somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনের শেষে-১৬

১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪১৮। বছরের প্রথম দিন। বিশাখা নামক নক্ষত্রটিতে পূর্নিমা হওয়ার পর যে মাস শুরু হয় তার নাম বৈশাখ। এর উদ্যোক্তা ছিলেন সম্রাট আকবর। বাঙালির ঐতিহ্যের দিন। দিনটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। এদিনের মঙ্গল শোভাযাত্রা সবচেয়ে মজার। আমরা একাধিক বর্ষের সম্মুখিন হই। পহেলা বৈশাখ- বাংলাবর্ষ; থার্টি ফাস্ট নাইট-ইংরেজী বর্ষ; পহেলা মহররম-আরবী বর্ষ। আরবী নববর্ষকে ঘটা করে পালন করতে দেখা যায় না। আমি বুঝিনা একটি জাতি কতটি নববর্ষকে সাদর সম্ভাষণ জানাবে। বাংলা বর্ষ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথে জড়িত, ইংরেজী বর্ষ ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেয়া একটি সংস্কৃতি, আর আমরা মুসলিম বলে পালন করি হিজরী নববর্ষ। অবশ্য পূর্বে হিজরী বর্ষকেই বিশ্বের সর্বত্র একযোগে অনুসরণ করা হতো। অত:পর মুসলিম জাতির আধিপত্য বিনাশ হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি বিশেষ জাতির কারণে পুরো বিশ্বে চাপিয়ে দেয়া হয় ইংরেজী নববর্ষ।
পহেলা বৈশাখে আমরা নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করে থাকি। তার মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা। আদিবাসী নৃত্য, লোকনৃত্য, বাউল গীতি, গম্ভীরা। গ্রামীন ঐতিহ্যকে এদিন ফুটিয়ে তোলা হয়। খাওয়া হয় পান্তা ইলিশ। পড়া হয় লুঙ্গি, শাড়ি.গামছা..পাঞ্জাবি। অনেকে মাথায় কৃষকের টুপি পড়েন। শুধু একদিনই বা্ঙ্গালিকে স্বরণ করা হয়। বাঙালি সাজা হয়। এক প্রকার ব্যঙ্গাত্বক হিসেবে দেখা হয় এটাকে। আপনি একদিন পুরো বাঙালি সাজবেন। অর কোন দিন খবর থাকবে না। এদিন অনেকে দেশীয় পণ্যের প্রতি অনেক আকর্ষণ দেখায়। পণ্য কিনেও থাকে। ভালতো। আজকের দিনের আকাঙ্খা যদি পুরো বছর থাকতো। কতই না ভাল হতো। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্ভাবনা নতুন করে দেখা দিতো। আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরী হতো। বিদেশী পন্যের প্রতি অমাদের আগ্রহ কমাতে হবে। নিজ দেশের পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে।
আজকে ক্যাম্পাসে অনেক মজা হল। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। খুব নাচা নাচি হল। ক্যামম্পাস মেতে উঠেছিল। পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিল আমাদের পুরো ক্যাম্পাস। সাজ সাজ রব উঠেছিল আমাদের ক্যাম্পাসে। বিবর্তন মার্কেটিং বিভাগের একটি সংগঠন। বহুজাতিক কোম্পানি রবি’র পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। প্রথমে লোকনৃত্য, বাউল গীতি, আদিবাসী নৃত্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। পরে যা দেখাল মনে হল এটি কি থার্টি ফা্সট নাইট নাকি পহেলা বৈশাখ। ব্যান্ড সঙগীত। পশ্চিমার সংস্কৃতির আদলে ড্যা্ন্স। এগুলো বাঙালিত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে না। আজকে কি উপভোগ করলাম.....পহেলা বৈশাখ নাকি থার্টি ফাস্ট নাইট........পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে এসব কি দেখলাম......এগুলো বাঙালিত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
শাকির আহমাদ
১৪ এপ্রিল ২০১১ইং
সময় রাত: ১০:৩০টা
শের-ই-বাংলা হল

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×