somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাস ও সম্পর্ক

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বাসের সুতো কি এতই সূক্ষ্ম! আমারতো মনে হয় বিশ্বাস কে সুতোর সাথে তুলনা করা উচিৎ নয়। বিশ্বাসের তো তুলনা হওয়া উচিৎ কোন পাহাড়ের সাথে কিংবা সীসা ঢালা কোন প্রাচীরের সাথে, যা চাঁদের দেশ হতেও দেখা যায় স্পষ্ট, লক্ষ লক্ষ বছর অবধি থাকবে অক্ষয়। তা হলে কেন বিশ্বাস বলতেই প্রথমেই আমার মনে সুতোর চিন্তাটা এলো? সম্পর্কে মাঝে একটা বন্ধন থাকে বলে? সেটাকে বাঁধতেই কি বিশ্বাসের প্রয়োজন নয়? সেজন্যই কি সুতার প্রসঙ্গটা এসে গেলো?

হতে পারে চারিদিকে অবিশ্বাসের হুড়োহুড়ি দেখতে দেখতে আমি এতটাই মুষড়ে পড়েছি যে বিশ্বাসের অস্তিত্বকেই অবাস্তব মনে হয়। কিন্তু অবিশ্বাসকেও যদি স্পষ্ট দেখা যেতো, শত শত বছর ধরে লুকিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরির মতো নিশ্চুপ লুকিয়ে না থেকে সরাসরি উদগীরন করতো। আমি তাহলে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস করে সুখী হতাম। আস্থাবানদের খুঁজে খুঁজে মনের কুঠুরিতে উঠিয়ে রাখতাম। ওদের বাড়িয়ে দেয়া হাত দেখে ঝাঁপিয়ে পড়তাম কোন পাহাড় শৃঙ্গ থেকে হাত ওরা সরিয়ে নেবে না এই বিশ্বাসে।

সম্পর্কগুলো কি শুধুই মেকি হয়? সম্পর্কে বললে সবাই শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের কথাই বুঝে, কিন্তু অগ্রজ-অনুজ, বন্ধুত্ব, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে কতো সম্পর্কইতো আছে। সেগুলো কি বিশ্বাস ছাড়া রচিত হতে পারে? হুম আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সম্পর্কই তৈরি হয় বিশ্বাস ছাড়া, সেগুলো মেকি থাকে আর থাকে সন্দেহ ও ঘৃণায় ভরপুর। সম্পর্কগুলো টিকিয়ে রাখলেই টেকে, যতক্ষণ না সম্পর্কের নৌকাটি চরম আদর্শের সাথে কিংবা স্বার্থের সাথে ঠোকর লাগে ততোক্ষণ সে টিকে থাকে।

চারিদিকে আমি এ অবিশ্বাসেরই সম্পর্কের হাতছানি দেখছি আজকাল। মেকী সব সম্পর্ক, কোন বিশ্বাস নেই কারো মাঝে। তাই সম্পর্কের সুতোগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় যখন তখন। সবচেয়ে বিরক্তিকর ও ভয়ংকর যেটা সেটা হল ওই হাসিগুলো যেগুলোর আড়ালে অবিশ্বাসের তীক্ষ্ণ ছোরা উৎ পেতে থাকে। অতি নমনীয়-কমনীয়তার আড়ালে রচে যাওয়া কূটকৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত জেনেও আমি পারি না তাঁদের টুটি চেপে ধরতে। কারণ হাসির বিনিময়ে কাঁদা ছোড়ার কায়দাটা শেখা হয়নি এখনও। আমার যে রুচি ও চিন্তাধারা তার সাথে এই হীনতা কিছুতেই যায় না। তাই অক্ষত থেকেই ক্ষতির কুটকৌশলকারীদের হাসিমুখের বিনিময়ে ঘৃনাভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ আমার দ্বারা হয় না। বারংবার ক্ষতবিক্ষত হয়েও হাসির বিনিময়ে বছরের পর বছর হাসি বিলিয়েছি আমি। কোনদিন মুখ ফুটে বলিনি যে কারণে আমার প্রতি তোমার এই ঘৃনাভরা বিদ্বেষ তা সর্বৈব মিথ্যে। কেন বলিনি? বলিনি এজন্য যে If someone has created even a little trust in you, you should at least sit face to face with him to discuss about that you have heard from third party which makes your trust destroyed. This might be the most minimum honor towards the trust he made in you. “যদি কেউ তোমার হৃদয়ে তিলপরিমান বিশ্বাসও তৈরি করে থাকে তাহলে তোমার উচিৎ নিদেন পক্ষে তার সামনা সামনি বসে তৃতীয়পক্ষ থেকে শোনা কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করা। এটা হল সে যে বিশ্বাস তোমার মধ্যে তৈরি করেছে তার প্রতি নুন্যতম সম্মান প্রদর্শন” যারা এ কাজটুকু করার সৎ সাহস রাখে না তাদের ব্যক্তিত্ব নিতান্তই নর্দমায় নিক্ষেপ যোগ্য তুচ্ছ বস্তু। তাদের কাছে বিশ্বস্ত হওয়া বা না হওয়ায় কিচ্ছু যায় আসে না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×