somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামাযের নিয়ম নিয়ে ভিন্নতা করণীয়

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমি আপনাদের সাথে ইসলামের অন্যতম খুটি নামায (সালাত)সম্পর্কে কিছু লিখব।আমার এই পোস্টে কোন ভুল পরিদর্শিত হলে অবশ্যই জানাবেন সেই সাথে কেমন লাগছে তাও জানাবেন। মন্তব্য জানালে আরও খুশি হবো।
নামাযের নিয়ম নিয়ে ভিন্নতা করণীয়:
আমরা নামায পড়ার সময় অনেক ভিন্নতা দেখতে পাই। আর আমাদের দেশের দুই পক্ষই প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে তাদের অনুসরণ করা নিয়মটিই ঠিক। আমরা যারা সত্যানুসন্ধানী তারা বুঝতে পারি না।আমাদের কোনটা অনুসরণ করা উচিত।তাই এ্ সমস্যা থেকে সমাধানের উপায় নিয়েই আমার এই পোস্ট।
প্রথমত বলি যে, আপনাকে নিরপেক্ষ হতে হবে। তার অর্থ হচ্ছে যে আপনাকে হতে হবে শুধুমাত্র সত্যের অনুসারী। আপনি শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে যা হবে তা অনুসরণ করবেন। তা আপনার আশেপাশের যে কোন মতবাদের পক্ষে বা বিপক্ষে হোক তাতে আপনার কোন যায় আসে না। আসলে আমরা যে দুটি নিয়মের দেখা পাই তার মধ্যে যে গুলো পাওয়া যায় তাতে আমার পড়াশুনা করার পর যা মনে হয়েছে তা হলো:
• এসব নিয়মের মধ্যে কোনটার এক পক্ষেরটা ঠিক আবার কোন পক্ষের টা ঠিক নয়।
• আবার কোনটির দুটি পদ্ধতিই ঠিক।
• আবার কোনটি রয়েছে তা হলো কোন পদ্ধতিই ঠিক নয়।
তাহলে বলতে পারেন এতদিন আমাদের বাপদাদারা কি ভুল করেছেন।আর আমরা এতসব লোক ভুল করছি। আসলে তা নয়। আসলে কেউ আমরা না জেনে কেউবা সমাজের বিরোধী হবে বলে তা আমরা অনুসরণ করতে পারছি না। বা আমরা পালন করছি না। আবার অনেকে আমরা জানার চেষ্টাও করছি না। তাছাড়া কুরআন ও হাদীস সবই আরবীতে হওয়ায় ও আমরা এগুলোর অনুবাদ পেতে শুরু করেছি গত শতাব্দীর শেষ থেকে তাই আমাদের অনেক কিছুই জানা হয় নি।
তাই আমাদের করণীয় হলো নিম্নোক্ত পথ অনুসরণ করা :
01. প্রথমত আপনাকে নামায আদায় করার পদ্ধতি জানার জন্য আপনাকে কুরআন থেকে জানার চেষ্টা করতে হবে।কুরআনই ইসলামের প্রথম উত্স। তাই আপনাকে কুরআনে উল্লিখিত সালাত (নামায )বিষয়ক আয়াত গুলো পড়ে এর নিয়ম জানতে হবে।দেখবেন এমন অনেক নিয়ম আছে যা আপনার জানা ছিলো না।বা আমাদের আশেপাশের করণীয় কাজের ব্যতিক্রম। কুরআনের নামায বিষয়ক আয়াতগুলো বের করা কিছুটা কষ্টকর। তবে যদি zekr software টা ইনস্টল থাকে তাহলে বেশ সুবিধা হবে।
জিকির সফটওয়্যার
তবে আমার কাছে উল্লেখ করে লেখা আছে ।পরবর্তী পোস্টে আমি এগুলো উল্লেখ করবো। বিষয় ভিত্তিক আয়াত গুলো নিয়ে আমার একটা পোস্ট থাকবে।
02. দ্বিতীয়ত এর পর আপনাকে আসতে হবে হাদীসের দিকে। হাদীস পড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা সতর্ক হতে হবে তবে তা কঠিন না। প্রথমেই আপনাকে সহীহ হাদীস গ্রন্থ গুলো পড়তে হবে আপনি বিষয় ভিত্তিক হাদীসগুলো পড়ার চেষ্টা করবেন।
03. সহীহ হাদীসের মধ্যে বুখারী ও মুসলিম অন্যতম। এগুলোতে সবগুলোই সহীহ হাদীস রয়েছে। এগুলো পড়ে আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। অন্যেরা কি হলো তা দেখার বিষয় নয়।
04. এর পরের হাদীস গ্রন্থগুলো হচ্ছে সুনান আবু দাউদ,সুনান তিরমিযী, সুনান ইবনে মাজাহ, সুনান নাসায়ী ।
05. এছাড়া যেগুলো হাদীসগ্রন্থ আছে সেগুলো হলো ইবনে খুজায়মা,মুসনাদে আহমাদ, দারেমী, দারে কুতনী, সহীহ ইবনে হিব্বান, বাযযার, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়েবা, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,
06. এছাড়া বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থ আছে যেগুলো তে আপনি বিষয়ভিত্তিক হাদীস গ্রন্থ আছে যেগুলো পড়ে আপনি বেশী উপকৃত হবেন তা হলো রিয়াদুস সালেহীন, মিশকাতুল মাসাবীহ, বুলুগুল মারাম, মুয়াত্তা, শামায়েলে তিরমিযী। এসব গ্রন্থ আপনাকে বেশ সুবিধা দিবে।
