ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট ছেড়ে দেওয়ায় এক দিক দিয়ে বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হলো। রাজনীতির স্বার্থে মুসলমানদের ঈমান ও আকিদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না—আর সেটাই হচ্ছিল নীরবে, ধীরে ধীরে।
জামায়াতে ইসলামী যখন প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা দেয় যে তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবে না, তখন পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যায়। এই ঘোষণার পরেও যদি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো একটি আদর্শিক ইসলামী দল একই জোটে অবস্থান করত, তাহলে তা হতো আত্মবিরোধী এবং নীতিগতভাবে অসংগত। কারণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তিই হলো—ইসলামের নীতি, মূল্যবোধ ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান।
রাজনীতি হতে পারে কৌশলের জায়গা, কিন্তু ঈমান কোনো কৌশলের বিষয় নয়। ক্ষমতার সম্ভাবনার জন্য যদি ইসলামের মৌলিক আদর্শকে আড়ালে সরিয়ে রাখতে হয়, তবে সেই রাজনীতি শেষ পর্যন্ত মুসলমানদেরই ক্ষতি করে। এই দিক থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত পদক্ষেপ।
এই প্রস্থান শুধু একটি জোট ভাঙার ঘটনা নয়; এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—ইসলামের নামে রাজনীতি করে ইসলামী শাসনের প্রশ্নে আপস করা যাবে না। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এটি একটি স্বস্তির জায়গা। অন্তত এখন তারা জানেন, কোন দল আদর্শের প্রশ্নে অটল, আর কোন দল ক্ষমতার প্রশ্নে সমঝোতায় প্রস্তুত।
শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটেছে, যা হওয়াই উচিত ছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


