্বের লিঙ্কঃ পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

১০ই জিলহজ্জ্ব তারিখে (০৬ জুন ২০২৫) সূর্যোদয়ের আগেই আমরা মুযদালিফা থেকে রওনা হয়ে সকাল সকাল ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

প্রথমেই বলা দরকার, "অনূদিত" শব্দটি সাধারণত সঠিক এবং প্রমিত বানান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন অর্থ "অনুবাদ করা হয়েছে এমন" বা "ভাষান্তরিত"... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শেকল ভাঙার গান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

রক্ত-আগুনে প্রতিবাদ চলুক,
বিক্ষোভের অনলে সারাদেশ জ্বলুক ।
শেষ থেকে শুরু হোক না আবার,
নতুন করে তো কিছু নেই হারাবার!

পুনরায় বিনাশিব তিমির রাত
আঁধার কেটে জাগবে প্রভাত।

দিকে দিকে সংগঠিত হও... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×