রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেক মাতামাতি হচ্ছে। প্রচুর আবেগ আর কল্পনার মিশেলে এই ইস্যুটাকে মানুষ গুলিয়ে ফেলছে। আবেগের সাথে ধর্ম মিশিয়ে মানুষ যুদ্ধ করার স্বপ্নও দেখছে।বিশ্বের নানান দেশ দুর থেকে বসে বসে বাংলাদেশের এইসব আবেগি মানুষদেরকে উস্কে দিচ্ছে। এই বিষয়ে কিছু কথা বলার আছে..
প্রথমত, মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে যা হচ্ছে তা অবশ্যই অপরাধ। ভয়ংকর মানবতা বিরোধী অপরাধ। মানুষ কতটা নির্যাতিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে অথবা কতটা আতংকিত হলে নিজ বাড়িঘর, জমি ভিটে ফেলে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে চিন্তা করে। আর মায়ানমারের সরকার এর জন্য সম্পুর্নভাবে দায়ি।
দ্বিতীয়ত, এই নির্যাতন বা হত্যাযজ্ঞকে আপনি কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিতে দেখলে হবেনা। প্রত্যেকটা হত্যা, নির্যাতনই নিন্দনীয়। সেটা মুসলিম হোক, হিন্দু হোক অথবা খ্রিষ্টান। আপনাকে চিন্তা করতে হবে এখানে একটা দেশের একটা রাজ্যের কিছু সংখ্যক মানুষ তার দেশের সরকারের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে।
তৃতীয়ত, এবার আপনাকে চিন্তা করতে হবে সেই দেশের সরকার কি কারনে তার দেশের একটি অঞ্চলের নাগরিকদের এভাবে নির্যাতন করছে। মায়ানমার সরকার বলছে তারা একটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে দমন করে ওই রাজ্যে নিরাপত্তা বিধান করছে। যদি এই কথাটি সত্য হয় তাহলে এই ইস্যুতে আমাদের তো এত মাথা গরম হবার কথা না।
ওকে ধরে নিলাম মায়ানমার সরকার মিথ্যে বলছে। তারা গনহারে আসলে কেবল মুসলিম হত্যা করছে। যদি তাও হয় তাহলেও আমাদের এত মাথা গরমের কি আছে? একটি দেশের সরকার তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিবে, খাদ্য দিবে,বাসস্থান দিবে। এটা ওই দেশের ওই সরকারের দায়িত্ব। আমি আগেই বলেছি ব্যাপারটাকে ধর্মীয়ভাবে দেখার কিছু নাই। এটা ওই দেশের অভ্যান্তরীন সমস্যা। আমার কি?
তবে হ্যা, ব্যাপারটা এখন আমার হয়ে গেছে। কারন এই মানুষগুলো এখন আমার দেশের দিকেই ছুটছে। ওরা ওদের দেশে টিকতে না পেরে, ওদের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের নির্যাতনে ওরা এখন আমার দেশেই আশ্রয় নিয়েছে। যার কারনে ব্যাপারটা এখন আমার সমস্যা।
এই লক্ষ লক্ষ জনগন এই দেশে কিভাবে থাকবে,কিভাবে চলবে সেটা নিয়ে ভাবার,প্লান করার এখনই সময়। পরে নয়তো পস্তাতে হবে। রোহিঙ্গা আসছে আসছে করে খুশিতে আটখানা হবার কিছু নেই, অথবা ওরা মারা যাচ্ছে দেখে কস্টে বুক ফুলাবারও কিছু নেই। আবেগ দিয়ে চিন্তা করে দেশ চলেনা। আবেগে আবার কাউকে বেহেস্তেও নেয়না। সামনে এই রোহিঙ্গারা কতটা ভয়াবহ বিপদ আনতে পারে তা আগে থেকে অনুমান করা উচিত সরকারের।
একটা কথা মনে রাখা উচিত, হিটলার ইহুদিদের এমনি এমনি মারেনি। যে গোষ্ঠী নিজের দেশে ভালোভাবে থাকতে পারেনা, যে গোষ্ঠীকে সেই দেশের সরকার সম্পদ মনে না করে উল্টা দেশ থেকে বিদায় করতে চাইছে বুঝতে হবে তাদের মধ্যে কোন না কোন সমস্যা আছেই। বিশ্বের অনেক অনেক দেশেই মুসলমানরা হিন্দু শাসিত, বুদ্ধ, খ্রিষ্টান শাসিত সরকারের অধীনে মিলে মিশে সুন্দরভাবে আছে। তাহলে রোহিঙ্গারা কেন পারছে না?? এই প্রশ্নের বাস্তবিক উত্তর খুজে বের করতে হবে,কোন আবেগি উত্তর নয়।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



