somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরানে যুদ্ধের ফলে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি কি ঝুঁকিতে?

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধে বাংলাদেশ কতটুকু বিপদে পড়বে? ইরানে মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেলস্থাপনায় অজ্ঞাত সোর্স (ইস্রায়েল?) থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেলের দাম অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে দিবে। যেহেতু, বিমান চলাচল বন্ধ, হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু, ঐ এলাকা থেকে তেল আমদানী কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের মতো তেল আমদানীকারক দেশগুলো কী অবস্থায় পড়বে? বিরাট একটি প্রশ্ন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুদ আছে কি?

এখন টিভির একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বিপিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, 'বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বিভিন্ন ধরণের জ্বালানি তেল কতদিনের জন্য মজুত আছে, তার একটি বিস্তারিত হিসাব তিনি তুলে ধরেন: ডিজেল (Diesel): ১৪ দিনের মজুত। অকটেন (Octane): ২৮ দিনের মজুত।'

অন্যদিকে, আরেকটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, মার্কিন সূত্র বলছে এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বয়া মাসব্যাপী চলতে পারে। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ কি করতে পারে? বিকল্প কোন দেশ থেকে জ্বালানী আমদানী করতে পারে? যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে কি বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের বাজার স্তিতিশীল রাখা যাবে কি? রাখা গেলে কীভাবে? রাখা না গেলে সরকার কি করতে পারেন?

বিকল্প কোন দেশ থেকে আমদানি সম্ভব?

ভাল খবর: বাংলাদেশের রিফাইন্ড ফুয়েল সোর্স কিছুটা ডাইভার্সিফাইড—BPC কর্মকর্তারা বলেছেন মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া থেকে জুন পর্যন্ত আমদানি চলছে/আসবে এবং এগুলো সরাসরি হরমুজ-রিলেটেড নয়। TBS-এও উল্লেখ আছে যে রিফাইন্ড পণ্য বিভিন্ন দেশ (চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া + কিছু মধ্যপ্রাচ্য) থেকে আসে - এতে “এক রুটে সব আটকে যাবে” ঝুঁকি কিছুটা কমে। তবে সতর্কতা: কাঁচা তেল বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে - Daily Star বলছে, দেশ কাঁচা তেল “মূলত” সৌদি আরব ও UAE থেকে আনে; হরমুজ-ঝুঁকি থাকলে কাঁচা তেলের ফ্লো/দাম চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা যাবে?

পুরোপুরি আগের দামে রাখা কঠিন, কিন্তু শক-ম্যানেজ করা সম্ভব - সরকার “দাম-ঝাঁকুনি”কে নিয়ন্ত্রণ করে ধাপে ধাপে সমন্বয় + টার্গেটেড সাপোর্ট দিতে পারে। বাস্তবে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি আসে ৩ জায়গা দিয়ে:

--- ট্রান্সপোর্ট কস্ট (ডিজেল) → খাদ্য সরবরাহ/সবজি/পণ্য পরিবহন
--- সেচ/কৃষি (ডিজেল) → উৎপাদন খরচ
--- শিল্প/বিদ্যুৎ (গ্যাস/LNG/ফার্নেস অয়েল) → উৎপাদন খরচ/চাকরি/মূল্যস্ফীতি

সরকার এখন কী করতে পারে - একটি “৭২ ঘণ্টা + ৩০ দিন + ৯০ দিন” অ্যাকশন প্ল্যান

---------------------
ক) আগামী ৭২ ঘণ্টা
-----------------------
একটি জাতীয় “Fuel & Food Shock Cell” (BPC–Petrobangla–Finance–Bangladesh Bank–TCB–Ports) চালু করে দৈনিক ড্যাশবোর্ড: স্টক/শিপমেন্ট/ফ্রেইট/ডলার/দাম।

পাবলিক কমিউনিকেশন: “স্টক কতদিন” - স্বচ্ছভাবে সাপ্তাহিক ব্রিফ; বাজারে গুজব/প্যানিক-বাইং কমে।

---------------------
খ) আগামী ৩০ দিন
---------------------
ডিজেল/পেট্রোলের জন্য স্পট টেন্ডার + ব্যাকআপ টার্ম কন্ট্রাক্ট-যেসব সোর্সে হরমুজ এক্সপোজার কম। (Daily Star অনুযায়ী জুন পর্যন্ত কিছু সোর্স ইতিমধ্যে ডাইভার্সিফাইড-এটা আরও টাইট করতে হবে।)

ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট (রেশনিং নয়—স্মার্ট কন্ট্রোল):
--- সরকারি গাড়ি/অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো
--- শিল্পে “লোড শিফট” ইনসেনটিভ (অফ-পিক)
--- গণপরিবহন অগ্রাধিকার (বাসে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল নিশ্চিত)

খাদ্য বাজার স্থিতিশীলতা: ট্রাক/লজিস্টিকের জন্য “ফুয়েল প্রাইওরিটি” দিলে চাল-ডাল-সবজি-ঔষধের সাপ্লাই চেইন কম কাঁপে।

---------------------
গ) আগামী ৯০ দিন
---------------------

টার্গেটেড সাপোর্ট: সবার জন্য ভর্তুকি না দিয়ে - পরিবহন, কৃষি সেচ, খাদ্য সরবরাহ চেইনকে টার্গেট।

স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ: ডিজেল কভারেজকে অন্তত ৩০ দিনের দিকে নিতে ধাপে ধাপে স্টোরেজ/ফাইন্যান্সিং প্ল্যান (TBS/Daily Star–এর স্টক কাঠামো দেখাচ্ছে ডিজেলে কভারেজ তুলনামূলক কম)

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×