07. তাই এবার আসুন এগুলো হতে কিভাবে উপকৃত হবেন। এগুলো আপনাকে প্রথম থেকে শুরু করে শেষ অপশনে যেতে হবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ভালো হবে।
08. হাদীস গ্রন্থগুলো পড়ার সময় যেসব হাদীস দুর্বল, সনদ শক্তিশালী নয়, রাবী যঈফ বা জাল, বানোয়াট এসব কথা লিখা থাকলে এসব হাদীস আপনাকে আমল করা বর্জন করতে হবে।
09. যেসব হাদীস এসব কথা লিখা হয়েছে তার মানে এগুলো শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। প্রশ্ন হতে পারে যে তাহলে লেখক তা লিখে দিয়েছেন কেন? এ প্রশ্নের উত্তর হলো যে, এসব হাদীস সম্পর্কে সচেতন করতে আর অন্য হাদীস থেকে তুলনা করতে তিনি উল্লেখ করেছেন।
10. মনে রাখবেন যিনি এই হাদীস এর দুর্বলতা উল্লেখ করছেন তার অর্থ হলো যে, অন্য কোন মুহাদ্দিস ঐ হাদীসকে সঠিক বললেও লেখকের কথাই গ্রহণযোগ্য কারণ তার উল্লেখিত হাদীস সম্পর্কে তিনিই বেশী অবগত।
11. তবে তার উল্লেখিত হাদীসকে অন্য কোন মুহাদ্দিস সেটাকে কম দুর্বল বা বেশী দুর্বল বলতে পারেন এগুলো কোন বিরোধিতা নয় বরং এগুলো বিচার বিশ্লেষণের বিভিন্ন পদক্ষেপ্। এগুলো নিয়ে আমি আমার পরবর্তী ব্লগে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
12. সহীহ হাদীসের বিপরীতে দুর্বল, জাল ও সন্দেহযুক্ত হাদীস গ্রহণ করা যাবে না।
13. সবচেয়ে ভালো হয় বুখারী ও মুসলিম অনুসরণ করা। এর মধ্যে বুখারী অগ্রগণ্য।
14. বুখারী ও মুসলিমের বিপরীতে অন্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখিত হাদীস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
15. হাদীসের টীকা পড়া থেকে বিরত থাকা কারণ টীকাতে অনুবাদকের নিজস্ব কথা উল্লেখ থাকে যা কখনও কখনও সঠিক নয় আবার কখনও তিনি নিজের মতকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করেন। আবার কিছু কিছু অনুবাদক এর অনুবাদ করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
16. হাদীস পড়েই আপনাকে ফিকহ বা এর নীতিমালা বের করতে হবে। এর জন্য ফিকহ-এর বই গুলো পড়ে সময় ব্যয় ও এর খরচ থেকে বেচে যাবেন।
17. হাদীসের বিভিন্ন অনুবাদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কখনও কোন অনুবাদের বিরোধিতা দেখতে পেলে সেটি যাচাই করে দেখতে হবে আরবী অভিধান হতে।
18. সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি আরবী পড়তে বা বুঝতে পারেন। তবে এর বিকল্প হিসেবে আপনি হাদীসের ইংরেজী অনুবাদ পড়তে পারেন এতে আপনার তথ্য পাবার সঠিকতার শতাংশ বাড়বে।নিচে আমি কতিপয় হাদীস ডাউনলোডের লিংক দিচ্ছি। আপনাদের সুবিধা হবে
বাংলা বুখারী:
বাংলা বুখারী
বাংলা আবু দাউদ
মুসলিম শরীফ
রিয়াদুস সালেহীন
অথবা এক সাথে সব বইগুলো পেতে চাইলে
19. আপনি ইসলামিক টিভির প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখতে পারেন তাতে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন আর উত্তর পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি উল্লেখ করবেন তারা যেন কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে উদ্ধৃতি দেন। আর আপনি তাদের দেয়া তথ্য যাচাই করবেন।
সর্বোপরি আপনার চেষ্টাই আপনাকে পৌছে দিতে পারে সঠিক পথে ।আর যে সব বিষয়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তার জন্য ইস্তিখারা করতে পারেন। এতে আপনি সঠিক পথ পাবেন ইনশাআল্লাহ।
আর আপনি দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ দেখান।
এসব মূলনীতি শুধূমাত্র নামাযের ক্ষেত্রে নয়, সব আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রেই একই।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
কপি পেস্ট
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×