
ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধে বাংলাদেশ কতটুকু বিপদে পড়বে? ইরানে মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেলস্থাপনায় অজ্ঞাত সোর্স (ইস্রায়েল?) থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেলের দাম অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে দিবে। যেহেতু, বিমান চলাচল বন্ধ, হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু, ঐ এলাকা থেকে তেল আমদানী কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের মতো তেল আমদানীকারক দেশগুলো কী অবস্থায় পড়বে? বিরাট একটি প্রশ্ন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুদ আছে কি?
এখন টিভির একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বিপিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, 'বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বিভিন্ন ধরণের জ্বালানি তেল কতদিনের জন্য মজুত আছে, তার একটি বিস্তারিত হিসাব তিনি তুলে ধরেন: ডিজেল (Diesel): ১৪ দিনের মজুত। অকটেন (Octane): ২৮ দিনের মজুত।'
অন্যদিকে, আরেকটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, মার্কিন সূত্র বলছে এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বয়া মাসব্যাপী চলতে পারে। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ কি করতে পারে? বিকল্প কোন দেশ থেকে জ্বালানী আমদানী করতে পারে? যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে কি বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের বাজার স্তিতিশীল রাখা যাবে কি? রাখা গেলে কীভাবে? রাখা না গেলে সরকার কি করতে পারেন?
বিকল্প কোন দেশ থেকে আমদানি সম্ভব?
ভাল খবর: বাংলাদেশের রিফাইন্ড ফুয়েল সোর্স কিছুটা ডাইভার্সিফাইড—BPC কর্মকর্তারা বলেছেন মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া থেকে জুন পর্যন্ত আমদানি চলছে/আসবে এবং এগুলো সরাসরি হরমুজ-রিলেটেড নয়। TBS-এও উল্লেখ আছে যে রিফাইন্ড পণ্য বিভিন্ন দেশ (চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া + কিছু মধ্যপ্রাচ্য) থেকে আসে - এতে “এক রুটে সব আটকে যাবে” ঝুঁকি কিছুটা কমে। তবে সতর্কতা: কাঁচা তেল বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে - Daily Star বলছে, দেশ কাঁচা তেল “মূলত” সৌদি আরব ও UAE থেকে আনে; হরমুজ-ঝুঁকি থাকলে কাঁচা তেলের ফ্লো/দাম চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা যাবে?
পুরোপুরি আগের দামে রাখা কঠিন, কিন্তু শক-ম্যানেজ করা সম্ভব - সরকার “দাম-ঝাঁকুনি”কে নিয়ন্ত্রণ করে ধাপে ধাপে সমন্বয় + টার্গেটেড সাপোর্ট দিতে পারে। বাস্তবে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি আসে ৩ জায়গা দিয়ে:
--- ট্রান্সপোর্ট কস্ট (ডিজেল) → খাদ্য সরবরাহ/সবজি/পণ্য পরিবহন
--- সেচ/কৃষি (ডিজেল) → উৎপাদন খরচ
--- শিল্প/বিদ্যুৎ (গ্যাস/LNG/ফার্নেস অয়েল) → উৎপাদন খরচ/চাকরি/মূল্যস্ফীতি
সরকার এখন কী করতে পারে - একটি “৭২ ঘণ্টা + ৩০ দিন + ৯০ দিন” অ্যাকশন প্ল্যান
---------------------
ক) আগামী ৭২ ঘণ্টা
-----------------------
একটি জাতীয় “Fuel & Food Shock Cell” (BPC–Petrobangla–Finance–Bangladesh Bank–TCB–Ports) চালু করে দৈনিক ড্যাশবোর্ড: স্টক/শিপমেন্ট/ফ্রেইট/ডলার/দাম।
পাবলিক কমিউনিকেশন: “স্টক কতদিন” - স্বচ্ছভাবে সাপ্তাহিক ব্রিফ; বাজারে গুজব/প্যানিক-বাইং কমে।
---------------------
খ) আগামী ৩০ দিন
---------------------
ডিজেল/পেট্রোলের জন্য স্পট টেন্ডার + ব্যাকআপ টার্ম কন্ট্রাক্ট-যেসব সোর্সে হরমুজ এক্সপোজার কম। (Daily Star অনুযায়ী জুন পর্যন্ত কিছু সোর্স ইতিমধ্যে ডাইভার্সিফাইড-এটা আরও টাইট করতে হবে।)
ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট (রেশনিং নয়—স্মার্ট কন্ট্রোল):
--- সরকারি গাড়ি/অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো
--- শিল্পে “লোড শিফট” ইনসেনটিভ (অফ-পিক)
--- গণপরিবহন অগ্রাধিকার (বাসে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল নিশ্চিত)
খাদ্য বাজার স্থিতিশীলতা: ট্রাক/লজিস্টিকের জন্য “ফুয়েল প্রাইওরিটি” দিলে চাল-ডাল-সবজি-ঔষধের সাপ্লাই চেইন কম কাঁপে।
---------------------
গ) আগামী ৯০ দিন
---------------------
টার্গেটেড সাপোর্ট: সবার জন্য ভর্তুকি না দিয়ে - পরিবহন, কৃষি সেচ, খাদ্য সরবরাহ চেইনকে টার্গেট।
স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ: ডিজেল কভারেজকে অন্তত ৩০ দিনের দিকে নিতে ধাপে ধাপে স্টোরেজ/ফাইন্যান্সিং প্ল্যান (TBS/Daily Star–এর স্টক কাঠামো দেখাচ্ছে ডিজেলে কভারেজ তুলনামূলক কম)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



